সুশিক্ষা

নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়

মাত্র সাড়ে তিন বছরে জ্ঞান, গবেষণা ও অবকাঠামোগত উন্নয়নের মাইলফলক ছুঁয়েছে নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (নোবিপ্রবি)। শিক্ষক-শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের  কাছে জনপ্রিয় ও আস্থার প্রতীকে পরিণত হয়ে এ উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানটি।
এ বিশ্ববিদ্যালয়ের জ্ঞান ও গবেষণার সুনাম দেশ ছাড়িয়ে বিদেশেও ছড়িয়ে পড়েছে। নোবিপ্রবি এখন বিশ্বের অনেক উন্নত বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো ‘ইমার্জিং বিশ্ববিদ্যালয়’-এর পরিচিতি লাভ করেছে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক ড. এম অহিদুজ্জামান ২০১৫ সালের ২ জুন এ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ পান। ওই বছরের ৭ জুন কর্মস্থলে যোগ দেন তিনি। তার কর্মদক্ষতায় অল্প সময়ে নামকরা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়েছে নোবিপ্রবি।
নোবিপ্রবির একাডেমিক ও ভৌত অবকাঠামোগত উন্নয়ন হয়েছে তার ছোঁয়ায়। তিনি এরই মধ্যে বাস্তবায়ন করেছেন অনেক প্রকল্প। বাস্তবায়নের পথে কয়েকটি প্রকল্প।
নোবিপ্রবির বাস্তবায়িত প্রকল্প
একাডেমিক গতি ত্বরান্বিত করার অংশ হিসেবে এখানে নতুন চারটি অনুষদ ও ১৪টি বিভাগ খোলা হয়েছে। ইনস্টিটিউট অব ইনফরমেশন সায়েন্সেস ও ইনস্টিটিউট অব ইনফরমেশন টেকনোলজি নামে দুটি নতুন ইনস্টিটিউট খোলা হয়েছে। বাংলাদেশের পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্যে নোবিপ্রবিতেই প্রথম বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের একটি দৃষ্টিনন্দন ও সুবিশাল ম্যুরাল স্থাপন করা হয়েছে। বর্তমানে নোবিপ্রবিতে আইসিটি মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে বিশ্ববিদ্যালয়ে একটি মোবাইল ফোন অ্যাপ অ্যান্ড গেম ডেভেলপমেন্ট ল্যাব ও একটি নেটওয়ার্কিং ল্যাব স্থাপন করা হয়েছে।
৫৫০ শিক্ষার্থীর আবাসনের জন্য জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হল নির্মাণ ও ৬৫০ নারী শিক্ষার্থীর আবাসনের জন্য বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব হল নির্মাণ করা হয়েছে। এছাড়া মুক্তিযোদ্ধা ও সাবেক স্পিকার আবদুল মালেক উকিল হল নির্মাণসহ ভাষাশহীদ আবদুস সালাম হল ও হজরত বিবি খাদিজা হলের সংস্কার করা হয়েছে।
ভাষাশহীদ আবদুস সালাম ও হজরত বিবি খাদিজা হলের অভ্যন্তরে ক্যান্টিন নির্মাণ করা হয়েছে। একাডেমিক ভবন-১ ও দ্বিতীয় একাডেমিক ভবনের পঞ্চম থেকে ১০ম তলা নির্মাণ করা হয়েছে। ভবন দুটিকে আধুনিক দৃষ্টিনন্দন ভবনে রূপান্তর করা হয়েছে। চারতলাবিশিষ্ট আধুনিক গ্রন্থাগার গড়ে তোলা হয়েছে। এখানে অতিথিদের জন্য তিনতলাবিশিষ্ট ভিআইপি গেস্ট হাউজ নির্মিত হয়েছে। এছাড়া পাঁচতলা