সম্পাদকীয়

পরিবেশ দূষণের বিরুদ্ধে অভিযান চলমান থাকুক

বর্তমানে জলবায়ু পরিবর্তনজনিত সমস্যা বৈশ্বিক বিষয়। জীববৈচিত্র্য বিনষ্ট হওয়াসহ বিভিন্ন প্রাকৃতিক দুর্যোগের জন্য পরিবেশ দূষণকেই দায়ী করা হয়। বিভিন্নভাবে পরিবেশ দূষণ হতে পারে। এর মধ্যে রয়েছে কারখানার তরল বর্জ্য নদীতে মিশে পানি দূষিত হওয়া ও নিঃসরণককৃত গ্যাসের মাধ্যমে ফল-ফসল-পরিবেশের ক্ষতি হওয়া। এসব বিষয়ে সরকার সচেতন এবং প্রতিকারে ব্যবস্থাও নেওয়া হচ্ছে। রূপকল্প-২০২১ অনুসারে দূষণমুক্ত বসবাসযোগ্য সুস্থ, সুন্দর ও মডেল বাংলাদেশ গড়ে তোলার পরিকল্পনা নিয়েছে সরকার। পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের অধীন অন্তত ছয়টি অধিদফতর, সংস্থা, ইনস্টিটিউট ও ট্রাস্ট বর্তমান এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য নিরাপদ পরিবেশ গড়ে তোলার লক্ষ্যে নিরন্তর কাজ করছে। পরিবেশ-সংক্রান্ত আইন-কানুন ও বিধিবিধানের যথাযথ প্রয়োগসহ পরিবেশ বিষয়ে জনসচেতনতা বৃদ্ধিতে বিভিন্ন ব্যবস্থা নিচ্ছে। এত ব্যবস্থা নেওয়া সত্ত্বেও পরিবেশ দূষণ চলছেই। প্রায়ই গণমাধ্যমে আসছে এ-সংক্রান্ত খবর। পরিবেশ দূষণের দায়ে গত ২৮ ও ২৯ মে ঢাকা, গাজীপুর, নরসিংদী ও টাঙ্গাইলের ১০ কারখানাকে এক কোটি পাঁচ লাখ ৬৮ হাজার ৭৮৪ টাকা জরিমানা করেছে পরিবেশ অধিদফতর। ৩১ মে শেয়ার বিজে প্রকাশিত ‘পরিবেশ দূষণে ১০ কারখানাকে কোটি টাকা জরিমানা’ শীর্ষক প্রতিবেদন পাঠকের দৃষ্টি আকর্ষণ করে থাকবে। এ খবর যুগপৎ হতাশা ও বিস্ময়ের। জরিমানাও নিবৃত্ত করতে পারছে না পরিবেশ দূষণকারী ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে, এটি হতাশার খবরই। তবে পরিবেশ অধিদফতরের অভিযান নিঃসন্দেহে প্রশংসার্হ। দুঃখজনক বিষয় হলো, পরিবেশ দূষণের দায়ে দণ্ডিত প্রতিষ্ঠানগুলো অখ্যাত প্রতিষ্ঠান নয়। যেমন, আকিজ ফুড অ্যান্ড বেভারেজ, গাজীপুরের বিএইচটি ইন্ডাস্ট্রিজ, অ্যাপারেল আর্ট লিমিটেড, গোল্ডেন হারভেস্ট, পারফেটি ভ্যান মিলি বাংলাদেশ লিমিটেড, ওয়ান কম্পোজিট মিলস, কিউপিড ওয়াশ, আশুলিয়ার ইয়ং জিন ইন্টারন্যাশনাল, টাঙ্গাইলের আলাউদ্দিন টেক্সটাইল ও নরসিংদীর হাসান টেক্সটাইল লিমিটেড। এটি অর্থের জোরে আইন লঙ্ঘন প্রবণতার দৃষ্টান্ত বলেই প্রতীয়মান।
জলবায়ু পরিবর্তনজনিত সমস্যা ও বৈশ্বিক উষ্ণায়নের জন্য উন্নত বিশ্বকে দায়ী করা হয়। আর এজন্য ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে উন্নয়নশীল দেশগুলো। কিন্তু উন্নয়নশীল দেশগুলোর অভ্যন্তরীণ কারণেও পরিবেশ বিনষ্ট হচ্ছে। শিল্প-কারখানায় বর্জ্য শোধনাগার ইফ্লুয়েন্ট ট্রিটমেন্ট প্লান্ট (ইটিপি) না থাকা দণ্ডনীয় অপরাধ। অনেক কারখানায়ই তা নেই। তাই পরিবেশ দূষণকারী প্রতিষ্ঠানগুলোকে পরিবেশবান্ধব ব্যবস্থা নেওয়ায় উদ্বুদ্ধ করতে হবে। প্রয়োজনে বাধ্য করতে হবে পরিবেশ সংরক্ষণ আইন পরিপালনে। আমরা আশা করি, তরল বর্জ্য ফেলে পরিবেশ দূষণ করা এবং ছাড়পত্র ছাড়া কারখানা পরিচালনাকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া অব্যাহত থাকবে। এ ক্ষেত্রে শূন্য সহনশীলতাই কাম্য।

সর্বশেষ..