পরিবারের শিক্ষাই শিশুর জন্য সর্বাপেক্ষা গুরুত্বপূর্ণ

 

আবদুল মকিম চৌধুরী : সাম্প্রতিক সময়ে শিশু-কিশোরদের বখাটেপনা ও নিষ্ঠুরতা বেড়ে চলেছে। তুচ্ছ বিষয় নিয়ে খুনোখুনিতে লিপ্ত হচ্ছে শিশু-কিশোররা। এ প্রবন্ধ লেখার সময়ও ‘খেলাকে কেন্দ্র করে বিরোধে কিশোর খুন’ শীর্ষক খবর গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে। রাজধানীর খিলগাঁও থানার বউবাজার এলাকায় ক্রিকেট খেলাকে কেন্দ্র করে বিরোধের জেরে ছুরিকাঘাতে নিহত হয়েছে কিশোর রাসেল। বৃহস্পতিবার রাতে এই ঘটনা ঘটে। গভর্নমেন্ট স্টাফ কোয়ার্টার স্কুল অ্যান্ড কলেজ থেকে এবার এসএসসি পরীক্ষা দিয়েছিল সে। (প্রথম আলো, ১৩ এপ্রিল ২০১৮)।

সমাজবিজ্ঞানীরা বলছেন, পরিবার ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে আদবকেতা শেখানো হচ্ছে না বলেই শিশু-কিশোররা নিষ্ঠুর ও সহিংস হয়ে উঠছে। বস্তুত পরিপূর্ণ মানুষ হয়ে ওঠার জন্য পরিবারের দেওয়া শিক্ষাই সর্বাপেক্ষা গুরুত্বপূর্ণ এবং তা সে শিক্ষা দিতে হবে শৈশবেই।

শিশুর মানুষ হয়ে ওঠার পেছনে পরিবারের ভূমিকাই সর্বাপেক্ষা বেশি। শৈশবের প্রারম্ভে যথাযথ যতœ নেওয়া হলে শিশুদের শিক্ষণ ক্ষমতা, আত্মবিশ্বাস, আবেগ নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা ও স্বাধীনতার বোধ যথাযথভাবে বিকশিত হয়। বস্তুত জীবনের প্রথম পাঁচ বছরে উৎকৃষ্ট যতœ নেওয়া হলে, সেটি তাদের বিকাশে যে ভূমিকা রাখে; তাদের জীবদ্দশায় অন্য কোনো কিছু তা করতে পারে না। গত দশকের প্রথম দিকে যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল একাডেমি ফর সায়েন্সেস কর্তৃক প্রকাশিত ‘নিউরন টু নেইবারহুডস: দ্য সায়েন্স অব আরলি চাইল্ডহুড ডেভেলপমেন্ট’ গ্রন্থের শুরুতেই বলা হয়েছে, অন্তঃসত্ত্বা হওয়ার দিন থেকে শুরু করে স্কুলে ভর্তি হওয়ার প্রথম দিন পর্যন্ত শিশুর যে বিকাশ হয়, তা জীবনের অন্য যেকোনো পর্যায়ের চেয়ে বেশি।’ এ বিকাশ আবার নির্ধারিত হয় শারীরিকভাবে বেড়ে ওঠা পরিবেশে প্রভাবের ধরনের মিশেলে। সন্দেহ নেই, পারস্পরিক দৃঢ় সম্পর্ক আনন্দময় জীবন উপহার দেয়। এটি শিশুর বিকাশে বড় ভূমিকা রাখে। আদর-শাসনের ভারসাম্য অতিগুরুত্বপূর্ণ বিষয়। অতি-আদরে শিশু ননীর পুতুল হয়ে উঠতে পারে। আবার শাসনের বাড়াবাড়িতে বখে যেতে পারে।