অডিটরিয়াম কাম মাল্টিপারপাস ভবন, প্রশাসনিক ভবনের ঊর্ধ্বমুখী সম্প্রসারণ (চতুর্থ ও পঞ্চমতলা নির্মাণ), গোলচত্বরের চারপাশ আরসিসি ঢালাইকৃত সড়ক ও বিশ্ববিদ্যালয়ের অভ্যন্তরীণ রাস্তা সংস্কার করা হয়েছে। বাস্তবায়িত প্রকল্পগুলোর মধ্যে আরও রয়েছেÑবৈদ্যুতিক লাইনসহ এক হাজার কেবিএ বৈদ্যুতিক সাব-স্টেশন, বিশুদ্ধ পানি সরবরাহের জন্য ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্লান্ট ও রিভার্স অসমোসিস প্লান্ট স্থাপন।
৩০০ লাইনবিশিষ্ট বিটিসিএলের টেলিফোন এক্সচেঞ্জ ও ৫০০ লাইন ক্ষমতাবিশিষ্ট পিএবিএক্স এক্সচেঞ্জ স্থাপন করা হয়েছে। শিক্ষার্থীদের যাতায়াতের জন্য নতুন সাতটি বাস, শিক্ষক-কর্মকর্তাদের জন্য শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত তিনটি সিভিলিয়ান বাস ও চারটি মাইক্রোবাসের ব্যবস্থা করা হয়েছে। শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের জন্য অত্যাধুনিক সুবিধা সংবলিত অ্যাম্বুলেন্স কেনা হয়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয় অভ্যন্তরে পুকুরের সৌন্দর্য বর্ধনে চারপাশে বৃক্ষরোপণ, দৃষ্টিনন্দন ওয়াকওয়ে নির্মাণ ও চারপাশ বর্ণিল আলোকসজ্জায় সজ্জিত করা হয়েছে।
বাস্তবায়নাধীন প্রকল্প
বাংলাদেশের সর্ববৃহৎ তৃতীয় একাডেমিক ভবন নির্মাণের কাজ চলছে। ১০ তলাবিশিষ্ট শিক্ষক-কর্মকর্তা টাওয়ার, হাউজটিউটর, স্টাফ কোয়ার্টার ও প্রভোস্ট টাওয়ার নির্মাণাধীন। তিনতলা মেডিক্যাল সেন্টার ও কেন্দ্রীয় মসজিদ নির্মাণাধীন।
হিন্দু, বৌদ্ধ ও খ্রিষ্টান ধর্মাবলম্বীদের জন্য দুই কোটি টাকা ব্যয়ে উপাসনালয় নির্মাণের কাজ চলছে। বিএনসিসি ও রোভার স্কাউট ভবন সম্প্রতি উদ্বোধন করা হয়েছে। তবে এর কাজ চলমান রয়েছে। বিশেষভাবে উল্লেখ্য, দরিদ্র শিক্ষার্থীদের মাঝে ‘বঙ্গবন্ধু শিক্ষা সহায়ক বৃত্তি’ চালু ও বিশ্ববিদ্যালয় কর্মচারীদের মাঝে ৩০ লাখ টাকার ‘বঙ্গবন্ধু সহায়তা ফান্ড’ ঘোষণা করা হয়েছে। এছাড়া বছরব্যাপী বঙ্গবন্ধুর জন্ম শতবার্ষিকী উদ্যাপনেরও ঘোষণা হয়েছে।
ভবিষ্যৎ প্রকল্প
উপকূলীয় অঞ্চলের অর্থনৈতিক ও পারিপার্শ্বিক অবস্থা বিবেচনায় বিশ্ববিদ্যালয়ের অদূরে উপকূলের ৭৭৮ একর জমির ওপর ‘দেশরতœ শেখ হাসিনা সমুদ্রবিজ্ঞান ও সমুদ্রসম্পদ ব্যবস্থাপনা ইনস্টিটিউট’ বাস্তবায়নের লক্ষ্যে কাজ চলছে। এখানে ডেলটা ফরমেশন, সমুদ্রবিজ্ঞান, ইকো ট্যুরিজম, ম্যানগ্রোভ বনসহ বিভিন্ন বিষয়ে আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন গবেষণা হবে। এছাড়া আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স, স্পেস রিসার্চ, মেটারিয়াল সায়েন্স, রোবটিকস, ন্যানো টেকনোলজি বিষয়ে বিশ্বমানের গবেষণার ক্ষেত্র তৈরি হবে। আইসিটি মন্ত্রণালয়ের অর্থায়নে বিশ্ববিদ্যালয়ে তৈরি হবে বিজনেস ইনকিউবেটর-সমৃদ্ধ পূর্ণাঙ্গ হাইটেক পার্ক।

আকাশ মো. জসিম, নোয়াখালী

 

সর্বশেষ..