পরিবেশ বিপর্যয় রোধ করতে  আমরা কতটা সচেষ্ট

তৌহিদুর রহমান: প্রযুক্তির উৎকর্ষের সঙ্গে সঙ্গে পৃথিবীর অনেক কিছুই এখন দ্রুত পরিবর্তিত হচ্ছে। অনেক কাজে এখন মানুষের পরিবর্তে স্বয়ংক্রিয়তার ব্যবহার ব্যাপক আকারে বাড়ছে। ফলে উৎপাদনের গতি বাড়ার পাশাপাশি কাজকর্মও নিখুঁত হচ্ছে। এককথায় চারদিকে এখন কৃত্রিম প্রযুক্তির জয়জয়কার। আজকের বিশ্বে প্রযুক্তিগত অসাধারণ সব উদ্ভাবন অনেক দেশের অর্থনীতিকে যেমন ফুলিয়ে-ফাঁপিয়ে বড় করে তুলেছে, মানুষের জীবনযাত্রায়ও এনেছে স্বাচ্ছন্দ্য। এটা বিশ্ব ব্যবস্থায় অবশ্যই বড় একটি পরিবর্তন। তবে এর বিপরীতে বড় ধরনের বিপর্যয়কর পরিস্থিতিও বিশ্বকে হাতছানি দিয়ে ডাকছে। তা হলো কৃত্রিমতার বিকাশের সঙ্গে সঙ্গে প্রাকৃতিক পরিবেশ ধ্বংসের মাত্রাও আশঙ্কাজনকহারে বাড়ছে। আর বিশ্বে পরিবেশ বিপর্যয়ের কারণে যে দেশগুলো সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে রয়েছে, তার মধ্যে একটি বাংলাদেশ। কিন্তু এ বিপর্যয়ের হাত থেকে রক্ষা পেতে বাংলাদেশ আসলে কতটা প্রস্তুত? আর এ বিষয়ে উদ্যোগই বা কতটা?
বলা হয়ে থাকে একটি দেশের পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষার জন্য মোট আয়তনের ২৫ শতাংশ বনভূমি থাকা প্রয়োজন। কিন্তু বিভিন্ন পরিসংখ্যানে দেখানো হয়, দেশে মোট বনভূমির পরিমাণ ১৫ থেকে ১৮ শতাংশের মধ্যে। বাস্তবে তাও আছে কি না, এ নিয়ে বড় ধরনের একটি প্রশ্ন থেকেই যায়। পরিবেশ বিপর্যয়ের প্রভাবে দেশের অনেক অঞ্চলেই বিরূপ প্রভাব পড়তে শুরু করেছে। অসংখ্য পশুপাখি বিলুপ্ত হয়ে গেছে, আরও অনেকগুলো বিলুপ্তির পথে। এ তালিকায় বাংলাদেশের পরিচয়কে বিশ্বের বুকে গৌরবের সঙ্গে তুলে ধরা রয়েল বেঙ্গল টাইগারের পাশাপাশি ডলফিনও রয়েছে। অনেক আগে থেকেই মাছে-ভাতে বাঙালি বলে এদেশের মানুষের একটি পরিচয় রয়েছে, কিন্তু সে পরিচয়ও আজ হুমকিতে। দেশীয় প্রজাতির অনেক মাছই বিলুপ্ত হয়ে গেছে। বাজারে যেসব দেশি মাছ এখন কালেভদ্রে দেখা পাওয়া যায় তার দামও আকাশছোঁয়া।
বাংলাদেশের পরিবেশ বিপর্যয়কর অবস্থার মধ্যে পড়ার ক্ষেত্রে সাধারণ মানুষের দায়ও কম নয়। চট্টগ্রাম, সিলেটসহ দেশের পাহাড়ি অঞ্চলের বনভূমির গাছ ও পাহাড়ের মাটি কেটে সাবাড় করা হচ্ছে। এর মধ্যে সিলেট অঞ্চলে পাথর কোয়ারিতে গত কয়েক বছরে বেশ কিছু প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে। চট্টগ্রাম অঞ্চলেও পাহাড়ধসে প্রাণ হারিয়েছেন অসংখ্য মানুষ। নদী