নোয়াখালীর রেস্তোরাঁয় অবাধে বিক্রি হচ্ছে নিম্নমানের খাবার

আকাশ মো. জসিম, নোয়াখালী: নোয়াখালীর অধিকাংশ হোটেল-রেস্তোরাঁয় দেদার বিক্রি হচ্ছে ভেজাল, পচা-বাসি ও নিম্নমানের খাবার। ক্রেতারাও এসব খাবার খেয়ে পেটের পীড়াসহ বিভিন্ন রোগে ভুগছেন।
জানা গেছে, জেলায় ছোট-বড় হাটবাজারসহ বিভিন্ন জায়গায় শত শত হোটেল-রেস্তোরাঁ থাকলেও তার সংখ্যা সংরক্ষিত নেই জেলা প্রশাসন কার্যালয়ে। এর মধ্যে বেশিরভাগ হোটেল-রেস্তোরাঁর পরিবেশ খুবই অস্বাস্থ্যকর। নোংরা পরিবেশে এসব হোটেল-রেস্তোরাঁর ভেজাল ও পচা-বাসি খাবার বিক্রি হয়ে থাকে। রান্নাঘরের ভেতরে স্যাঁতসেঁতে, ময়লা, দুর্গন্ধপূর্ণ স্থানে রান্না করা খাবার থাকে খোলা। ওই খাবারের মধ্যে অনেক সময় পোকা-মাকড়, মশা-মাছি কিংবা এক খাবারের মধ্যে অন্য খাবারের অংশ গিয়ে পড়ে।
এসব হোটেল-রেস্তোরাঁয় থালা-বাটি ও গ্লাসগুলো ধোয়া হয় অপরিষ্কার পানিতে। ধোয়ার পরও থালা-বাটি ও গ্লাসে তেল জড়ানো থাকে। এমন পরিবেশে থাকা খাবার মানুষকে পরিবেশন করা হয়। এমন অনেক হোটেল-রেস্তোরাঁ আছে যেখানে খাবারের পরে খরিদ্দারদের হাত ধোয়ার মতো ভালো কোনো ব্যবস্থা নেই।
খাবারের পর হাত পরিষ্কারের জন্য কোনো সাবান, তোয়ালে ও টিস্যু থাকে না। ময়লাযুক্ত কাগজ ক্রেতাদের হাতে ধরিয়ে দেওয়া হয়। অথচ প্রতিদিনই তারা সকালের নাস্তা থেকে শুরু করে রাত অবধি সব ধরনের খাবার পরিবেশন করে থাকে। হাতেগোনা কয়েকটি হোটেল-রেস্তোরাঁ আছে যেখানে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নভাবে খাবার পরিবেশিত হচ্ছে।
জেলা প্রশাসনের এ শাখার দায়িত্বশীল করণিক আশীষ চন্দ্র জানান, সিভিল সার্জন কার্যালয় সবই জানে। তবে সিভিল সার্জন কার্যালয়ের পরিসংখ্যান সহকারী পরিচয়ে এক মহিলা জানান, জেলা প্রশাসন থেকে এসব তথ্য পাবেন। আমাদের কার্যালয় থেকে শুধু হোটেল-রেস্তোরাঁর কোনো কর্মচারীর মেডিক্যাল রিপোর্ট চাইলে তা দেওয়া হয়। এর বাইরে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনাকালে জেলা প্রশাসন চাইলে আমাদের একজন মেডিক্যাল অফিসার থাকেন ওই টিমে।
হোটেল, রেস্তোরাঁর পচা-বাসি খাবার খাওয়া বন্ধ করলে দেশে অনেক রোগী কমে যেত বলে মনে করেন চিকিৎসক সোহানা শিকদার। জেলার বিশিষ্টজনরা জানান, ভেজালবিরোধী অভিযানে নোংরা, পচা-বাসি ও ভেজাল খাদ্যদ্রব্য বিক্রেতাদের কয়েক হাজার টাকা জরিমানা করাই যথেষ্ট নয়।
সিভিল সার্জন সুভাষ চন্দ্র জানান, বর্তমানে মানুষের জটিল ও কঠিন রোগের একমাত্র কারণ হোটেল-রেস্তোরাঁর পচা-বাসি ও ভেজাল খাবার। একমাত্র জনসচেতনতাই এগুলো রুখতে পারে। জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মাহবুবুল আলম তালুকদার জানান, অনেক ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালিত হয়েছে। সংশ্লিষ্টদের জরিমানাও করা হয়েছে। ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানের পর ক’দিন হোটেল-রেস্তোরাঁর মালিকরা একটু সতর্ক থাকেন, পরে আগের মতো হয়ে যান।