বিশ্ব বাণিজ্য

পাঁচ বছরের মধ্যে সর্বনিন্মে ওপেকের উৎপাদন

শেয়ার বিজ ডেস্ক: জ্বালানি তেল উত্তোলনকারী দেশগুলোর সংগঠন ওপেক সদস্য দেশগুলোর উত্তোলন গত জুন মাসে কমে পাঁচ বছরের মধ্যে তলানিতে পৌঁছেছে। এ সময় সৌদি আরব উত্তোলন বাড়ালেও ইরান ও ভেনেজুয়েলার ওপর মার্কিন নিষেধাজ্ঞায় উত্তোলন কমেছে বলে বার্তা সংস্থা রয়টার্সের জরিপে বলা হয়।
প্রতিবেদনমতে, গত মাসে ওপেক দৈনিক দুই কোটি ৯৬ লাখ ব্যারেল অপরিশোধিত তেল উত্তোলন করেছে। আগের মাসের তুলনায় এ উত্তোলন দৈনিক এক লাখ ৭০ হাজার ব্যারেল কম। ২০১৪ সালের পরে এটিই ওপেকের সবচেয়ে কম উৎপাদন।
জরিপে বলা হয়েছে, জ্বালানি তেল দাম নিয়ন্ত্রণে রাখতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সৌদি আরবের ওপর চাপ প্রয়োগ করে। এতে সৌদি আরব তাদের উৎপাদন বাড়িয়েছে। যদিও ওপেকের সরবরাহ চুক্তিসীমার মধ্যেই সৌদি আরব উৎপাদন বাড়িয়েছে। তবে ইরান ও ভেনেজুয়েলার ওপর মার্কিন নিষেধাজ্ঞার কারণে সার্বিক উৎপাদন কমেছে। এর মধ্যে ওপেক ও অন্য প্রধান উৎপাদনকারী দেশগুলো সম্প্রতি উত্তোলন হ্রাস চুক্তির মেয়াদ বাড়াতে একমত হয়েছে। এর প্রভাবও নিকট ভবিষ্যতে পড়বে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
উত্তোলন ও সরবরাহ সীমিত রাখার মধ্য দিয়ে আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দামে ভারসাম্য ফিরিয়ে আনার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে ওপেক। এ লক্ষ্যে রাশিয়াসহ ওপেকবহির্ভূত কয়েকটি দেশ নিয়ে জ্বালানি পণ্যটির বৈশ্বিক উত্তোলন হ্রাসের চুক্তি এগিয়ে নিচ্ছে সংস্থাটি। মেয়াদ শেষ হতে যাওয়া এ চুক্তি আরও ছয় থেকে ৯ মাসের জন্য নবায়ন করতে একমত হয়েছে দেশগুলো।
মার্কিন প্রশাসন গত বছরের নভেম্বরে ইরানের ওপর কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে। এ নিষেধাজ্ঞায় আটটি দেশকে ইরান থেকে তেল কেনার ক্ষেত্রে ছয় মাসের জন্য ছাড় দেয়। সম্প্রতি ওই মেয়াদ শেষ হওয়ায় ইরান থেকে তেল রফতানির পথ বন্ধ হয়ে গেছে। যদিও মার্কিন নিষেধাজ্ঞা মানতে নারাজ কয়েকটি দেশ।
গত জানুয়ারিতে ভেনেজুয়েলার তেলের ওপর ডলার ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞাসহ কঠোর অবরোধ দেয় যুক্তরাষ্ট্র। রাষ্ট্রীয় তেল কোম্পানি পিডিভিএসএ’র ওপরও নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়। তথ্য অনুযায়ী, মার্কিন নিষেধাজ্ঞার দুই সপ্তাহ পর পিডিভিএসএ প্রতিদিন ১১ কোটি ৫০ লাখ ব্যারেল অপরিশোধিত ও পরিশোধিত পণ্য উৎপাদন এবং রফতানি করতে সক্ষম রয়েছে, যেখানে নিষেধাজ্ঞার আগে প্রতিদিন প্রায় এক কোটি ৪০ লাখ ব্যারেল উৎপাদনে সক্ষম ছিল।

সর্বশেষ..