থেকে অবাধে বালি তুলে নদীর স্বাভাবিক যাত্রাকেও বাধাগ্রস্ত করা হচ্ছে, সঙ্গে নদীগুলো হারিয়ে যাওয়ার সব বন্দোবস্তও করে রাখা হয়েছে। উপকূলীয় অঞ্চলেও গড়ে তোলা হয়েছে অসংখ্য জাহাজভাঙা শিল্প। পুরোনো জাহাজের ক্ষতিকর পোড়া তেল-মবিলসহ নানা ধরনের বিষাক্ত উপাদান পানি, মাটি ও বাতাসে মিশে যাচ্ছে। পাশাপাশি উপকূলীয় বনভূমি ধ্বংস করা হচ্ছে প্রতিনিয়ত। সমুদ্রের যেসব এলাকা মাছ থেকে শুরু করে হাজারো প্রাণীর বাসস্থান, তাও ধীরে ধীরে ধ্বংস করে দেওয়া হচ্ছে। সুন্দরবন এলাকা দিয়ে অবাধে চলছে বড় বড় জাহাজ। সম্প্রতি সেখানে কয়লাবোঝাই জাহাজডুবির ঘটনা ঘটেছে। এর আগে সেখানে তেলবোঝাই জাহাজ ডুবে গেলে বিশ্বব্যাপী তোলপাড় পড়ে যায়।
তবে বাংলাদেশের পরিবেশ ধ্বংসে সাম্প্রতিক সময়ের দুটি বিষয় বাংলাদেশসহ সারা বিশ্বেই নতুন করে আলোচনার জš§ দিয়েছে। এর একটি হলো সুন্দরবনকে কেন্দ্র করে অদূরদর্শী সব সিদ্ধান্ত। আর অপরটি হলো কক্সবাজার অঞ্চলে রোহিঙ্গা শরণার্থীদের আশ্রয় দিতে গিয়ে পরিবেশের মারাত্মক ক্ষতি করা। গত কয়েক দশকের মধ্যে সাম্প্রতিক সময়েই সম্ভবত সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে রয়েছে সুন্দরবন। বিশ্বের সবচেয়ে বড় লোনাপানির বনের অদূরেই গড়ে তোলা হচ্ছে রামপাল কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র। এ বিদ্যুৎকেন্দ্র নিয়ে বাংলাদেশসহ সারা বিশ্বের পরিবেশবাদীদেরই আপত্তি রয়েছে। বলা হয়ে থাকে, এ বিদ্যুৎকেন্দ্র চালু হয়ে গেলে সুন্দরবনসহ এর আশপাশের প্রাকৃতিক পরিবেশে ভয়ানক বিরূপ প্রভাব পড়বে। এছাড়া সুন্দরবনের কোলঘেঁষে অবস্থিত মংলা বন্দরকে কেন্দ্র করে আরও অসংখ্য শিল্পকারখানা গড়ে তোলা হয়েছে, যেগুলো সুন্দরবনের ক্ষতি করবে বলে পরিবেশবাদীরা মনে করেন। সুন্দরবনে বাঘ, হরিণ, কুমির, সাপসহ অন্তত দুই হাজার দুইশ প্রজাতির বিভিন্ন ধরনের মেরুদণ্ডী ও অমেরুদণ্ডী প্রাণী রয়েছে। এর মধ্যে বাঘ, হরিণ, কুমিরসহ বিভিন্ন ধরনের প্রাণীর অনেক প্রজাতি বিলুপ্তির পথে রয়েছে। এছাড়া এ বনের প্রাণ হিসেবে পরিচিত সুন্দরী ও গোলপাতাসহ বিভিন্ন ধরনের গাছ ও উদ্ভিদের পরিমাণও আশঙ্কাজনকহারে কমছে, যার মূল কারণ হিসেবে সুন্দরবনের সংকোচন ও গাছপালা সাবাড় করাকে বহুলাংশে দায়ী করা হয়।
