নৌকা আছে, মাঝি নেই রশি টেনে পারাপার

শেয়ার বিজ প্রতিনিধি, নাটোর: নাটোরের গুরুদাসপুরে নন্দকুঁজা নদীতে কোনো সেতু নেই। পারাপারের জন্য রয়েছে নির্ধারিত খেয়া নৌকা। কিন্তু মাঝিও নেই। নৌকা এপার-ওপার আনা-নেওয়ার জন্য টানিয়ে দেওয়া হয়েছে নাইলনের রশি। যাত্রীরা সেই রশি টেনে নদী পার হন। প্রায় সাত বছর ধরে এমন দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন ১০ গ্রামের মানুষ।
নন্দকুঁজা নদীর বিয়াঘাট ইউনিয়নের বিয়াঘাট হাটসংলগ্ন পয়েন্টে রশি টেনে খেয়া নৌকা পারাপার হচ্ছে। অথচ যাত্রী পারাপারের জন্য বিয়াঘাট ইউনিয়ন পরিষদ থেকে ১২ হাজার টাকা বছর চুক্তিতে ইজারা নেওয়া হয়েছে। মো. আসাদুল ইসলাম নামে এক ব্যক্তি খেয়াঘাটটি ইজারা নিয়েছেন। সরেজমিনে দেখা গেছে, স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীসহ নানা শ্রেণি-পেশার মানুষ রশি টেনে খেয়া নৌকায় নদী পার হচ্ছেন। নদীটির উত্তর পাশে রয়েছে বাজার, মাধ্যমিক ও কারিগরি স্কুল অ্যান্ড কলেজসহ ঘনবসতিপূর্ণ ছয়টি গ্রাম। দক্ষিণ পাশে রয়েছে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, কারিগরি স্কুল ও মোল্লাবাজার নামে ছোট বাজার। তাছাড়া উপজেলা সদর এবং দেশের অভ্যন্তরীণ জেলা সদরে যাতায়াত করতে খেয়া নৌকাটিই একমাত্র ভরসা। নদীটির উত্তরপাড়ের বাসিন্দা কলেজ শিক্ষক নাসরিন সুলতানা জানালেন, মানুষের দুর্ভোগ লাঘবে এখানে একটি সেতু নির্মাণের দাবি জানিয়ে স্থানীয় সাংসদসহ সংশ্লিষ্ট দফতরে অনেক আবেদন করা হয়েছে। কিন্তু কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে না। সেতু নির্মাণ না হওয়ায় প্রতিদিন ঝুঁকি নিয় পার হতে হচ্ছে ১০ গ্রামের মানুষকে। সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে রয়েছে স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীরা।
খেয়াঘাটের মাঝি আসাদুল ইসলাম বলেন, নদীটির উভয় পাশে পাকা সড়ক রয়েছে। জরুরি প্রয়োজনে ওই সড়ক ধরেই চলাচল করে থাকেন। কেবল ছাত্র-ছাত্রী আর স্থানীয়রা নৌকার ওপর নির্ভরশীল থাকে। আগের মতো গ্রামের মানুষ টাকা-ফসল দেয় না। ইজারা ১২ হাজার টাকা ওঠানোই কঠিন হয়ে পড়ে। লোক রেখে খেয়া নৌকা পরিচালনা করা সাধ্যের মধ্যে পড়ে না। বাধ্য হয়েই রশি টেনে নৌকা পারাপার করতে হচ্ছে। বিয়াঘাট ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. মোজাম্মেল হোসেন বলেন, খেয়াঘাটের ইজাদারের বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ দীর্ঘ দিনের। মৌখিকভাবে সতর্ক করেও কাজ হচ্ছে না।