সম্পাদকীয়

পল্লী সঞ্চয় ব্যাংকের অচলাবস্থা দূর করুন

দুর্দিনের বিরূপ পরিস্থিতি সামাল দিতে সঞ্চয় বড় ভূমিকা রাখে। কিন্তু নিম্ন ও সীমিত আয়ের জনগোষ্ঠী না পারে সঞ্চয় করতে, না পারে সঞ্চয় কাজে লাগাতে। সাধারণ মানুষের এ সমস্যাকে গুরুত্ব দিয়ে গঠন করা হয়েছে পল্লী সঞ্চয় ব্যাংক। গ্রাম সংগঠন সৃজন, তাদের প্রশিক্ষণ প্রদান, তহবিলের জোগান এবং ঋণদানের মাধ্যমে দারিদ্র্য বিমোচন কার্যক্রমের প্রাতিষ্ঠানিক রূপদান এবং তাদের সঞ্চয় ও অর্জিত লেনদেন ও রক্ষণাবেক্ষণের জন্য ঋণ ও অগ্রিম প্রদান এবং বিনিয়োগের জন্য বিশেষায়িত পল্লী সঞ্চয় ব্যাংক প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে।
পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় বিভাগের আওতাধীন ‘একটি বাড়ি একটি খামার’ শীর্ষক প্রকল্প দেশের গ্রামাঞ্চলের দরিদ্র ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষকে সঞ্চয়ে উদ্বুদ্ধ করা, তাদের দক্ষতা বৃদ্ধিসহ নারীর ক্ষমতায়ন এবং অর্থনৈতিক ও সামাজিক উন্নয়নে অবদান রাখছে ব্যাংকটি। বিশেষায়িত ব্যাংক হিসেবে সমিতি ও সমিতির সাধারণ সদস্যদের বৈদেশিক মুদ্রা লেনদেনের ব্যবসা ব্যতীত প্রান্তিক মানুষদের আত্মনির্ভরশীল করে গড়ে তুলতে ৪৫টি খাতে বিনা জামানতে ঋণ দিয়ে থাকে ব্যাংকটি।
পল্লী সঞ্চয় ব্যাংকের একটি নিয়ম হলো ঋণখেলাপি, নিয়মিত সঞ্চয় না দেওয়া, ঋণ নিয়ে খামার করা হয়নি প্রভৃতি অনিয়মে জড়িত সদস্য ব্যাংকের সদস্য শেয়ার কিনতে পারবেন না। এ নিয়ম পরিপালিত হওয়ায় এ ধরনের কেউ ব্যাংকটির শেয়ার কিনতে পারে না। কিন্তু বর্তমানে স্থবির হয়ে পড়েছে ব্যাংকের কার্যক্রম। চাকরি স্থায়ীকরণের দাবিতে ৬ জুলাই থেকে আন্দোলন করছেন কর্মীরা।
গতকাল শেয়ার বিজে এ-সংক্রান্ত প্রতিবেদনে বলা হয়, আন্দোলনকারীদের দাবিগুলো হলো: ৩০ জুন, ২০১৬-এর আগে নিয়োগকৃত জনবলকে অনতিবিলম্বে পল্লী সঞ্চয় ব্যাংকে স্থায়ীকরণ, আগে নিয়োগকৃত সব জনবলকে ব্যাংকে স্থায়ীকরণ ও প্রাপ্য সুযোগ-সুবিধা দেওয়া পর্যন্ত নতুন জনবল নিয়োগ করা যাবে না-সহ বিভিন্ন দাবি আদায়ের জন্য কর্মীরা কর্মবিরতি পালন করছেন।
কর্মীরা বলছেন, কর্মকর্তা পদে নতুন ১৪৯ জনকে নিয়োগ উচ্চ আদালতের স্থগিতাদেশ রয়েছে। কিন্তু বোর্ড কর্তৃপক্ষ নিয়োগ প্রক্রিয়া চালিয়ে যাচ্ছে। আবার চাকরি স্থায়ী করার দাবি করলে কর্তৃপক্ষ বিভিন্ন টার্গেট দেয়। অথচ টার্গেট পূরণ করা হলেও চাকরি স্থায়ী করা হয়নি।
কর্মীদের এ দাবি সত্য হলে তা মেনে নেওয়াই উচিত। যারা এত বছর ধরে কাজ করে আসছেন, তাদের কাজের মূল্যায়ন করা হবে বলেই প্রত্যাশা। কর্মীরা নিয়োগ-বাণিজ্যের অভিযোগ করেছেন। সেটির প্রতিকারেও ব্যবস্থা নিতে হবে।
গ্রামীণ ব্যাংকের আদলে পরিচালিত ব্যাংকটির অচলাবস্থা চলতে থাকলে সাধারণ সদস্যরা ক্ষতিগ্রস্ত হবেন। আমরা মনে করি, কর্মীদের ন্যায্য দাবি পূরণের ব্যবস্থা নিয়ে ব্যাংকটিকে রক্ষায় এগিয়ে আসবে নিয়ন্ত্রক সংস্থা।

সর্বশেষ..