এর পাশাপাশি সম্প্রতি বাংলাদেশে পরিবেশের আরও বড় ধরনের ক্ষতি হয়ে গেছে। মিয়ানমারের সেনাবাহিনীর দমন-পীড়নের মুখে পালিয়ে আসা ১০ লাখেরও বেশি রোহিঙ্গা বাংলাদেশের তিন পার্বত্য জেলায় আশ্রয় নিয়েছে। সেখানে প্রায় ১০ হাজার একর জায়গাজুড়ে তাদের জন্য আশ্রয়কেন্দ্র স্থাপন করা হয়েছে। তাদের তৈরি করা আশ্রয়কেন্দ্রগুলোর প্রায় পুরোটাই পাহাড় কেটে তৈরি করা হয়েছে। আর এটা করতে গিয়ে সেখানকার লাখ লাখ গাছ কেটে সাবাড় করা হয়েছে। পাহাড় কেটে সেখানে বড় ধরনের একটা পথ তৈরি করা হয়েছে। শুধু এখানেই শেষ নয়, রোহিঙ্গাদের খাবারের ব্যবস্থা করতে প্রতিদিন পুড়ছে অন্তত পাঁচ কোটি টাকার গাছ! এর পরিমাণ প্রায় সাত লাখ কেজি! এতে হাতিসহ বিভিন্ন বন্যপ্রাণীর আবাসস্থলের বড় অংশ ধ্বংস হয়ে গেছে। আরও কিছুদিন সেখানে রোহিঙ্গাদের অবস্থান থাকলে ওই এলাকায় বনভূমি বলে
যে কিছু থাকবে না।
পাহাড়ি এলাকার পরিবেশ আরও ঝুঁকিপূর্ণ করে তুলেছে এদেশের একশ্রেণির অসাধু ব্যবসায়ী ও ক্ষমতাসীনরা। তারা বসতি নির্মাণ, মাটি বিক্রি কিংবা পাথর তুলতে গিয়ে প্রতিনিয়ত পাহাড় ধ্বংস করছে। এতে অসংখ্য মানুষের জীবনহানির ঘটনাও ঘটেছে। কিছু ক্ষেত্রে সরকারি উন্নয়ন কর্মকাণ্ড পরিচালনা করতে গিয়েও পাহাড় সাবাড় করা হচ্ছে বলে খবর পাওয়া যাচ্ছে। দেশের অনেক নদী স্বাভাবিক নাব্য হারিয়েছে অনেক আগে। এখন সেগুলো থেকে বালি উত্তোলন করে কিংবা চলার পথে নানা ধরনের প্রতিবন্ধকতা তৈরি করা হচ্ছে। অনেক স্থানে নদীর তীর দখল করে গড়ে তোলা হয়েছে অবৈধ স্থাপনা। মোটকথা বৈশ্বিক জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে পরিবেশের বড় ধরনের বিপর্যয় তো ঘটেছেই, এখন আমরা নিজেরাও পরিবেশের আরও ক্ষতি করার জন্য উঠেপড়ে লেগেছি।
গত ৫ জুন পালিত হয়েছে বিশ্ব পরিবেশ দিবস। এদিন দেশের কয়েকটি জাতীয় দৈনিক পরিবেশ দূষণের একটি ভয়ানক দিক নিয়ে প্রতিবেদন ছাপিয়েছে। তা হলো প্লাস্টিক বর্জ্যরে লাগামহীন বৃদ্ধি। এসব খবরে বলা হচ্ছে, দেশের শহরের খালসহ জলাধারগুলো ক্ষতিকর প্লাস্টিক বর্জ্যে ভরে গেছে। এছাড়া প্লাস্টিক বর্জ্যে সৃষ্ট দূষণে প্রতি বছর অন্তত ১০ লাখ প্রাণীর মৃত্যু হচ্ছে। প্লাস্টিকের মাধ্যমে ভয়ানক এ মৃত্যুফাঁদ আমরাই তৈরি করে রেখেছি। এদেশে প্লাস্টিক পুনর্ব্যবহারের তেমন কোনো ব্যবস্থা এখনও গড়ে ওঠেনি। ফলে সেগুলো আবর্জনা হিসেবে ফেলে দেওয়া হচ্ছে। শুধু তা-ই নয়, বাজারে পলিথিন নিষিদ্ধ থাকলেও তা মানা হচ্ছে না; বরং আমরাই বিভিন্ন ধরনের পণ্য কিনতে গিয়ে খুব সচেতনভাবেই বিক্রেতাদের কাছ থেকে পলিথিন গ্রহণ করছি! সেগুলোই ব্যবহার শেষে ফেলে দেওয়া হচ্ছে। ফলে পরিবেশের ক্ষতি যা হওয়ার তা হয়ে যাচ্ছে। আমরা নিজেরাই নিজেদের মৃত্যুফাঁদ তৈরি করছি।
