পথশিশুদের মাঝে ছড়িয়ে দিন ঈদ আনন্দ

ঈদের আর মাত্র ক’দিন বাকি। ওরা আশায় আছে এ ক’দিনে বিকিকিনি একটু ভালো
হলে সে পয়সায় হয়তো নতুন জামা কেনা যাবে

আবদুল্লাহ আব্বাস
আমাদের দেশের প্রায় সবস্থানে রয়েছে হাজারও ছিন্নমূল শিশু। এদের অনেক শিশু বড় হয় বাবার আদর ভুলে, কোনো কোনো শিশু কখনই ‘মা’ বলে ডাকার সুযোগ পায়নি। আবার কারও রাতে একটু ঘুমানোর স্থান নেই! এমন শিশুদের পড়ালেখা তো দূরে থাক, কেউ পত্রিকা বিক্রি করে, কেউ বা অন্যের বাসায় কামলা খেটেই দিনরাত পার করে। কারও সকালে নাস্তা শেষ হয় একটি বা দুটি পাউরুটি দিয়ে, কারও কপালে তাও জোটে না। কে ভাবে তাদের নিয়ে? কেই বা চেষ্টা করে এদের মুখে হাসি ফোটানোর? আদৌ এমন কেউ আছে?
বিভিন্ন উপলক্ষ যেমন ঈদ, পয়লা বৈশাখ, পয়লা ফাল্গ–নের মতো দিনগুলোও ছিন্নমূল শিশুদের কাছে অন্য সব সাধারণ দিনের মতোই। প্রতিদিনের মতোই বিশেষ দিনগুলোও কাটে পত্রিকা বিক্রি করে বা কামলা খেটে। অথবা হকারি করে। কিভাবে পালন করবে শিশুরা এ বিশেষ দিনগুলো? কে দিবে তাদের নতুন জামা কাপড়? কে বা পড়িয়ে দিবে মেহেদী? কে-ই বা দিবে ঈদের সালামি আর কে নিয়ে যাবে ঘুরে বেড়াতে! আমাদের দেশে অনেক শিশু সংগঠন করেছে। এ সংগঠনগুলো দেশের ছিন্নমূল শিশুদের চাহিদা মেটাতে কাজ করে। শীতবস্ত্র থেকে শুরু করে বিভিন্ন উপলক্ষে শিশুদের মুখে হাসি ফোটানো সংগঠনগুলোর কাজ। তবে কোথাও না কোথাও কমতি থেকেই যাচ্ছে। কেউ পাচ্ছে তো কেউ পাচ্ছে না। কারও চাহিদা পূর্ণ হচ্ছে তো, কারও হচ্ছে না। শুধু শিশু নয়, এ দেশে এমন করুনভাবে দিন অতিবাহিত করেন অনেক বয়স্ক মানুষ, যারা একবেলা খেতে পায় তো তিনবেলা না খেয়ে থাকে। কোনোমতে দিন চালিয়ে নিলেও তাদের কাছে উৎসব মানে নিছক খেটে খাওয়া সাধারণ একটি দিনের মতো।
এক হিসেবে জানা গেছে, দেশে মোট পথশিশু আছে প্রায় ৩৩ লাখ। ঈদ সবার জন্য আনন্দ বয়ে আনলেও তাদের জীবনে এ দিনটি কাটে অন্যের মুখের পানে চেয়ে, করুণার পাত্র হয়ে। ‘জীবনে যাদের হররোজ রোজা’ তাদের আবার ঈদ কিসের!
ঈদের আর মাত্র ক’দিন বাকি। ওরা আশায় বুক বেঁধে আছে। এ ক’দিনে বিকিকিনি একটু ভালো হলে সে পয়সায় একটু নতুন জামা হয়তো কেনা যাবে। নয়তো কে তাদের জামা পরিয়ে দিতে আসবেন? ঈদের দিনে অন্য আর দশটা শিশুর মতো ফিরনি, সেমাই খাবার বায়না নেই ওদের। ওরা অন্যসব দিনের মতোই রোজগারের আশায় ফুল, চকোলেট বিক্রি করতে নামবে পথে; নয়তো বোতল টোকাবে। ঈদের দিনে পথশিশুদের আশা করে থাকতে হয়, কখন তাদের কেউ ডেকে একটু সেমাই কিংবা পোলাও খেতে দেবে। তবু তারা স্বপ্ন দেখে; আশায় বুক বাঁধে, হয়তো কোনো হƒদয়বান ব্যক্তি তাদের জন্য একদিন জামা-জুতা, ভালো খাবার নিয়ে আসবে!
দারিদ্র্য আর না পাওয়ার মাঝে বেড়ে ওঠা মানুষের জীবনে একটুখানি পাওয়াই অসীম আনন্দ বয়ে আনে। তবে ঈদের নতুন জামা বা ভালো খাবার খেতে না পারার জন্যে ওদের মনে কোনো আক্ষেপ নেই। কারণ এটাই নিয়তি বলে ধরে নিয়েছে ওরা। ওরা জেনে গিয়েছে, কেউ খাবার জন্যে দিনভর কাজ করবে আর কেউ খাবার নষ্ট করবে। এটাই পৃথিবীর নির্মম পরিহাস, এরই নামই নিয়তি! ঈদ উৎসবেও আমরা তাই সামগ্রিকতা আনতে ব্যর্থ হই।
আমরা যদি ১০ জন করে ১০০ জনের দায়িত্ব নেই তবে তারা তাদের ন্যায্য সুবিধা পাবে। আমাদের ক্ষুদ্র প্রচেষ্টা থাকবে, এই পথশিশুদের জন্য ঈদে কিছু নতুন জামা কাপড় কিনে দেওয়ার।