শিশুর জন্মের পর, তাকে খাওয়ানো, ন্যাপকিন পাল্টানো, হাসিখুশি রাখাই যথেষ্ট নয়। গৃহকর্মীও ডায়াপার বদলাতে পারেন, সেটি তার কাজের অংশ। কিন্তু মা যদি তা করেন, তবে তাতে থাকে মাতৃস্নেহও। শিশুর মস্তিষ্কের বিকাশে সহায়ক হয়, সেভাবে তাকে উদ্দীপ্ত করতে সবাই পারে না। এ প্রসঙ্গে মেগান গানারের উক্তি প্রণিধানযোগ্য। তিনি বলেছেন, শিশুর জন্মের পর যিনি যত্ন নেন, ‘তার পরিস্থিতি বিশ্লেষণের সক্ষমতা থাকতে হবে।’ শিশু কী শিখবে, সেটিও তাকে নির্ধারণ করতে হবে। তাই এখানে শিশুর প্রথম যত্ন নেওয়া ব্যক্তি মা হওয়াই জরুরি বিষয়। মায়ের ভূমিকা নিয়ে সর্বাপেক্ষা সুন্দর কথা মহামতি নেপোলিয়ন বোনাপার্টের রোব সব an educated mother, ও ংI shall promise you the birth of a civilized, educated nation (আমাকে একজন শিক্ষিত মা দাও, আমি প্রতিশ্রুতি দিচ্ছি একটি সভ্য শিক্ষিত জাতির জন্ম হবে।

মা-বাবা ও পরিবারের সদস্যরা শিশুর প্রথম শিক্ষক। প্রশ্ন, এতটুকু শিশুকে কীভাবে জীবনাচরণ শেখাতে হয় পরিবারের সদস্যদের মধ্যে নৈতিকতা ও আদবকেতার চর্চা না থাকলে শিশুর নৈতিকতা ও আদবকেতায় অভ্যস্ত হতে পারে না। এক বছরের শিশুকে কীভাবে শেখানো যায়, সে বুঝেই বা কী এমন কথা প্রায়ই শোনা যায়। এটি ঠিক, ছোট্ট শিশুকে বোঝানো কিছু নেই। তবে তাকে অভ্যস্ত করে তোলা যায়। ছয় মাসের শিশু মা-বাবার আদর সোহাগে কান্না থামিয়ে দেয়, ধমক-শাসনে রাগান্বিত হতে পারে। এটি তো এ বার্তাই দেয়, কিছু অভিব্যক্তি পড়তে-বুঝতে পারে সে।

শিশু অনুকরণপ্রিয়। উদাহরণ: তিন বছরের এক শিশু আখ খেয়ে বর্র্জ্য ঘরের কোণে রাখছিল। বাবা তা দেখে জানতে চাইলেন, এমন করছ কেন মা। শিশুটির উত্তর: সেলিম চাচ্চু যে ঘরে রাখছিলেন। পাণ্ডুরোগে আক্রান্ত রোগীকে দেখতে গিয়ে শিশু যা দেখেছে, ঘরে সেটির চর্চা করেছে। রোগী কেন ঘরের কোণে বর্জ্য রাখছিলেন এবং সুস্থ থাকলে তিনি এটি করতেন না, তাকে বুঝিয়ে বলা হলো। বিজ্ঞের মতো মাথা নাড়াল সে।

অক্ষর চিনতে একটু সময় নিলে ধমক না দিয়ে, না শাসিয়ে বুঝিয়ে দিলে শিশু তা ভালোভাবে মনে রাখতে পারে। যেমন, তিন বছরের একটি শিশু বাবার গায়ের ওপর আড়াআড়ি শুয়ে বলল, বাবা একটি জিনিস খেয়াল করেছো। আমরা একটি ‘এক্স’ বানিয়ে ফেলেছি।

শিশু বিছানায় প্রস্রাব করে, এ নিয়ে মায়েদের দুশ্চিন্তার অন্ত নেই। কিন্তু মাথা খাটিয়ে শিশুকে অভ্যস্ত করে তোলেন বুদ্ধিমতী মা। শিশু যা হাতের কাছে পাবে, মুখে দেবে। তবে খাবার গ্রহণে অনীহা। শিশুদের খাওয়াতে বা পড়াতে মাকে কৌশল অবলম্বন করতে হয়, সেই কৌশল যাতে নৈতিকতার পরিপন্থী না হয়, তা অতি জরুরি। নৈতিকতা বোধ মায়ের প্রতি শিশুর সম্মানবোধ যেমন বাড়াবে, তেমনই তাকে নৈতিকতাসম্পন্ন করে গড়ে তুলবে।

