পরিকল্পনার অভাবে পিছিয়ে লালমনিরহাট বিসিক শিল্পনগরী

জাহেদুল ইসলাম সমাপ্ত, লালমনিরহাট: নানা সীমাবদ্ধতার কারণে দিন দিন পিছিয়ে পড়ছে লালমনিরহাটের আদিতমারী উপজেলার গড়ে তোলা বিসিক শিল্পনগরী। প্রয়োজনীয় পৃষ্ঠপোষকতা আর সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনার অভাবে এ শিল্পনগরীতে গড়ে ওঠেনি সম্ভাবনাময় কোনো ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প। ফলে  নতুন করে তেমন কোনো কর্মসংস্থানেরও সৃষ্টি হয়নি। তবে সহজ শর্তে ঋণ প্রদান ও পুঁজি বিনিয়োগের ব্যবস্থা করলে উদ্যোক্তাদের মধ্যে আগ্রহ সৃষ্টি হতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

বিসিক শিল্পনগরী সূত্রে জানা যায়, উপজেলার সাপ্টিবাড়ি এলাকায় শিল্প মন্ত্রণালয় ১৫ দশমিক ৬০ একর জমি অধিগ্রহণ করে। ১৯৯৩ সাল থেকে সেখানে শিল্প গড়ে তুলতে ব্যবসায়ী ও উদ্যোক্তাদের উৎসাহ ও বরাদ্দ দেওয়া হচ্ছে। বিসিক শিল্পনগরীতে মোট ১০৬টি প্লট রয়েছে। ইতোমধ্যে ২৪টি শিল্প ইউনিট গড়ে তুলতে ৯৮টি প্লট বরাদ্দ নিয়েছে আগ্রহী শিল্পোদ্যোক্তারাও।

সেখানে একটি অটো ময়দার মিল, একটি প্লাস্টিক কারখানা, একটি গার্মেন্টস জুটের মাধ্যমে তুলা তৈরির কারখানাসহ মোট পাঁচটি ক্ষুদ্রশিল্প বর্তমানে চালু রয়েছে। এছাড়া বরাদ্দ নেওয়া অধিকাংশ প্লটেই উদ্যোক্তারা কোনো সম্ভাবনাময় ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প গড়ে তুলতে পারেননি। ফলে দীর্ঘ ২৭ বছরেও লালমনিরহাট বিসিক শিল্পনগরীতে আধুনিকতার ছোঁয়া লাগেনি। সৃষ্টি হয়নি নতুন কর্মসংস্থানেরও। বরং জনবলের অভাবে কোনোভাবে খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে চলছে লালমনিরহাট বিসিক শিল্পনগরী।

সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, এ বিসিক শিল্পনগরীতে শিল্প-কারখানা নির্মাণে পৃষ্ঠপোষকতা ও সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনার অভাবে উদ্যোক্তারা এগিয়ে আসছে না। আর ক্ষুদ্র কারখানা নির্মাণকারী ব্যবসায়ীরা নানা প্রতিবন্ধকতার মধ্য দিয়ে এ শিল্পনগরীতে টিকে আছেন। তবে সহজ শর্তে ঋণ প্রদান ও পুঁজি বিনিয়োগের ব্যবস্থা করলে উদ্যোক্তাদের মধ্যে আগ্রহ সৃষ্টি হতে পারে বলে তারা জানিয়েছেন।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে লালমনিরহাট বিসিক শিল্পনগরীর উপব্যবস্থাপক মোশাররফ হোসেন জানান, কয়েক বছর আগে বিসিক শিল্পনগরীর উন্নয়নে প্রতিবন্ধকতা ছিল সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থা ও বিদ্যুৎ সমস্যা। এছাড়া অবকাঠামোর দুর্বলতাও ছিল।

এখন লালমনিরহাট বিসিক নগরীতে এ সমস্যাগুলো নেই দাবি করে তিনি বলেন, ভৌগোলিকভাবে বিসিক শিল্পনগরীটি এমন একটি স্থানে যেখান থেকে খুব সহজে পণ্য উৎপাদন ও প্রক্রিয়াজাত করে বুড়িমারী স্থলবন্দর দিয়ে ভারত, ভুটান ও নেপালে বাজারজাত করা যেতে পারে। এখানে শিল্প-কলকারখানা গড়ে উঠলে স্বল্পমূল্যে শ্রমিকও পাওয়া যাবে। খুব দ্রুত বিসিক শিল্পনগরীটি জেলার অর্থনৈতিক উন্নয়নে মাইলফলক হয়ে উঠবে বলেও দাবি করেন তিনি।