পরিবেশের এ বিপর্যয়কর অবস্থা থেকে পরিত্রাণ পেতে হলে আমাদেরই উদ্যোগী হতে হবে। তবে সবার আগে এগিয়ে আসতে হবে সরকারকেই, কারণ পরিবেশদূষণের মতো বিশাল ও গুরুত্বপূর্ণ বিষয় শুধু সাধারণ মানুষের ওপর ছেড়ে দিলে তা কখনোই সুফল বয়ে নিয়ে আসবে না, বরং পরিস্থিতি আরও খারাপ হবে। সরকারিভাবে কোনো উদ্যোগ নিয়ে সেটি বাস্তবায়নের পদক্ষেপ নিলে যেকোনো ধরনের অবস্থা থেকেই পরিত্রাণ পাওয়া সম্ভব। তবে আশার কথা হলো বাংলাদেশসহ বিশ্বের অর্ধশতাধিক দেশ প্লাস্টিকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিয়েছে বলে জাতিসংঘের এক প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। বাংলাদেশের সরকার পলিথিন ব্যাগ নিষিদ্ধ করলেও বিষয়টি বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে ঘাটতি রয়েছে বলে জানানো হয়েছে।
সরকারিভাবে পরিবেশ রক্ষার ক্ষেত্রে যে উদ্যোগ নেওয়া যেতে পারে, তার মধ্যে সবার শীর্ষে থাকা উচিত প্লাস্টিক বর্জ্যরে মতো বিষয়গুলো রোধ করার উদ্যোগ নেওয়া। পলিথিন কাগজ নিষিদ্ধ করার পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট আইন থাকা সত্ত্বেও সেগুলো কঠোরভাবে বাস্তবায়নের অভাবে এর সুফল ভালোভাবে পাওয়া যাচ্ছে না। বাজারে মাঝে মাঝে পলিথিনবিরোধী অভিযান চালানো হলেও কিছুদিন পরে তা আবার স্বাভাবিক পর্যায়ে চলে যাচ্ছে। এছাড়া ইটভাটা বা কল-কারখানার পরিবেশদূষণের বিষয়েও কার্যকর তেমন কোনো ব্যবস্থা সরকারিভাবে নেওয়া হচ্ছে না। অবশ্য এসব কারখানার পেছনে অধিকাংশ ক্ষেত্রেই ক্ষমতাসীন ও প্রভাবশালী ব্যবসায়ীরা জড়িত থাকে। তারা নানাভাবে দূষণ রোধে নেওয়া উদ্যোগ বাধাগ্রস্ত করে। সরকারকে এ বিষয়গুলো বন্ধ করে পরিবেশদূষণ রোধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। যারা পরিবেশদূষণের সঙ্গে জড়িত তাদের আইনের আওতায় নিয়ে এসে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করতে হবে। শিল্পকারখানা ও ইটভাটা পরিবেশবান্ধব করা পরিবেশ রক্ষায় একটি অত্যন্ত ভালো উদ্যোগ হতে পারে। পরিবেশ বিষয়ে স্কুল পর্যায় থেকে সচেতনতা তৈরি করাটাও খুবই গুরুত্বপূর্ণ। নদী, খাল, বিল রক্ষায়ও সরকারকে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।
