পণ্যমূল্য যৌক্তিক রাখতে পদক্ষেপ নেওয়া হোক

পরিবহন খাতের নৈরাজ্য বন্ধের দাবি, নিরাপদ সড়কের দাবিতে এক সপ্তাহের বেশি সময় ধরে ছাত্র আন্দোলন চলছে। বাসের চাপায় দুজন সহপাঠীর মৃত্যুকে কেন্দ্র করে স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীদের এই আন্দোলন দেশব্যাপী ছড়িয়ে পড়ে। এ জন্য অঘোষিত ধর্মঘটের মাধ্যমে গণপরিবহন বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। বিভিন্ন জেলা থেকে ঢাকা বা ঢাকা থেকে জেলা শহরে কোনো গণপরিবহন চলাচল করছে না। এ অজুহাতে বাজারে বিভিন্ন পণ্যের মূল্য বৃদ্ধি ঘটেছে। ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, ঢাকার বাইরে থেকে পণ্য পরিবহনে সমস্যা দেখা দিয়েছে। তাই বিভিন্ন পণ্য, বিশেষ করে কাঁচা শাকসবজির দাম বেড়েছে। বাজারে এসব পণ্যের সরবরাহ কম বলেই মূল্য বৃদ্ধি ঘটেছে বলে তাদের দাবি। যদিও বাস্তবে দেখা গেছে, যাত্রীয় পরিবহন বিঘ্নিত হলেও পণ্য পরিবহন স্বাভাবিক। সুতরাং ছাত্র ধর্মঘটের অজুহাতে পণ্যমূল্য বাড়ানো অযৌক্তিক।
গত শনিবার দৈনিক শেয়ার বিজে ‘শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের অজুহাতে ঊর্ধ্বমুখী বাজার’ শীর্ষ প্রতিবেদন প্রকাশ হয়েছে। নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মধ্যে কাঁচামরিচ, বেগুন ও পেঁপে ছাড়া সব সবজির দামই বেড়েছে। কোনো কোনো পণ্যের দাম কয়েকগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। সবজির পাশাপাশি পেঁয়াজের দাম বেড়েছে অস্বাভাবিক হারে। এছাড়া বিভিন্ন প্রকার মাছ যেমনÑকাতল, কাতলা, কার্প, রুই, শিংসহ সব মাছের দামও বেড়েছে। রাজধানীর কয়েকটি কাঁচা বাজার ঘুরে এমন চিত্র দেখা যায়। সব ধরনের পণ্য পরিবহন ব্যবস্থা স্বাভাবিক খাতার পরও রাজধানীল ব্যবসায়ীদের এমন আচরণ কোনভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।
পণ্যমূল্য বৃদ্ধি বাংলাদেশে কোনো অস্বাভাবিক ঘটনা নয়। যখন তখন কারণে-অকারণে পণ্যমূল্য বাড়ে। ব্যবসায়ীরা তাদের স্বার্থে বিভিন্ন অজুহাতে পণ্যমূল্য বৃদ্ধি ঘটিয়ে থাকে। এতে ক্রেতা সাধারণকে বেগতিক অবস্থায় পড়তে হয়। প্রকৃতপক্ষে কার্যকর বাজার পর্যবেক্ষণ না থাকায় অসাধু ব্যবসায়ীরা নানা অজুহাতে পণ্যমূল্য বৃদ্ধি করে থাকে। বাজারে এ অবস্থা চলছে দীর্ঘদিন ধরেই।
চলমান ছাত্রআন্দোলনের কারণে গণপরিবহন বন্ধ থাকলেও পণ্য পরিবহনে তেমন কোনো সমস্যা হচ্ছে না বলে বিভিন্ন মাধ্যমে জানা গেছে। কোনো কোনো জেলা থেকে কাভার্ড ভ্যান না ছাড়লেও ট্রাক চলাচলে কোথাও তেমন বিঘ্ন ঘটছে না। পাইকারি ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, তাদের কাঁচা মালামাল ঢাকায় আসতে তেমন কোনো সমস্যা হচ্ছে না। অথচ খুচরা ব্যবসায়ীরা এ অজুহাতে দাম বাড়িয়ে দিয়েছেন। এ অবস্থা সাধারণ নাগরিকদের জন্য মোটেও সহনীয় নয়।
পরিবহন খাতের নৈরাজ্যের মতো বাজারে পণ্যমূল্য বৃদ্ধির ক্ষেত্রেও এক ধরনের নৈরাজ্য চলে। কখনও পাইকারি বাজারে পণ্য সরবরাহের ঘাটতি, কখনও ডলারের মূল্য বৃদ্ধি, কখনও বিশ্ববাজারে পণ্যের মূল্য বৃদ্ধি ইত্যাদি সব অজুহাতে পণ্যমূল্য বাড়ানো হয়। কিন্তু সরবরাহ বৃদ্ধি বা আন্তর্জাতিক বাজারে মূল্য হ্রাস পেলেও অনেক সময় সেই পণ্যের মূল্য আর কমানো হয় না। তখনও নানা অজুহাতে বর্ধিত মূল্যই বহাল রাখা হয়। এটি কোনো সুষ্ঠু বাজার ব্যবস্থাপনার মধ্যে পড়ে না।
নাগরিক জীবনকে স্বাভাবিক রাখতে বাজারে পণ্যমূল্য যুক্তিসঙ্গত থাকাই বাঞ্ছনীয়। কিন্তু এ বিষয়ে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের অভাব তীব্রভাবে দৃশ্যমান। সরকারের পক্ষ থেকে বাজার ব্যবস্থাপনা ও পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থা জোরদার করে পণ্যমূল্য বৃদ্ধির প্রবণতাকে নিয়ন্ত্রণ করতে হবে। অন্যথায় মূল্যস্ফীতির ওপর এর বিরূপ প্রভাব পড়ার আশঙ্কা থেকে যাবে।