পতনের বাজারে দর হারিয়েছে ৭৬ শতাংশ কোম্পানি

রুবাইয়াত রিক্তা: সপ্তাহের প্রথম দিন গতকাল ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে প্রধান সূচকের প্রায় ৫২ পয়েন্ট পতন দিয়ে লেনদেন শেষ হয়েছে। লেনদেনের শুরু থেকেই বিক্রির চাপ বাড়তে থাকে। ফলে সূচকের টানা পতন হয়। মাঝে একবার কেনার চাপ সামান্য বাড়লেও তা সূচকের গতিপথ ঘোরাতে পারেনি। বিক্রির চাপে গতকাল ৭৬ শতাংশ কোম্পানি দর হারিয়েছে, বেড়েছে মাত্র ১৭ শতাংশের দর এবং অপরিবর্তিত ছিল ছয় শতাংশের দর। এ নিয়ে চলতি মাসে টানা পতনে রয়েছে সূচক। মাঝে মাঝে দু-এক দিন সূচক বাড়লেও তা উল্লেখযোগ্য ছিল না। গত এক মাসে সূচক কমেছে ১৮১ পয়েন্ট। বাজারের এই টানা পতনে বিনিয়োগকারীরাও হাত গুটিয়ে বসে আছে। অনেকে নির্বাচনের আগে রাজনৈতিক পরিস্থিতি কী দাঁড়ায় তা বোঝার চেষ্টা করছেন।
গতকাল ছোট-বড় সব খাতেই বড় ধরনের দরপতন হয়। কোনো খাতই ইতিবাচক অবস্থানে ছিল না। প্রকৌশল, জ্বালানি ও বিদ্যুৎ খাতে ২১ শতাংশ করে লেনদেন হয়। প্রকৌশল খাতে ৭৭ শতাংশ কোম্পানি দরপতনে ছিল। তবে আট দশমিক ৯০ শতাংশ বেড়ে দরবৃদ্ধির শীর্ষে উঠে আসে এ খাতের ন্যাশনাল টিউবস। কোম্পানিটির প্রায় ২০ কোটি টাকার শেয়ার লেনদেন হয়। অথচ চলতি হিসাববছরের তিন প্রান্তিকেই কোম্পানিটি লোকসানে ছিল। তৃতীয় প্রান্তিক শেষে শেয়ারপ্রতি আয় (ইপিএস) দুই টাকা ৪৭ পয়সা লোকসানে রয়েছে। তা সত্ত্বেও শেয়ারটির দর বাড়ার কারণ জানা যায়নি। এছাড়া নাহি অ্যালুমিনিয়াম ও অ্যাটলাস বাংলাদেশ দরবৃদ্ধির শীর্ষ দশের মধ্যে উঠে আসে। ইফাদ অটোসের সাড়ে ৩৩ কোটি টাকা, বিবিএস কেব্লসের সাড়ে ২৫ কোটি টাকা ও নাহি অ্যালুমিনিয়ামের ২১ কোটি টাকার শেয়ার লেনদেন হয়। জ্বালানি খাতের খুলনা পাওয়ারের সাড়ে ৭০ কোটি টাকার ও ইউনাইটেড পাওয়ারের ৫৬ কোটি টাকার শেয়ার লেনদেন হয়। এর মধ্যে ইউনাইটেড পাওয়ারের দর ১৬ টাকা ৯০ পয়সা বেড়ে দরবৃদ্ধির শীর্ষ তিনে অবস্থান করে। বস্ত্র খাতে লেনদেন হয় ১৪ শতাংশ। এ খাতে ৮৪ শতাংশ কোম্পানি দরপতনে ছিল। এ খাতের স্টাইল ক্রাফটের দর প্রায় পাঁচ শতাংশ বেড়েছে। এছাড়া শাশা ডেনিমসের ২০ কোটি টাকার শেয়ার লেনদেন হলেও দর কমেছে এক টাকা ৭০ পয়সা। আর কোনো খাতে উল্লেখযোগ্য লেনদেন না হলেও ওষুধ ও রসায়ন খাতে ৫৫ শতাংশ, আর্থিক খাতে ৯৫ শতাংশ, ব্যাংক খাতে ৭০ শতাংশ, বিবিধ খাতে ৭৫ শতাংশ, খাদ্য খাতে ৭০ শতাংশ এবং তথ্য ও প্রযুক্তি খাতে ৮৭ শতাংশ কোম্পানি দর হারিয়েছে। খাদ্য খাতের বি ক্যাটেগরির ফাইন ফুডসের দরও ৯ শতাংশের বেশি বেড়েছে। তবে এ কোম্পানির ইপিএস তৃতীয় প্রান্তিক শেষে ৩৮ পয়সা লোকসানে রয়েছে।