পতন দিয়েই পুঁজিবাজারে অভিষেক শাওমির

শেয়ার বিজ ডেস্ক: গতকাল হংকং স্টক এক্সচেঞ্জে পুঁজিবাজারে অভিষেক হয়েছে চীনের স্মার্টফোন নির্মাতা প্রতিষ্ঠান শাওমি গ্রুপের। প্রথম দিনের লেনদেনেই প্রতিষ্ঠানটির শেয়ারদর পড়েছে ছয় শতাংশ। প্রতিষ্ঠানটির মূল্য নির্ধারণ নিয়ে বিনিয়োগকারীদের উদ্বেগ এবং চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্যযুদ্ধের প্রভাবে দরপতন হয়েছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। খবর বিবিসি, রয়টার্স।
চীনের প্রথম কোনো কোম্পানি হংকং স্টক এক্সচেঞ্জে তালিকভুক্ত হলো। চলতি মাসের শেষদিকে আরও কিছু চীনা কোম্পানি বাজারটিতে তালিকাভুক্ত হওয়ার কথা রয়েছে। তবে শাওমির এমন উত্থান চীনা প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের জন্য হতাশাজনক।
বিশ্বের চতুর্থ বৃহত্তম স্মার্টফোন নির্মাতা কোম্পানিটি শেয়ার বিক্রির মাধ্যমে ৪৭২ কোটি ডলার সংগ্রহ করেছে, যা লক্ষ্যের চেয়ে প্রায় অর্ধেক। আলিবাবার পর চীনের এটিই সবেচেয়ে বড় কোম্পানি যারা সবচেয়ে বেশি শেয়ার ছেড়েছে বাজারে। আলিবাবা ২০১৪ সালে দুই হাজার ৫০০ কোটি ডলার মূল্য বাড়িয়েছিল পুঁজিবাজারের শেয়ার থেকে। চলতি মাসের শেষদিকে অনলাইন খাদ্য সরবরাহ প্রতিষ্ঠান মিউতুয়ান ডিয়ানপিং এবং বিনোদন জায়ান্ট টেনসেন মিউসিক প্রাথমিক গণপ্রস্তাবের মাধ্যমে পুঁজিবাজারে আসার কথা রয়েছে। হংকং স্টক এক্সচেঞ্জেও চলতি বছরের শেষদিকে তালিকাভুক্ত হওয়ার পরিকল্পনা আছে প্রতিষ্ঠান দুটির।
কিন্তু চীনের অ্যাপল নামে খ্যাত শাওমির প্রথম দিনের লেনদেন শুরুর প্রথম চার ঘণ্টার মধ্যে প্রতি শেয়ারের দাম ১৭ হংকং ডলার থেকে ১৬ হংকং ডলারে নেমে যায়। যদিও পরে দাম কিছুটা ঘুরে দাঁড়ায়, তবে প্রত্যাশা পূরণ করতে পারেনি শেয়ারটি।
শাওমি এমন একটি সময়ে বাজারে এসেছে যখন বিনিয়োগকারীরা চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্যযুদ্ধ নিয়ে হতাশায় আছেন। এ নিয়ে গত কয়েক সপ্তাহ ধরেই চীনের বাজারে দরপতন হয়েছে। প্রভাব পড়েছে হংকং স্টক এক্সচেঞ্জেও। গত ৯ মাসের মধ্যে সর্বনি¤œ পর্যায়ে পৌঁছায় পুঁজিবাজারটির সূচক।
স্মার্টফোন ছাড়াও ইন্টারনেট সংযোগের সরঞ্জাম ও গেজেট মিলিয়ে শাওমির মূল্য নির্ধারণ হয়েছে ৫৪ বিলিয়ন ডলার। প্রথম দিকে প্রত্যাশা করা হয়েছিল মূল্য হবে ১০০ বিলিয়ন ডলার। কিন্তু হয়েছে তার অর্ধেকের কিছু বেশি। সম্প্রতি মনে করা হয়েছিল প্রতিষ্ঠানটির মূল্য ৭০ বিলিয়ন ডলার। হংকং ও মিডল্যান্ডে প্রাথমিক গণপ্রস্তাবের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠান ১০ বিলিয়ন ডলার বাজার থেকে তুলতে চেয়েছিল। কিন্তু গত মাসে মিডল্যান্ডের আইপিও পরিকল্পনা স্থগিত করে দেয় প্রতিষ্ঠানটি।
