পবিত্র রমজান ইবাদতের মৌসুম

হাফেজ মাওলানা নাসির উদ্দিন: সুস্বাগতম মহাপবিত্র মাহে রমজান। প্রতিবারের মতো এবারও মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামিন আমাদের জন্য মহা ফজিলতের মাস রমজান দান করেছেন। আমরা যারা রোজা রাখায় সমর্থ আর যারা রোগ-শোকে কষ্ট পাচ্ছি সবাইকে যেন আল্লাহ রাব্বুল আলামিন রোজা পালনের তওফিক দান করেন এ দোয়াই মহাল দয়ালু দাতার দরবারে পেশ করছি।
পবিত্র রমজান মাস বছরের বাকি ১১ মাস অপেক্ষা অধিক মর্যাদাশীল ও বরকতপূর্ণ মাস। এ মাসের বিশেষত্ব অনেক। যেমন, ব্যবসায়ী মহলের একটি বিশেষ মৌসুম থাকে; তখন তাদের ব্যবসা হয় খুব জমজমাট ও লাভজনক। সে মৌসুমে বছরের অন্য সময়ের চেয়ে অনেক বেশি আয় হয়। ঠিক তেমনিভাবে আখিরাতের ব্যবসায়ীদের জন্য আখিরাতের সওদা করার উত্তম মৌসুম হলো এই পবিত্র রমজান মাস। নবী করিম (সা.) বলেছেন, ‘রমজান মাসে যে ব্যক্তি একটি নফল আদায় করল, সে যেন অন্য মাসের একটি ফরজ আদায় করল। আর যে এ মাসে একটি ফরজ আদায় করল, সে যেন অন্য মাসের ৭০টি ফরজ আদায় করল।’ (শুআবুল ঈমান, ৩/৩০৫-৩০৬)
উল্লিখিত হাদিস দ্বারা এ কথাই বোঝা যায় যে, এ মাসে নফল আদায় করলে অন্য মাসের ফরজের ন্যায় সওয়াব হয়। আর এ মাসের একটি ফরজ অন্য মাসের ৭০টি ফরজের সওয়াব পাওয়া যায়। অন্য এক হাদিসে আছে, নবী করিম (সা.) বলেছেন, ‘রমজানের ওমরাও হজের সমতুল্য।’ (তিরমিজি শরিফ, ৯৩৯ ও আবুদাউদ শরিফ, ১৯৮৬)
এ তো হলো রোজা ছাড়া এ মাসের অন্যান্য আমলের ছওয়াব সম্পর্কে বলা। আর রোজার ছওয়াব সম্পর্কে আল্লাহতাআলা নিজেই বলেন, ‘নিশ্চয়ই রোজা আমার জন্য আর এর প্রতিদান স্বয়ং আমিই দেব।’ (মুসলিম শরিফ, ১১৫১/১৬৫)
এ সওয়াবের পরিমাণ যে কতÑতা একমাত্র আল্লাহতাআলাই ভালো জানেন। পবিত্র রমজান মাস হলো রহমত, বরকত, মাগফিরাত, জাহান্নাম থেকে মুক্তি ও জান্নাত লাভের মাস। তাই এমন মাস পেয়েও যে ব্যক্তি স্বীয় গুনাহ্ মাফ করাতে পারল না, তার জন্য  স্বয়ং জিবরাইল (আ.) বদদোয়া করেছেন এবং নবী করিম (সা.) আমিন বলে সমর্থন জানিয়েছেন। হাদিস শরিফে এসেছে, নবী করিম (সা.) মিম্বারে উঠে আমিন, আমিন, আমিন তিনবার বললেন। তাঁকে বলা হলোÑহে আল্লাহর রাসুল! আপনি তো এরূপ কখনও করেননি। তখন তিনি বললেন, ওই ব্যক্তি ধ্বংস হোক যে পিতা-মাতা উভয়কে অথবা একজনকে পেয়েও (তাদের খেদমত করে) জান্নাতে প্রবেশ করতে পারল না। তখন আমি বললাম আমিন। অতঃপর তিনি বললেন, ওই ব্যক্তি ধ্বংস হোক যে রমজান পেয়েও নিজের গুনাহ্ মাফ করাতে পারল না। আমি বললাম আমিন। হজরত জিবরাইল (আ.) আবার বললেন, ওই ব্যক্তি ধ্বংস হোক যার কাছে আমার নাম আলোচিত হলো অথচ সে আমার ওপর দরুদ পড়ল না। আমি বললাম আমিন। (সহি ইবনে হিব্বান, ৯০৮; আল-আদাবুল মুফরাদ, হাদিস-৬৪৬)
হাদিসে রয়েছে, জিবরাইল (আ.)-এর বদদোয়াই যথেষ্ট ছিল, তারপরও নবী করিম (সা.) আমিন বলে সত্যয়ন করেছেন। তাহলে বোঝা গেল অবশ্যই দোয়া কবুল হয়েছে। আল্লাহতায়ালা আমাদের সবাইকে পবিত্র রমজানের হক আদায়ের তাওফিক দান করুন এবং বেশি বেশি ইবাদত করার তওফিক দান করুন; সঙ্গে সঙ্গে নবী করিম (সা.)-এর অভিসম্পাৎ থেকে রক্ষা করুন। (আমিন)
পবিত্র রমজানে কোরআন তিলাওয়াতের গুরুত্ব
পবিত্র রমজান মাসের সঙ্গে কোরআনুল কারিমের গভীর সম্পর্ক রয়েছে। এ মাসেই পবিত্র কোরআন লওহে মাহফুজ থেকে প্রথম আসমানে অবতীর্ণ হয়। নবী করিম (সা.) জিবরাইল (আ.)-এর সঙ্গে রমজানের প্রত্যেক রাতে কোরআন মাজিদ দাওর করতেন অর্থাৎ একজন আরেকজনকে কোরআন  শোনাতেন। হাদিস শরিফে আছে, ‘হজরত জিবরাইল (আ.) রমজানের শেষ পর্যন্ত প্রত্যেক রাতে নবী করিম (সা.)-এর সঙ্গে সাক্ষাৎ করতেন এবং তাঁকে কোরআন শরিফ পাঠ করে শোনাতেন।’ (বুখারি শরিফ, হাদিস নং-১৯০২)।