সন্তান পরিপালনে মায়ের ধৈর্যের সীমা নেই, মাতৃস্নেহের যেমন তুলনা নেই, মায়ের দুধের যেমন বিকল্প নেই, তেমনই শিক্ষিত মায়ের দেওয়া শিক্ষাও তুলনাহীন। এই মা যদি নৈতিকতাসম্পন্ন হোন, আর সে নৈতিকতার শিক্ষা দিতে পারেন সন্তানকে; তার দেওয়া শিক্ষা অতুলনীয়। এমন শিক্ষায় শিক্ষিত শিশু সমাজ-পরিবেশের প্রভাবে পরিবর্তন হলেও তার পরিবর্তন হয় ইতিবাচক। প্রতিকূল পরিবেশ তাকে কাবু করতে পারে না। কাদামাটির ওপর ছাপ পড়লে তা শুকিয়ে গেলে স্থায়ী রূপ ধারণ করে, শৈশবের শিক্ষাই মানবশিশুর মনে গেঁথে থাকে আজীবন।

অনেক শিশু যা দেখে, তা-ই পেতে চায়। এটি যে মা-বাবা কৌশলের সঙ্গে সামাল দিতে পারেন না, তাদের বিড়ম্বনার শিকার হতে হয়। একটি উদাহরণ থেকে ধারণা পেতে পারেন। এক বিকালে চার বছরের মেয়েকে নিয়ে ঘুরতে বের হলেন এক বাবা। সামনে পড়ল বেলুন বিক্রেতা। শিশুটি বলল, দেখো বাবা কত রঙের। বেলুন বিক্রেতা এগিয়ে এলো, শিশুকে আকৃষ্ট করতে বেলুন হাতে চেপে বিচিত্র শব্দ করতে লাগল। শিশুটি বুঝল, বাবা বেলুন কিনবেন না। মেয়ের ওপর আস্থা রেখে বিক্রেতাকে বাবা বললেন, দেখুন তো ওকে আগ্রহী করতে পারেন কিনা। ভরসা পেয়ে বিক্রেতা বললেন, কোনটা নেবে খুকি! বিক্রেতাকে অবাক করে দিয়ে শিশুটি বলল, ‘আপনার বেলুন পচা। আব্বু আরও ভালো বেলুন এনে দেবেন।’ সন্তানের এমন বুদ্ধিদীপ্ত জবাবে বাবার মুখ রক্ষা হলো। তাকে যেভাবে তৈরি করা হয়েছে, সেভাবেই তার জবাব এসেছে। এমন শিশুরা যাতে ভবিষ্যতে মা-বাবার মুখ উজ্জ্বল করতে পারে, সেজন্য ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে হবে। শিশুর আবদারের ক্ষেত্রে মা-বাবা নমনীয় হলে পরবর্তী সময়ে আফসোস করতে হয়। শিশুর জেদের কাছে হার মানার অর্থ তাকে প্রশ্রয় দেওয়া। আর্থিক সচ্ছলতা থাকলেই সব আবদার মেটাতে হবে, তা ঠিক নয়। কেন চাহিদা পূরণ করা হবে না, তাকে ঠাণ্ডা মাথায় বুঝিয়ে দিতে হবে।

শিশুর স্বাভাবিক বিকাশের জন্য তাকে সবসময় ‘হ্যাঁ’ বলা উচিত, কথাটি সবসময় ঠিক নয়। অনেকে নিজের সন্তানের ক্ষেত্রেই হ্যাঁ বলেন। এমন প্রবণতা ভালো ফল বয়ে আনে না। কিছু ক্ষেত্রে শিশুকে অবশ্যই ‘না’ করতে হবে। মা-বাবা জানেন, সে বিষয়গুলো কী। প্রয়োজনে তাদের ‘কৃপণ’, ‘বেরসিক’ও হতে হবে।

