পরিকল্পনার ছকেই আটকে আছে স্বল্প মূলধনি কোম্পানির মার্কেট

চলতি বছরই কাজ শেষ চায় বিএসইসি

মুস্তাফিজুর রহমান নাহিদ: পরিকল্পনার ছকেই আটকে রয়েছে স্মল ক্যাপ বা স্বল্প মূলধনি কোম্পানির মার্কেট। পুঁজিবাজার আরও গতিশীলের জন্য স্মল ক্যাপ বোর্ড বা স্বল্প মূলধনি কোম্পানি নিয়ে আলাদা মার্কেট গঠনের কথা থাকলেও দুবছরেও তেমন কোনো অগ্রগতি দেখা যায়নি। পুঁজিবাজারের স্বার্থে দ্রুত স্বল্প মূলধনি কোম্পানির মার্কেট চালু জরুরি বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।  অন্যদিকে চলতি বছরই এর কাজ শেষ হবে বলে জানিয়েছেন বিএসইসির মুখপাত্র।

প্রাপ্ত তথ্যমতে, স্বল্প মূলধনি কোম্পানিকে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত করতে ‘কোয়ালিফাইড ইনভেস্টর অফার (কিউআইও) নীতিমালা ২০১৬’-এর খসড়া অনুমোদন করেছে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ (বিএসইসি)। এ নীতিমালা অনুযায়ী পাঁচ কোটি টাকার কম স্বল্প মূলধনি কোম্পানি শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত হতে পারবে না।

এর আগে ২০১৬-এর ফেব্রুয়ারি স্বল্প মূলধনি কোম্পানির জন্য ‘স্মল ক্যাপ বোর্ড’ নামে নতুন বাজার গঠনের অনুমোদন দেয় বিএসইসি। বিএসইসির ওই অনুমোদন অনুযায়ী স্বল্প মূলধনি কোম্পানি তালিকাভুক্তির জন্য কোয়ালিফাইড ইনভেস্টর অফারের মাধ্যমে পুঁজি উত্তোলন করতে হবে। আর স্বল্প মূলধনি কোম্পানির শেয়ার শুধু কোয়ালিফাইড ইনভেস্টররা লেনদেন করতে পারবেন। এরই অংশ হিসেবে কোয়ালিফাইড ইনভেস্টর অফার নীতিমালার খসড়া অনুমোদন দেয় বিএসইসি।

বিষয়টি প্রসঙ্গে ডিএসইর সাবেক প্রেসিডেন্ট ও বর্তমান পরিচালক  শাকিল রিজভী শেয়ার বিজকে বলেন, পুঁজিবাজার আরও শক্তিশালী করার জন্য ছোট মূলধনি কোম্পানি নিয়ে ভিন্ন বাজার তৈরি করা জরুরি। বিষয়টি নিয়ে বিএসইসি কাজ করছে।’

বিএসইসির মুখপাত্র সাইফুর রহমান শেয়ার বিজকে বলেন, ‘পুঁজিবাজারের স্বার্থে এ মার্কেটের ভূমিকা অনেক। আমরা এ মার্কেট নিয়ে কাজ করছি। বিষয়টি নিয়ে দুই স্টক এক্সচেঞ্জ কাজ করছে। তাদের কাজ সম্পন্ন হলেই আমরা কাজ শুরু করতে পারব।’

‘চলতি বছরে এ মার্কেট গঠন হবে কি না’Ñএমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘আশা করা যায় এ বছরের মধ্যেই মার্কেট গঠনের কাজ শেষ করতে পারব।’

স্বল্প মূলধনি কোম্পানির বৈশিষ্ট্য: বিএসইসির নীতিমালায় বলা হয়েছে, কোয়ালিফাইড ইনভেস্টর বলতে বিনিয়োগ-সংক্রান্ত সম্যক ধারণা রয়েছেÑএমন প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারী ও উচ্চ নিট সম্পদধারী ব্যক্তিকে বোঝাবে। কোয়ালিফাইড ইনভেস্টরদের জন্য সেন্ট্রাল ডিপোজিটরি বাংলাদেশ লিমিটেড (সিডিবিএল) ভিন্ন ধরনের বিও হিসাব প্রণয়ন করবে।

স্বল্প মূলধনি প্রতিষ্ঠান হিসেবে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্তির জন্য কোম্পানির পরিশোধিত মূলধন কমপক্ষে পাঁচ কোটি টাকা থাকতে হবে। আর তালিকাভুক্তির পর পরিশোধিত মূলধন কমপক্ষে ১০ কোটি টাকায় উন্নীত করতে হবে। তবে সর্বোচ্চ পরিশোধিত মূলধন ৩০ কোটি টাকার নিচে থাকতে হবে। এ বাজারে ডাইরেক্ট লিস্টিংয়ের মাধ্যমে কোনো কোম্পানি তালিকাভুক্ত হতে পারবে না এবং শেয়ারধারীর শেয়ার একটি নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত লক-ইন থাকবে। এ বাজারের কোম্পানিগুলোর শেয়ার ডিমেটারিয়ালাইজ (অজড়) আকারে হবে অর্থাৎ শেয়ার কাগুজে হতে পারবে না। শেয়ার লেনদেন হবে ইলেকট্রনিক ট্রেডিং প্ল্যাটফরমে এবং লেনদেন নিষ্পত্তির সময় হবে স্টক এক্সচেঞ্জের মূল বাজারের মতো। আর শেয়ার লেনদেন হবে স্টক ব্রোকারদের মাধ্যমে। অর্থাৎ বর্তমানে তালিকাভুক্ত অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের শেয়ার যেভাবে লেনদেন হচ্ছে, এসব শেয়ারও একই নিয়মে লেনদেন হবে।

সূত্র জানিয়েছে, কিছু জটিলতার জন্য এ মার্কেট গঠনের কাজ থমকে রয়েছে। জটিলতা কেটে গেলেই স্বল্প পুঁজির মার্কেট গঠনের বিষয়টি গেজেট আকারে প্রকাশ করা হবে। এর পরপরই শুরু হবে মার্কেট গঠনের কাজ।