পণ্য পরিবহনে ধর্মঘট স্থগিত

নিজস্ব প্রতিবেদক: জাতীয় সংসদে সদ্য পাস হওয়া ‘সড়ক পরিবহন আইন ২০১৮’ সংশোধনসহ সাত দফা দাবিতে ডাকা পণ্য পরিবহন মালিক-শ্রমিক ঐক্য পরিষদের ধর্মঘট স্থগিত করা হয়েছে। গতকাল সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালের সঙ্গে বৈঠকের পর বাংলাদেশ ট্রাক-কাভার্ড ভ্যান ড্রাইভার্স ইউনিয়নের সভাপতি তালুকদার মোহাম্মদ মনির এ কথা জানান।
তালুকদার মোহাম্মদ মনির সাংবাদিকদের বলেন, ‘বৈঠকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছেন আগামী ৩১ অক্টোবরের মধ্যে দাবিগুলো নিয়ে প্রধানমন্ত্রী, সড়ক পরিবহনমন্ত্রী ও আইনমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনা হবে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর আশ্বাসে আমরা ধর্মঘট স্থগিত করেছি। তাই মঙ্গলবার থেকেই ট্রাক, লরিসহ অন্যান্য পণ্যবাহী যান চলাচল করবে।’
এর আগে গত রোববার থেকে সাত দফা দাবিতে ঢাকা বিভাগের ১৭ জেলায় সব ধরনের পণ্য পরিবহন বন্ধ রয়েছে। এ প্রেক্ষাপটে গতকাল মঙ্গলবার বিকাল ৩টায় পণ্য পরিবহন মালিক-শ্রমিক ঐক্য পরিষদ নেতাদের সঙ্গে বৈঠকে বসেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। বৈঠকে ঐক্য পরিষদের আহ্বায়ক মকবুল আহমদ, সদস্য সচিব মো. তাজুল ইসলামসহ অন্যান্য নেতা উপস্থিত ছিলেন।
এদিকে বৈঠকের শুরুতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী উপস্থিত সাংবাদিকদের বলেন, ‘এটা একটা অনানুষ্ঠানিক মিটিং। এখানে কোনো সিদ্ধান্ত হবে না। আনুষ্ঠানিক মিটিং হবে সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রীর সঙ্গে। এখানে আমি তাদের কথা শুনব। শুনে সড়ক পরিবহনমন্ত্রী ও আইনমন্ত্রীকে তা জানাব।’
পরিবহন মালিক ও শ্রমিকদের দাবিগুলোর মধ্যে সড়ক পরিবহন আইন অনুযায়ী সড়ক দুর্ঘটনায় ৩০২ ধারায় মামলা গ্রহণ না করা, পাঁচ লাখ টাকা জরিমানার বিধান বাতিল ও জামিনযোগ্য ধারায় মামলা করা, সড়ক দুর্ঘটনায় টাঙ্গাইল জেলা ট্রাক মালিক সমিতির সদস্য হাসমত আলীসহ যেসব মালিক-শ্রমিককে গ্রেফতার করা হয়েছে তাদের মুক্তি, সহজ শর্তে ভারী লাইসেন্স দেওয়া এবং এর আগ পর্যন্ত হালকা বা মধ্যম লাইসেন্সের মাধ্যমে গাড়ি চালানোর সুযোগ দেওয়া উল্লেখযোগ্য।
এছাড়া পুলিশি হয়রানি বন্ধ, গাড়ির কাগজপত্র চেকিংয়ের জন্য নির্দিষ্ট স্থান নির্ধারণ, পর্যাপ্ত সুযোগ-সুবিধাসহ গুরুত্বপূর্ণ স্থানে ট্রাক টার্মিনাল বা স্ট্যান্ড নির্মাণ, গাড়ির মডেল বাতিল করলে উপযুক্ত ক্ষতিপূরণের ব্যবস্থা করা, জরিমানা মওকুফ করে গাড়ির কাগজপত্র ও চালকের ড্রাইভিং লাইসেন্স দেওয়া, সারা দেশে গাড়ির ওভারলোডিং বন্ধ করা, জনসাধারণের চলাচলের জন্য ফুটপাত, ওভারব্রিজ, আন্ডারপাস ও জেব্রা ক্রসিং ব্যবহার নিশ্চিত এবং জনসচেতনতার জন্য ব্যাপক প্রচার-প্রচারণার দাবি জানিয়েছেন পরিবহন মালিক-শ্রমিকরা।