রিকশাযোগে যাতায়াতের সময় শিশুকে শিক্ষা দেওয়া যেতে পারে, রিকশাশ্রমিককে কীভাবে সম্বোধন করতে হয়। শিশুর কোমল হাত থেকে কাচের জিনিস পড়ে ভেঙে যেতে পারে, এটি দোষনীয় নয়। কিন্তু ইচ্ছে করে আছড়ে ফেললে তা গুরুত্বের সঙ্গে দেখা উচিত। যথাসময়ে পরিমিতি বোধ জাগ্রত করা গেলে সে এমন করবে না। শৈশবে তাকে শিক্ষা দেওয়া না হলে, একসময় মা-বাবার মনই ভেঙে দিতে পারে সে। কিছু ক্ষেত্রে শিশুকে তাৎক্ষণিক থামিয়ে দেওয়া উচিত। কোন কোন ক্ষেত্রে তা করতে হবে, মা-বাবা কিংবা পরিবারের সদস্যদের তা বুঝতে হবে। শিশুর সব কাজেই মা-বাবার দৃষ্টিভঙ্গি প্রতিফলিত হয়। এর বাইরে শিশু শেখে কিংবা অনুকরণ করে খেলার সঙ্গীদের। শিশুর কোনো আচরণ অনাকাক্সিক্ষত মনে হলে খোঁজ নিয়ে দেখতে হবে, কার কাছ থেকে শিখেছে সে। ভর্ৎসনা না করে কী শিখতে হবে, কী শেখা যাবে না কিংবা কেন শেখা যাবে না প্রভৃতি বিষয়ে ধারণা দিতে হবে। এ ক্ষেত্রেও কৌশলী হতে হবে মা-বাবাকে। শিশুকে সরাসরি বলা যাবে না, ‘ওর সঙ্গে মিশবে না’। এতে অন্য শিশুর প্রতি তার হিংসা বা ক্ষোভ জন্ম নিতে পারে। শিশুকে বোঝাতে গিয়ে এমন কথাও বলে ফেলেন, যা শিশুমনে বিরূপ প্রভাব ফেলতে পারে। যেমন, পড়ালেখার গুরুত্ব বোঝাতে গিয়ে অনেক মা-বাবা সন্তানকে বলেন ‘পড়ালেখা না করলে রিকশাচালক হতে হবে, গার্মেন্টে কাজ করতে হবে।’ শিশু পাল্টা প্রশ্ন করতে পারে শিক্ষিত লোকও রিকশা চালায়, গার্মেন্টে কাজ করে। তাকে বোঝাতে হবে, পড়ালেখা জানা রিকশাচালক কিংবা গার্মেন্টকর্মী তাহলেও অশিক্ষিত লোকের চেয়ে এগিয়ে থাকবে। তারা প্রতারিত হবেন কম। শিক্ষার পরিচয় পেয়ে কোনো মহৎপ্রাণ যাত্রী রিকশাচালককে ভালো কোনো কাজে লাগিয়েও দিতে পারেন, পোশাককর্মীর হতে পারে পদোন্নতি।

সন্তান জšে§র পর তাকে নিয়েই সব স্বপ্ন মা-বাবার। তাদের সব কিছুই আবর্তিত হয় সন্তানকে ঘিরে। আবার একটি নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত শিশু নিজেকে দিয়ে স্বপ্ন দেখে না। যখন দেখতে শুরু করে, তখনও স্বপ্নের স্থায়িত্ব বেশিদিন থাকে না; বারবার বদলে যায়। অনেক মা-বাবা নিজের পছন্দ চাপিয়ে দেন শিশুর ওপর।

কিশোর-তরুণরা উঠতি বয়সেই যে নিষ্ঠুর হয়ে উঠছে, তার জন্য পরিবার বিশেষ করে মা-বাবার দায়ই বেশি। সন্তানের পেছনে গোয়েন্দাগিরি নয়, তাকে অবিশ্বাস করাও নয়; একটু বিচক্ষণ হওয়াই যথেষ্ট। কিশোর সন্তান কী করছে, মা-বাবা তা জানবেন না কেন। উদাহরণ: মা জানেন এসএসসি পরীক্ষার্থী মেয়ে নিজের কক্ষের দরজা-জানালা বন্ধ করে সারারাত পড়ালেখা করছে। অন্যদের কাছে বলেও বেড়াচ্ছেন, ‘মেয়ের তো দেখি চেষ্টার কমতি নেই।’ আত্মীয়রা নিজ নিজ সন্তানদের বকুনি দিচ্ছেন ওই মেয়ের মতো চেষ্টা করছে না বলে। অথচ স্ট্যাটাস ও ছবি পোস্ট করার সময়কাল প্রমাণ করে, ওই রাতগুলোয় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যস্ত ছিল মেয়েটি। সাম্প্রতিক সময়ে কিশোরদের দ্বারা সংঘটিত সব অপরাধ (বিশেষ করে হত্যাকাণ্ড) নিয়ে তদন্ত-গবেষণা করলে উঠে আসবে, হামলাকারী বা হামলার শিকার কিশোরের বিষয়ে উদাসীন ছিলেন মা-বাবা কিংবা অভিভাবকরা।