প্রতি শেয়ার ১৭ হংকং ডলার ২০১৮ সালে প্রতিষ্ঠানটির মোট আয়ের ৩৯ দশমিক ছয়গুণ। অথচ আইফোন প্রস্তুতকারণ অ্যাপলের শেয়ারদর তার আয়ের মাত্র ১৬ গুণ। ২০১৭ সালে ১১৪ দশমিক ৬৪ বিলিয়ন ইউয়ান বা ১৮ বিলিয়ন ডলার বিক্রি হলেও আগের বছরের তুলনায় প্রতিষ্ঠানটির নিট লোকসান হয়েছে ৪৩ দশমিক ৯ বিলিয়ন। ২০১৬ সালে নিট মুনাফা হয়েছিল ৪৯১ দশমিক ছয় বিলিয়ন ইউয়ান। এসব কারণে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে প্রত্যাশা পূরণে ব্যর্থ হয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।
উন্নয়নশীল বিশ্বের পর ইউরোপে ব্যবসা বাড়াতে নজর দিয়েছে শাওমি। পুঁজিবাজার থেকে সংগ্রহ করা অর্থের একটি বড় অংশ ইউরোপের বাজারে খরচ করার পরিকল্পনা করছে তারা।
পরিকল্পনা অনুযায়ী, গতকাল হংকং স্টক এক্সচেঞ্জে তালিকাভুক্ত হয়েছে শাওমি। এ প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে প্রাথমিক গণপ্রস্তাবে (আইপিও) ২১৮ কোটি সাধারণ শেয়ার ছেড়েছে প্রতিষ্ঠানটি।
পুঁজিবাজার থেকে তোলা অর্থ দিয়ে মূলত তিনটি দেশ স্পেন, রাশিয়া ও ইন্দোনেশিয়ায় খরচ করবে শাওমি। চীনের বাজারে জোর দেওয়া শাওমি সম্প্রতি ফ্রান্সের রাজধানী প্যারিসে তাদের প্রথম ফ্ল্যাগশিপ স্টোর বা বিক্রয়কেন্দ্র খুলেছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, ব্রিটেন ও ইউরোপের বাজারে ঢুকতে সিকে হাচিসনের সঙ্গে চুক্তি করেছে প্রতিষ্ঠানটি। গত বছরে স্পেনের বাজারে কার্যক্রম শুরু করার পর ইতিবাচক সাড়া পায় শাওমি। এখন সিকে হাচিসনের সঙ্গে মিলে ইউরোপের অন্য বাজারগুলোয় স্মার্টফোন বিক্রি করতে পারবে প্রতিষ্ঠানটি।
২০১০ সালে যাত্রা শুরু হয় শাওমির। এরপর মাত্র আট বছরের কম সময়ে বিশ্বের সবচেয়ে দ্রুত বর্ধনশীল একটি স্মার্টফোন ব্র্যান্ড হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে শাওমি। চলতি বছরের প্রথম প্রান্তিকে (জানুয়ারি-মার্চ) দুই কোটি ৮০ লাখ স্মার্টফোন বিক্রি করেছে শাওমি, যা আগের বছরের চেয়ে ৮৮ শতাংশ বেশি। পুঁজিবাজার থেকে সংগ্রহ করা অর্থের ৩০ শতাংশ চীনের বর্তমান গ্রাহকদের সেবার মান বাড়াতে খরচ করবে শাওমি।