পরিবার থেকেই শুরু হোক জ্বালানি সাশ্রয়ের শিক্ষা

বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ প্রতিমন্ত্রী বলেছেন, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সাশ্রয়ের অভ্যাস পরিবার থেকেই গড়ে তোলা উচিত। এতে শুধু আর্থিক সাশ্রয় হয় না, কার্বন নিঃসরণ কমানোর মাধ্যমে পরিবেশবান্ধব দেশ গড়তেও সহায়তা করে। তার বক্তব্যের যথার্থতা নিয়ে সন্দেহ নেই। আমরা মনে করি, প্রতিমন্ত্রীর এ বক্তব্যকে প্রত্যেক অভিভাবকের গ্রহণ করা উচিত গুরুত্বসহকারে। সন্তানকে এ ব্যাপারে তারা যদি প্রয়োজনীয় শিক্ষা দেন ও তাদের অভ্যাস গড়ে তুলতে সচেষ্ট হন, তাহলে জ্বালানি বাবদ ব্যয়ই শুধু কমে আসবে না অপচয় কমানো গেলে অনাকাক্সিক্ষতভাবে সৃষ্ট সংকটও কিছুটা এড়ানো যাবে। পরিবারই শিশুর প্রথম বিদ্যাপীঠ। এখান থেকে জ্বালানি সাশ্রয়ের অভ্যাস গড়ে তোলা গেলে জীবনের অন্যান্য ক্ষেত্রেও এটা মেনে চলা তার পক্ষে সহজ হবে। বস্তুত আমাদের সমাজে অনেক অভিভাবক রয়েছেন, যারা নিজেরাই অসচেতন। তারা সন্তানকে এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় শিক্ষা দিতে পারবেন বলে মনে হয় না। এজন্য অভিভাবকদের মধ্যে সচেতনতা সৃষ্টিতেও উদ্যোগ কাম্য।

অভ্যন্তরীণ চাহিদা অনুযায়ী বিদ্যুৎ উৎপাদন ও সরবরাহে এখনও অনেকটা পিছিয়ে আমরা। অনেক ক্ষেত্রেই সংকট তীব্র হচ্ছে অপচয় রোধ করতে না পারায়। গ্যাসের ক্ষেত্রেও রয়েছে অপচয়ের বড় অভিযোগ। বস্তুত সময়ের সঙ্গে দেশে জ্বালানি চাহিদা বাড়ছে। এর সঙ্গে সংগতি রেখে বিদ্যুৎ ও গ্যাস উৎপাদন কিন্তু বাড়ছে না। উপরন্তু নিকট ভবিষ্যতে দেশে প্রাকৃতিক গ্যাসের মজুত শেষ হয়ে যাওয়ার আভাস দিচ্ছেন কোনো কোনো বিশেষজ্ঞ। এ অবস্থায় দৈনন্দিন চাহিদা পূরণে জ্বালানি সাশ্রয়ী নীতি অবলম্বনের বিকল্প নেই। পরিবারের শিশু সদস্যদের যদি সচেতন করে তোলা না যায়, তাহলে এ ক্ষেত্রে সাফল্য অর্জন সম্ভব বলে মনে হয় না। এ উদ্যোগ সফল করতে সরকারের পক্ষ থেকে বিভিন্ন মাধ্যমে প্রচারও প্রত্যাশিত।

সন্তানকে শিক্ষা দেওয়া উচিত পানির মতো প্রাকৃতিক সম্পদ ব্যবহারের বিষয়েও। যে শিশু বাসায় পানির ট্যাপ যথাযথভাবে বন্ধ করতে অভ্যস্ত নয়, বিদ্যালয়ে গিয়ে তার মধ্যে এ বিষয়ে বোধোদয় হবে কীভাবে? উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের মধ্যেও দেখা যায় এ ব্যাপারে অসচেতনতা। কর্মস্থলেও একশ্রেণির মানুষের মধ্যে লক্ষ করা যায় জ্বালানি অপচয়ের প্রবণতা। শৈশবেই যদি এ বিষয়ে শিক্ষা প্রদান ও অভ্যাস গড়ে তোলা যায়, তাহলে শিশুটি বরং সচেতন করে তুলবে আশেপাশের মানুষকে। এতে ওই শিশু ও তার পরিবার তো বটেই, সামগ্রিকভাবে উপকৃত হবে রাষ্ট্রও। এজন্য জ্বালানি সাশ্রয়ের ব্যাপারে সচেতনতা সৃষ্টি করতে হবে তৃণমূল থেকে। বিভিন্ন পর্যায়ের পাঠ্যপুস্তকে ইতোমধ্যে সংযোজন করা হয়েছে জীবনমুখী কিছু হালনাগাদ ইস্যু। জ্বালানি সাশ্রয়ের গুরুত্ব পাঠ্যপুস্তকের মাধ্যমে শিশুদের কাছে উপস্থাপন করা হলে কাক্সিক্ষত লক্ষ্যে পৌঁছানো কিছুটা হলেও সহজতর হবে। দৈনন্দিন জীবনের নানা কর্মকাণ্ডে কী উপায় অবলম্বন করলে এটি সম্ভব, সে বিষয়ে তাদের শিক্ষা দিতে হবে হাতে-কলমে। ব্যবহারিক কিছু ক্ষেত্রে দক্ষতার উন্নয়ন ঘটিয়েও জ্বালানি সাশ্রয় সম্ভব।