বয়স যা-ই হোক, সন্তান মাত্রেই মা-বাবার কাছে ‘শিশু’। ‘আমি তো আমার সন্তানকে জানি’ বলে সন্তানের সীমাবদ্ধতাকে প্রশ্রয় দেন অনেক মা-বাবা। এদের কেউ সন্তানের সাফাই গেয়ে বলেন, ‘আমার সন্তান এমন কাজ করতে পারে না’। ধরা পড়ার পরও বলেন, অমুকের সঙ্গে মিশে বখে গেছে; যেন তার কিছুই করার ছিল না। সন্তানের জন্য প্রশ্ন ফাঁসে জড়িত ছিলেন এসএসসি পরীক্ষার্থীদের অভিভাবকরা। তাহলে শিশু নৈতিকতায় শিখবে কীভাবে!

শিশুরা পরিবার ও সমাজ থেকে শিক্ষা গ্রহণ করে। ঢালাও সমালোচনায় বেড়ে উঠলে শিশু নিন্দা করতে শেখে। মা-বাবা কিংবা পরিবারের সদস্যদের মধ্যে নিয়ত শত্রুতা বিরাজ করলে শিশু হানাহানি করতে শেখে। উপহাসের মধ্যে বেড়ে উঠলে শিশু লাজুক হয়ে উঠে। কলঙ্কিত পরিবেশে শিশু অপরাধবোধে প্ররোচিত হয়। ধৈর্যের সঙ্গে পরিচর্যা করলে শিশু সহিষ্ণুতাবোধে উজ্জীবিত হয়। গঠনমূলক সমালোচনা ও প্রশংসা পেলে আত্মবিশ্বাসী হয়ে ওঠে। নৈতিকতাসম্পন্ন পরিবেশে বেড়ে উঠলে সমবয়সীদের চেয়ে স্পষ্ট ব্যবধানে এগিয়ে থাকে শিশু। ভালো কাজে স্বীকৃতি পেলে শিশু যোগ্য নাগরিক তথা ভালো মানুষ হয়ে ওঠায় উৎসাহিত হয়। শিশুদের যথাযথভাবে বেড়ে ওঠায় আমাদের পরিবারগুলো কি অর্থবহ ভূমিকা রাখছে!

সন্তানকে অনন্য করে তুলতে মা-বাবা কত কী করেন! নবজাতকের নাম রাখার ক্ষেত্রে উচ্চশিক্ষিত মা-বাবাও খেই হারিয়ে ফেলেন। ১৯৯৭ সালে অষ্টম শ্রেণিতে মেধাবৃত্তি পাওয়া এক শিশুকে নিয়ে পত্রিকায় প্রকাশার্থে পাঠানো বিজ্ঞপ্তির কথা মনে পড়ে। শিশুটির মা-বাবা উভয়েই স্নাতকোত্তর। তাদের ছেলের নাম ইবনে বতুতা (প্রকৃত নাম নয়)। কিন্তু ছেলেটির বাবার নাম বতুতা নয়। ইবনে বতুতা সুন্দর নাম, এলাকায় এ নামে কেউ নেই যুক্তিতে ‘আনকমন’ নাম রাখলেন। তারা ভাবেননি, এটির অর্থ ‘বতুতার ছেলে’। এরই মধ্যে শিশুটি শিক্ষাগত যোগ্যতার অনেক সনদ অর্জন করছে। নাম পরিবর্তনে যা ঝামেলা, এতগুলো সনদে তা পরিবর্তন করা হবে না। তাতে বাকি জীবন ‘বতুতার ছেলে’ হিসেবেই পরিচিত হবে সে। শুধু নামের ক্ষেত্রে ছেলেকে ‘অনন্য’ করতে চান মা-বাবা, সন্তানকে মেধা, মনন, বিনয় ও নৈতিকতায় ‘অনন্য’ করার চেষ্টাও থাকতে হবে। পরিবারের মূল কাজ কিন্তু সেটিই।

 

গণমাধ্যমকর্মী

[email protected]