পদোন্নতি নিয়ে অস্থিরতা বাড়ছে সোনালী ব্যাংকে

কম্পিউটার অপারেটরের অধীনে ব্যাংকাররা

শেখ আবু তালেব: এক সময়ের কম্পিউটার অপারেটর কয়েক দফায় পদবি বদল ও পদোন্নতির পর এখন সহকারী মহাব্যবস্থাপক (এজিএম)। মূল ব্যাংকিংয়ের সঙ্গে যুক্ত না থাকলেও এখন তার অধীনে কাজ করছেন মূল ব্যাংকিংয়ে নিয়োগ পাওয়া কর্মকর্তারা। ব্যাংকিং কার্যক্রমে অভিজ্ঞতা না থাকা ওইসব কর্মকর্তার সঙ্গে কাজ করতে গিয়ে অস্বস্তিতে পড়ছেন অধীনস্থরা। এতে বৈষম্যের পাশাপাশি বাড়ছে অস্থিরতাও। এমন চিত্র রাষ্ট্রায়ত্ত সোনালী ব্যাংকে। অভিযোগ রয়েছে, বড় অঙ্কের অবৈধ লেনদেনের মাধ্যমে পদায়ন-পদোন্নতির কারণেই এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হচ্ছে।
জানা গেছে, ২০০৪ সালে রাষ্ট্রায়ত্ত সোনালী ব্যাংকের তথ্যপ্রযুক্তি বিভাগে (আইটি) কম্পিউটার অপারেটর পদে ১৫০ জনকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল। এর মধ্যে ১০০ জনকে কম্পিউটার অপারেটর ও ৫০ জনকে সিনিয়র কম্পিউটার অপারেটর হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। পরে বিশেষ প্যাকেজের আওতায় তাদের মধ্য থেকে ২২ জনকে চারবার পদবি পরিবর্তন করে মূল ব্যাংকিংয়ে নিয়ে আসা হয়েছে। সে সঙ্গে এ সময় তিনবার পদোন্নতি দেওয়া হয়েছে। ফলে বেশ কয়েকজন সিনিয়র প্রিন্সিপাল অফিসার পর্যন্ত হয়েছেন। সর্বশেষ ওই ২২ জনকে এজিএম পদে পদোন্নতি দেওয়া হয়েছে। কম্পিউটার অপারেটর হিসেবে নিয়োগ পাওয়া ওই কর্মকর্তাদের মূল ব্যাংকিং কার্যক্রমে অভিজ্ঞতা নেই। কয়েকজনকে প্রধান কার্যালয় থেকে শাখা পর্যায়ে বদলি করা হলেও ব্যাংকিং কার্যক্রম ঠিকমতো পরিচালনা করতে না পারায় পুনরায় প্রধান কার্যালয়ে ফিরিয়ে আনা হয়।
পদবঞ্চিতদের অভিযোগের বিষয়ে সোনালী ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) মো. ওবায়দুল্লাহ আল মাসুদ গতকাল শেয়ার বিজকে বলেন, ‘বিষয়টি আমি শনাক্ত করেছি। সোনালী ব্যাংকে যাতে বৈষম্য না বাড়ে, সে বিষয়ে সচেষ্ট রয়েছি। পরিচালনা পর্ষদের আগামী বৈঠকে বিষয়টি উপস্থাপন করা হবে।’
জানা যায়, ১৯৮৬ থেকে ২০০০ সাল পর্যন্ত সময়ে নিয়োগ পাওয়া অনেকেই কাক্সিক্ষত পদোন্নতি পাননি। এ নিয়ে একাধিকবার ব্যাংকের শীর্ষ পর্যায়ে অভিযোগ দিয়েও কোনো সুরাহা হয়নি। এমন বৈষম্যে কর্মকর্তাদের মধ্যে ক্ষোভ বাড়ছে।
বিধিমালা অনুযায়ী নিয়োগের পর প্রথম পাঁচ বছর অতিক্রম হলে পদোন্নতি দেওয়ার কথা। কিন্তু কম্পিউটার অপারেটর ও সিনিয়র অপারেটর হিসেবে নিয়োগ দেওয়ার তিন বছর পরই তাদের প্রথম পদোন্নতি দেওয়া হয়। নিয়োগ পাওয়ার পর তাদের অনেকের বিরুদ্ধেই জাল সনদ দিয়ে চাকরি নেওয়ার অভিযোগ ওঠে। কিন্তু সোনালী ব্যাংকের পক্ষ থেকে অদ্যাবধি সার্টিফিকেট যাচাই করা হয়নি।
বিধিমালা অনুযায়ী পদোন্নতি দেওয়াকালে প্রথম দুটি শূন্যপদ অনুমোদিত মেধাতালিকা থেকে ও পরবর্তী একটি শূন্যপদ অনুমোদিত জ্যেষ্ঠতা অনুযায়ী হবে। অর্থাৎ দুজন মেধায় ও একজনকে জ্যেষ্ঠতার ভিত্তিতে পদোন্নতি দিতে হবে। কিন্তু ২২ জনকে গণহারে পদোন্নতি দেওয়া হয়েছে। এর ফলে বুয়েট থেকে পাস করা আইটি বিভাগের জনবল পদোন্নতিতে পিছিয়ে পড়েছে। আইটি বিশেষজ্ঞরাই এখন অদক্ষ জনবলের অধীনে কাজ করতে বাধ্য হচ্ছেন।
এদিকে কম্পিউটার অপারেটরদের মূল ব্যাংকিংয়ে নিয়ে আসায় ব্যাংকারদের মধ্যে ক্ষোভের জš§ দিয়েছে। প্রাতিষ্ঠানিক যোগ্যতা ও পেশায় কম্পিউটার অপারেটররা তাদের চেয়ে অনেক পিছিয়ে। ব্যাংকের ঋণ, ক্যাশ বিভাগ ও মাঠ পর্যায়ে কাজের কোনো অভিজ্ঞতা নেই তাদের। তারপরও এই অপারেটররা যেভাবে পদোন্নতি পেয়ে যাচ্ছেন, তাতে একসময় তারাই ব্যাংকের জিএম, ডিএমডি, এমনকি এমডিও হয়ে যেতে পারেন। এভাবে ব্যাংকিং বিষয়ে অদক্ষরা ব্যাংকের উচ্চপদে আসীন হলে রাষ্ট্রায়ত্ত সবচেয়ে বড় এ ব্যাংকটিতে অস্থিরতা দেখা দিতে পারে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করেন।