হোম প্রচ্ছদ পদ্মা সেতুর ব্যয় বাড়ছে আরেক দফা

পদ্মা সেতুর ব্যয় বাড়ছে আরেক দফা


Warning: date() expects parameter 2 to be long, string given in /home/sharebiz/public_html/wp-content/themes/Newsmag/includes/wp_booster/td_module_single_base.php on line 290

ইসমাইল আলী: পদ্মা সেতুর নির্মাণ ব্যয় দুই দফা বাড়ানো হয়েছে, যদিও মূল সেতু ও নদীশাসন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে পিছিয়ে আছে। এছাড়া ১৪টি মূল সেতুর পিলারের পাইলের নকশায় সংশোধন আনা হচ্ছে। এরই মধ্যে আবারও প্রকল্পটির ব্যয় বাড়তে যাচ্ছে। এবার জমি অধিগ্রহণে অতিরিক্ত লাগবে এক হাজার ৪০০ কোটি টাকা। এতে পদ্মা সেতুর নির্মাণ ব্যয় ৩০ হাজার কোটি টাকা ছাড়িয়ে যাচ্ছে।

২০১৬ সালের জানুয়ারিতে সর্বশেষ পদ্মা সেতুর ব্যয় বাড়ানো হয়। এতে প্রকল্প ব্যয় দাঁড়িয়েছিল ২৮ হাজার ৭৯৩ কোটি ৩৮ লাখ টাকা। সেবার ব্যয় বাড়ানো হয় আট হাজার ২৮৬ কোটি টাকা। এর আগে ২০১১ সালে ২০ হাজার ৫০৭ কোটি ২০ লাখ টাকার সংশোধিত প্রকল্প জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটিতে (একনেক) অনুমোদন পায়। আর ২০০৭ সালে প্রথম অনুমোদনের সময় এ ব্যয় ধরা হয়েছিল ১০ হাজার ১৬১ কোটি ৭৫ লাখ টাকা।

জমি অধিগ্রহণে নতুন ব্যয় যুক্ত হলে পদ্মা সেতুর ব্যয় বেড়ে দাঁড়াবে ৩০ হাজার ১৯৩ কোটি ৩৮ লাখ টাকা। অর্থাৎ তিন বারে পদ্মা সেতুর মোট ব্যয় বাড়ছে ২০ হাজার ৩১ কোটি ৬৩ লাখ টাকা।

যদিও এবার ব্যয় বৃদ্ধির প্রস্তাব এখনই একনেকে অনুমোদন করার দরকার নেই বলে মনে করছেন সেতু বিভাগ সংশ্লিষ্টরা। তারা বলছেন, জমি অধিগ্রহণে বৃদ্ধিপ্রাপ্ত ব্যয় পরিকল্পনা কমিশনের অনুমোদনক্রমে ব্যবহার করা হবে। পরবর্তীকালে প্রকল্প সংশোধনের সময় এটি যোগ করে দেওয়া হবে। ২০১৬ সালের আগস্টে সরকারি জারিকৃত পরিপত্র অনুসারে এ ব্যয় নির্বাহ করা হবে। এজন্য অনুমোদন চেয়ে পরিকল্পনা কমিশনে চিঠি দিয়েছে সেতু বিভাগ।

এতে বলা হয়েছে, মূল ডিপিপিতে এক হাজার ৫৩০ হেক্টর ভূমি অধিগ্রহণের জন্য ব্যয় ধরা হয়েছিল এক হাজার ২৯৯ কোটি টাকা। কিন্তু এখন মোট ভূমি অধিগ্রহণ করতে হবে দুই হাজার ৬৯৮ হেক্টর। অতিরিক্ত জমি বাবদ মোট ব্যয় প্রয়োজন দুই হাজার ৬৯৯ কোটি টাকা। এতে পদ্মা সেতু প্রকল্পে ভূমিসহ অধিগ্রহণ বাবদ আরও এক হাজার ৪০০ কোটি টাকা প্রয়োজন।

জানতে চাইলে পদ্মা সেতু প্রকল্পের পরিচালক শফিকুল ইসলাম শেয়ার বিজকে বলেন, পদ্মা সেতুর নদীশাসনে ড্রেজিং স্পয়েল (খনন করে তোলা মাটি) ফেলার জন্য বাড়তি জমি দরকার। এতে প্রাথমিকভাবে যে জমির পরিমাণ ধরা হয়েছিল তার চেয়ে বেশি জমি লাগছে। এজন্য অতিরিক্ত এক হাজার ৪০০ কোটি টাকা প্রয়োজন। তবে এখনই প্রকল্পটি সংশোধন করা হবে না। পরিকল্পনা কমিশনের অনুমোদনক্রমে বাড়তি ব্যয় নির্বাহ করা হবে। পরে তা ডিপিপি সংশোধনের সময় সমন্বয় করা হবে। এজন্য অনুমোদন চাওয়া হয়েছে।

