পর্যটন বিকাশে সহায়ক হবে বিশেষ উদ্যোগ

কক্সবাজার সৈকতে নারীদের সমুদ্র স্নানের জন্য ১০০ মিটার এলাকা সংরক্ষণের একটি উদ্যোগের খবর পাওয়া গেল গতকাল সহযোগী দৈনিকের প্রতিবেদনে। জেলা প্রশাসনের এমন উদ্যোগের খবরে নির্বিঘ্নে সমুদ্র স্নানে উৎসাহী নারী পর্যটকরা খুশি হবেন। উদ্যোগটি এখনও পরীক্ষামূলক। তাই এ মুহূর্তে এতে কিছু সীমাবদ্ধতা থাকতেই পারে। যেমন, পুরুষরাও হয়তো সেখানে গিয়ে আগের মতো স্নান সারছেন। প্রশাসনকেও প্রস্তুতিমূলক কাজ সারতে হচ্ছে বলে খবরে প্রকাশ। এর মধ্যে রয়েছে নারী উদ্ধারকর্মী নিয়োগ। একটা সময়ে কক্সবাজার সৈকতে কোনো উদ্ধারকর্মীর ব্যবস্থাই ছিল না। বিশেষত নানা সময়ে সংঘটিত দুর্ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে এমন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে দেরিতে হলেও। নিরাপদ সমুদ্র স্নানের জন্য সংকেত প্রদানের ব্যবস্থা উন্নত হয়েছে এবং পর্যটকদের মধ্যেও বেড়েছে সমুদ্রের আচরণ বুঝে চলার বিষয়ে সতর্কতা। এদেশের অনেকে এখন এশিয়াসহ উন্নত দেশগুলোয়ও নিছক ভ্রমণের উদ্দেশ্যে যাচ্ছে। সেখান থেকেও তারা কম শিখছে না। তথ্যের দিক থেকে মুক্ত দুনিয়াও আমাদের আধুনিক ও নিরাপদ পর্যটনে উদ্বুদ্ধ করছে। নারীর জন্য পৃথক স্নানের ব্যবস্থা করার উদ্যোগ তারই অংশ বলা যায়। এটি সব নারীর জন্যই হবে স্বস্তিকর; রক্ষণশীলদের জন্য হবে বেশি সুবিধাজনক। এর সীমাবদ্ধতাও রয়েছে; কেননা তাদের অনেকে হয়তো পুরুষসঙ্গী ছাড়া ওখানে একা স্নানে নামতে চাইবেন না। সেক্ষেত্রে নির্ভরযোগ্য উদ্ধারকর্মীর ব্যবস্থা হলে হয়তো ভরসা পাবেন। ব্যবস্থাটি জনপ্রিয় হয়ে উঠলে সেন্ট মার্টিন ও কুয়াকাটা সৈকতেও এটি করতে হতে পারে।

এখন পর্যটনের ভরা মৌসুম। নারী-পুরুষ ও শিশু মিলিয়ে প্রচুর পর্যটক রয়েছেন কক্সবাজারে। কিছুদিন বন্ধ থাকলেও সেন্ট মার্টিনে যাত্রীবাহী বড় নৌযানগুলো চলাচল করছে। হোটেল-মোটেলসহ পর্যটন ব্যবসায় সংশ্লিষ্টরা এখন ভালো ব্যবসা করছেন বলেই ধারণা। সবার জন্য নিরাপদ ও নির্বিঘœ সমুদ্র স্নানের ব্যবস্থা এটাকে আরও জোরদার করবে বলেই মনে করি। এ মৌসুমে উদ্যোগটি নেওয়া হয়েছেÑভালো। আমরা যেন পরের ভরা মৌসুমেই এর সুন্দর বাস্তবায়ন দেখতে পাই। কক্সবাজারসহ পর্যটন কেন্দ্রগুলোকে নারীবান্ধব করে তোলা বিশেষভাবে প্রয়োজন। কিছুদিন আগে খবর এসেছিল, কক্সবাজারে পর্যটকদের টার্গেট করে নাকি নেমেছে একদল ছিনতাইকারী। সেখানে হঠাৎ করে বিপুলসংখ্যক রোহিঙ্গার উপস্থিতি আর বিচরণেও উদ্বেগ ছড়িয়েছিল। স্থানীয় জনসাধারণেরও উদ্বেগ ছিল এ নিয়ে। এ কারণেও সরকার চাইছে আগত রোহিঙ্গাদের বিভিন্ন স্থানে নিয়ে রাখতে। এর পাশাপাশি পর্যটকদের জন্য বিশেষ সুবিধা করে দেওয়ার পদক্ষেপে বোঝা যায়, পর্যটন বিকাশের দিকে দৃষ্টি রয়েছে সংশ্লিষ্টদের। কক্সবাজারে বিদেশিদের জন্য ‘এক্সক্লুসিভ ট্যুরিস্ট জোন’ গড়ে তোলার উদ্যোগের খবরও পাওয়া গিয়েছিল। এদেশে বিদেশি পর্যটক বড় একটা আসে না। তবে অন্যান্য কাজে এসে হলেও তাদের একাংশ যায় নির্বাচিত কিছু স্পটে। এর মধ্যে রয়েছে কক্সবাজার ও সুন্দরবন। এসব স্থানে তাদের জন্য বিশেষ ব্যবস্থা থাকা সত্যি প্রয়োজন। তাদের নির্বিঘ্ন ও নিরাপদ ভ্রমণের সুযোগ আমাদের ভাবমূর্তিও উজ্জ্বল করবে।