দ্বিতীয়ত, সরকারিভাবে সবুজ বিপ্লব করার উদ্যোগ নেওয়াটা এখন সময়ের দাবি। দেশের প্রতিটি নাগরিককে কিংবা প্রতিটি পরিবারে যদি একটি করে গাছ লাগানোর উদ্যোগ নেওয়া সম্ভব হয়, তাহলে দেশে লাখ লাখ গাছ লাগানো সম্ভব হবে। ফলে পরিবেশের জন্য বড় ধরনের একটা বিপ্লব হবে। যদিও কয়েক বছর ধরেই স্বল্প পরিসরে হলেও গাছ লাগানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়, তবে তা পর্যাপ্ত নয়। এছাড়া সম্প্রতি বজ্রপাতে বিপুল পরিমাণ প্রাণহানির ঘটনার পর তালগাছ লাগানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এটা ভালো খবর। তবে শুধু তালগাছই নয় প্রকৃতির ভারসাম্য রক্ষার জন্য সব ধরনের গাছই লাগানোর উদ্যোগ নিতে হবে। কারণ প্রতিটি প্রজাতির গাছেরই কোনো না কোনো ভালো দিক রয়েছে। গাছ লাগানোর পর সেগুলোর পরিচর্যা করাও জরুরি। এছাড়া জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় বৈশ্বিক বিভিন্ন ফান্ড থেকে যে অর্থ পাওয়া যাচ্ছে, সেগুলোরও যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে। এ বিষয়টি নিয়ে প্রায়ই নেতিবাচক সংবাদ গণমাধ্যমে প্রকাশিত হতে দেখা যায়। এছাড়া দেশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর প্রত্যেক শিক্ষার্থীকে যদি অন্তত একটি করে গাছ লাগানোর ব্যবস্থা করানো যায়, তাহলে এর সুফল কতটা ইতিবাচক হবে তা সহজেই অনুমেয়।
পরিবেশ রক্ষায় সাধারণ মানুষের বিরাট ভূমিকা রাখার সুযোগ রয়েছে, কারণ পরিবেশদূষণের জন্য আমরা সাধারণ মানুষই বহুলাংশে দায়ী। প্লাস্টিকের মতো ক্ষতিকর অনেক কিছুই আমরা যত্রতত্র ফেলে পরিবেশ নষ্ট করছি। গাছ কেটে তো সাবাড় করছিই, পাশাপাশি সেগুলো পুড়িয়ে পরিবেশের আরও ক্ষতি করছি। এ বিষয়ে সচেতন হওয়ার এখনই সময়। আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজšে§র জন্য বাসযোগ্য পৃথিবী আমাদেরই নিশ্চিত করে যেতে হবে। সেজন্য কাণ্ডজ্ঞানহীনভাবে পরিবেশ ধ্বংস করার কোনো অধিকারই আমাদের নেই। গাছ যদি কাটতেই হয় তবে একটির পরিবর্তে ১০টি নতুন গাছ লাগানো উচিত। প্লাস্টিক কিংবা পলিথিন যত্রতত্র না ফেলে সেগুলো পুনর্ব্যবহার বা বিক্রি করতে হবে, কিংবা নির্দিষ্ট স্থানে ফেলতে হবে। জ্বালানির ক্ষেত্রে কয়লা কিংবা তেলের পরিবর্তে নবায়নযোগ্য শক্তির ব্যবহার বাড়াতে হবে। এছাড়া যে বিষয়গুলো পরিবেশের ক্ষতি করে সেগুলো যাতে আমাদের মাধ্যমে না হয় সে বিষয়টি আমাদেরই নিশ্চিত করতে হবে। প্রয়োজন হলে কোথাও পরিবেশদূষণ করতে দেখা গেলে সবাই মিলে তা প্রতিরোধ করারও উদ্যোগ নিতে হবে।

গণমাধ্যমকর্মী
[email protected]