সূত্র জানায়, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের চাহিদা অনুযায়ী মুন্সীগঞ্জ, শরিয়তপুর ও মাদারীপুর জেলায় অতিরিক্ত এক হাজার ১৬৭ হেক্টর জমি প্রয়োজন। জমি, স্থাপনা, গাছপালার ক্ষতি বাবদ এক হাজার ৪০০ কোটি টাকা অতিরিক্ত প্রয়োজন। জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের মাধ্যমে প্রত্যাশিত অর্থ স্থানীয় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারদের হস্তান্তর করা হবে।

এদিকে প্রকল্পটির মূল দুই প্যাকেজের (সেতু ও নদীশাসন) লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক পিছিয়ে আছে। এছাড়া সেতুটির ১৪টি পিলারের নকশায় জটিলতা দেখা দিয়েছে। এগুলো হলোÑমাওয়ার কাছে ৬, ৭, ৮, ৯, ১০, ১১ ও ১২ এবং জাজিরার কাছে ২৬, ২৭, ২৯, ৩০, ৩১, ৩২ ও ৩৫নং পিলার। পিলারগুলোর জন্য পানির জিরো ডিগ্রি থেকে ১১০ থেকে ১২০ মিটার গভীর পাইল করতে হবে। তবে পাইলিং করতে গিয়ে মাটির ৪০০ ফুট গভীরে কাদার স্তর ধরা পড়ে। ফলে ওই স্থানে পাইলিং শেষ হলে তা সেতুর ভার বহন করতে পারবে না। লোড টেস্টে পাইল কাদার ভেতরে দেবে যেতে পারে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, পদ্মা নদীর তলদেশ থেকে প্রতি বছর কিছুটা করে মাটি সরে যায়। খরস্রোতের কারণে এমনি হয় বলে সেতুটির পাইল অনেক গভীর হতে হবে। বিশ্বে কোনো সেতুতে এত গভীর পাইল করতে হয়নি। তবে এখন পাইলের শেষ প্রান্তে কাদামাটির স্তর ধরা পড়ায় দেখা দিয়েছে নতুন জটিলতা। এজন্য নতুন করে নকশা রিভিউ করতে হচ্ছে। এজন্য নিয়োগ দেওয়া হয়েছে পদ্মা সেতুর ব্যবস্থাপনা পরামর্শককে।

তথ্যমতে, পদ্মা সেতুর ব্যবস্থাপনা পরামর্শকের দায়িত্ব পালন করছে বিশ্বের খ্যাতনামা প্রকৌশল প্রতিষ্ঠান যুক্তরাজ্যের রেন্ডাল লিমিটেড। এর সঙ্গে রয়েছে জাপানের পাডিকো কেইএল ও বাংলাদেশের বিসিএল। এ তিন প্রতিষ্ঠানই যুক্তভাবে পদ্মা সেতুর ১৪টি পিলারের ৮৪ পাইলের নকশা পর্যালোচনা করছে। এক্ষেত্রে সহায়তা করছে ডেনমার্কের পরামর্শক কাউই। নকশা চূড়ান্ত হলে ব্যয় আরেক দফা বাড়বে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এছাড়া বাস্তবায়ন বিলম্বেও ব্যয় বাড়বে প্রকল্পটির।

প্রকল্পকে ভাগ করা হয়েছে পাঁচটি মূল অংশে। দ্বিতীয় সংশোধনীতে এ পাঁচ প্যাকেজে ব্যয় ধরা হয় ২৩ হাজার ৬২১ কোটি ৬৮ লাখ টাকা। বাকি পাঁচ হাজার ১৭১ কোটি ৭০ লাখ টাকা ধরা হয় জমি অধিগ্রহণ, পুনর্বাসন ও অন্যান্য খাতে।

প্রসঙ্গত, ২০০৭ সালের ২০ আগস্ট পদ্মা সেতু প্রকল্প প্রথম দফা অনুমোদন করে একনেক। সে সময় শুধু সড়ক সেতু নির্মাণে ব্যয় ধরা হয় প্রায় ১০ হাজার কোটি টাকা। তবে মহাজোট সরকার ক্ষমতা গ্রহণের পর সড়ক ও রেল সেতু নির্মাণের সিদ্ধান্ত হয়। এতে প্রকল্প সংশোধনের মাধ্যমে ব্যয় নির্ধারণ করা হয় ২০ হাজার ৫০৭ কোটি টাকা। ২০১১ সালে তা অনুমোদন করা হয়। এবার দ্বিতীয় দফায় সংশোধন করা হচ্ছে। তবে আগামী চার বছরে প্রকল্প ব্যয় আরও বাড়তে পারে। এতে প্রকল্পটি আবারও সংশোধন করতে হতে পারে বলে মনে করেন প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা।