পতনমুখী বাজার পুঁজি রক্ষায় হিমশিম খাচ্ছেন বিনিয়োগকারী

মুস্তাফিজুর রহমান নাহিদ: টানা দরপতনে নিজেদের পুঁজি রক্ষায় হিমশিম খাচ্ছেন বিনিয়োগকারীরা। এ ক্ষেত্রে তারা বেছে নিয়েছেন সমন্বয় ও পোর্টফোলিওতে পরিবর্তন। কেউ কেউ বড় লোকসানের ভয়ে কম লোকসানে শেয়ার বিক্রি করে পুঁজি তুলে নিচ্ছেন। তবে এ পরিস্থিতিতে লোকসানে শেয়ার বিক্রি করার বিষয়ে দ্বিমত পোষণ করেন বাজার-সংশ্লিষ্টরা।
বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে আলাপে জানা যায়, পতনমুখী বাজারে পোর্টফোলিওতে পরিবর্তন আনছেন তারা। দুর্বল ও ‘জেড’ ক্যাটেগরি ছেড়ে তারা বের হয়ে আসার চেষ্টা করছেন। এছাড়া মৌলভিত্তির শেয়ারের ক্ষেত্রেও একই নীতি অবলম্বন করছেন তারা। লোকসানের ভয়ে এক কোম্পানির শেয়ার বিক্রি করে কিনছেন অন্য কোম্পানির শেয়ার।
প্রাপ্ত তথ্যমতে, জেড ক্যাটেগরি থেকে বের হয়ে আসার কারণে এসব কোম্পানির দৌরাত্ম্য আগের চেয়ে অনেক কমেছে। পক্ষান্তরে বেড়েছে মৌলভিত্তিসম্পন্ন কোম্পানির শেয়ারের চাহিদা, যার জেরে এ ধরনের কোম্পানির লেনদেনও বেড়েছে। গত দুই মাসে দুর্বল কোম্পানির শেয়ারের লেনদেন প্রায় পাঁচ শতাংশ কমেছে।
সর্বশেষ হিসাব অনুযায়ী, ডিএসইর মোট লেনদেনের প্রায় ৯০ শতাংশ রয়েছে মৌলভিত্তিসম্পন্ন কোম্পানির দখলে, দুই মাস আগে যার পরিমাণ ছিল ৮৫ দশমিক ৪৪ শতাংশ। অর্থাৎ এ সময়ের ব্যবধানে এ ধরনের কোম্পানির লেনদেন বেড়েছে প্রায় পাঁচ শতাংশ।
এদিকে বর্তমানে লেনদেনে ‘বি’ ক্যাটেগরির অবদান হচ্ছে চার দশমিক ৫০ শতাংশ। আর চার দশমিক এক শতাংশ অবদান রয়েছে নতুন বা ‘এন’ ক্যাটেগরির কোম্পানির। বাকি এক দশমিক ১৫ শতাংশ অবদান রয়েছে ‘জেড’ ক্যাটেগরির কোম্পানির।
বিষয়টি নিয়ে আলাপে বাজারসংশ্লিষ্টরা বলেন, পুঁজিবাজারে কিছু বিনিয়োগকারী দ্রুত মুনাফা করে তা ঘরে তুলতে চান। এ কারণে অপেক্ষাকৃত দুর্বল কোম্পানিতে ঝুঁকে পড়েন তারা। কারণ, বাজারে এসব কোম্পানিতে বেশি কারসাজি হয়। কিন্তু যারা ঝুঁকি নিতে চান না, তারা ভালো কোম্পানির সঙ্গে থাকেন। বিশেষ করে বাজারে যখন দুর্বল কোম্পানির শেয়ারদর কমতে থাকে, তখন বিনিয়োগকারীরা তাদের পোর্টফোলিওতে পরিবর্তন আনতে চান। এটা বিনিয়োগকারীদের ভালো সিদ্ধান্ত। পাশাপাশি যারা সমন্বয় করছেন, তারাও ভালো কাজ করছেন। কারণ, পতনের বাজারে সমন্বয় করা জরুরি।
তবে পুঁজি রক্ষার জন্য পোর্টফোলিওতে ঘন ঘন পরিবর্তন ভালো সিদ্ধান্ত নয় বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা। বরং দেখেশুনে ভালো কোম্পানিতে বিনিয়োগ করে ধৈর্য ধারণ করা উত্তম বলে মনে করেন তারা। আর বুদ্ধিমান বিনিয়োগকারীরা সেটাই করেন।
এ প্রসঙ্গে পুঁজিবাজার বিশ্লেষক অধ্যাপক আবু আহমেদ বলেন, ‘বিনিয়োগকারীরা ভালো কোম্পানির সঙ্গে থাকলে তা বাজার ও বিনিয়োগকারী উভয়ের জন্যই ভালো। অধিক লাভের আশায় নামসর্বস্ব কোম্পানিতে বিনিয়োগ না করে তাদের উচিত ভালো কোম্পানিতে দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগ করা; কারণ এখানে খুব বেশি লাভ না হলেও লোকসান হওয়ার শঙ্কা থাকে কম।’
একই বিষয়ে মডার্ন সিকিউরিটিজের এমডি খুজিস্তা নূর-ই-নাহারিন বলেন, বিনিয়োগকারীদের উচিত সব সময়ই ভালো মানের কোম্পানির সঙ্গে থাকা। এতে তারা সব সময়ই অপেক্ষাকৃত নিরাপদে থাকতে পারেন। কিন্তু বিনিয়োগকারীরা গুজবে কান দিয়ে কিংবা অন্যের দেওয়া সংবাদে দ্রুত লাভবান হওয়ার জন্য যে কোনো কোম্পানিতে বিনিয়োগ করেন। তারা লোকসানে এক কোম্পানির শেয়ার বিক্রি করে অন্য কোম্পানির শেয়ার কেনেন। কিন্তু বেশিরভাগ সময়ই এর ফল উল্টো হয়। একসময় এসব শেয়ার নিয়ে তাদের পস্তাতে হয়।