সারা বাংলা

পলিথিনের নৌকায় বাড়ি নেওয়া হচ্ছে বোরো ধান

দুলাল বিশ্বাস, গোপালগঞ্জ: গোপালগঞ্জের ইরি-বোরো ধান কাটার শেষ পর্যায়ে। প্রাকৃতিক দুর্যোগ ফণীর জন্য কোটালীপাড়া উপজেলা ও সদর উপজেলার পাইকেরডাঙ্গার কৃষকদের লাখ লাখ টাকার তরমুজ নষ্ট হয়েছে। ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে পাকা ইরি-বোরো ধানের। গ্রামাঞ্চলে জমিতে বৃষ্টি ও জোয়ারের পানিতে থই থই করছে। অনেক নিচু এলাকায় বৃষ্টি ও খালের পানি এক হয়ে পাকা ধান পানিতে তলো-তলো ভাব। এ অবস্থায় কৃষক পাকা ধান ঘরে তুলতে অধিক ব্যস্ত হয়ে পড়েছেন।
কিছু কিছু নিচু এলাকায় অল্প পানি হওয়ায় না চলে নৌকা, না চলে পাও। আবার মাথায় করে কাটা ধান তুলতেও সমস্যা হচ্ছে। তাই এখানকার কৃষক অল্প খরচে পাকা ধান কাটার পর জমি থেকে পরিবহনের জন্য এক অভিনব কৌশল তৈরি করেছেন এটি হলো পলিথিনের নৌকা।
বাজার থেকে দুই থেকে তিন কেজি পলিথিন কিনে লম্বা করার পর ভেতরে কিছু হাওয়া ঢুকিয়ে দু’পাশে শক্ত করে বেঁধে দেওয়া হয়। এরপর পলিথিনের মাঝের জায়গাটায় ধানের আঁটি ভর্তি করে রাখা হয়, ঠিক যেন একটি নৌকা। আগে থেকে কিছু হাওয়া দিয়ে পানিতে এই নৌকা ভাসালেই হাওয়ায় ভারসাম্য রক্ষা করে। যতই ভর্তি করা হয়, ততই নৌকা পানিতে ভালো চলে। এ নৌকায় করে কাটা ধান হাঁটুপানি থেকে শুরু করে নদী-নালা, খাল-বিলের গভীর পানির মধ্য দিয়ে দু-চারজন কৃষক বেয়ে নিয়ে যান বাড়িতে। নৌকা ডুবে যাওয়ারও কোনো ভয় থাকে না।
এ ব্যাপারে কোটালীপাড়া উপজেলার কলাবাড়ী ইউনিয়নের বুরুয়া গ্রামের কৃষক পরিতোষ বিশ্বাস জানান, পলিথিনের নৌকা তৈরির আগে কাটা ধান বহনের জন্য আমাদের অনেক ঝামেলা হতো; যেমন নৌকা পাওয়া যেত না আর পাওয়া গেলেও গুনতে হতো অনেক টাকা বা ধান। প্রতিদিন নৌকাপ্রতি এক থেকে দুই মণ ধান দিতে হতো, যা কৃষকের জন্য ব্যয়বহুল। সময়ও বেশি লাগত। আর এখন পলিথিনের নৌকা ব্যবহার করে কাটা ধান পরিবহনের জন্য অনেক সময় কম লাগে এবং ব্যয়ও অনেক কম।
কোটালীপাড়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা রথীন্দ্রনাথ বিশ্বাস জানান, পলিথিনের নৌকায় কাটা ধান পরিবহনের জন্য ভালো। যেখানে অল্প পানিতে কাঠের নৌকা চলাচল করতে সমস্যা হয়, সেখানে পলিথিনের নৌকা ব্যবহার করে কৃষকের কাটা ধান বহন করতে সুবিধা হচ্ছে।
জেলার কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপপরিচালক সমীর কুমার গোস্বামী জানান, বৃষ্টি-বর্ষায় পলিথিনের নৌকায় করে ইরি-বোরো ধান বাড়িতে নিতে কৃষকের অনেক সুবিধা হয়।

সর্বশেষ..