প্রচ্ছদ প্রথম পাতা

পাঁচ বছরে দুর্নীতিবাজদের থেকে ২৭৪ কোটি টাকা আদায় দুদকের

নিজস্ব প্রতিবেদক: ২০১৩ থেকে ২০১৭ সাল পর্যন্ত পাঁচ বছরে বিভিন্ন মামলায় বাজেয়াপ্ত ও জরিমানা বাবদ অভিযুক্ত র্দ্নুীতিবাজদের কাছ থেকে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) ২৭৪ কোটি ২৭ লাখ টাকা আদায় করেছে। গতকাল অস্ট্রিয়ার রাজধানী ভিয়েনায় অনুষ্ঠিত ইউনাইটেড ন্যাশন্স কনভেনশন অ্যাগেইনেস্ট করাপশনের (আনকাক) দ্য ইমপ্লিমেনটেশন রিভিউ গ্রুপের দ্বিতীয় রিজিউমডের নবম সেশনে বক্তব্যে দুদক চেয়ারম্যান ইকবাল মাহমুদ এ কথা বলেন। দুদক জনসংযোগ শাখা প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানায়।
১২ নভেম্বর থেকে ১৬ নভেম্বর পর্যন্ত অস্ট্রিয়ার রাজধানী ভিয়েনায় অনুষ্ঠিত জাতিসংঘ দুর্নীতিবিরোধী কনভেনশন (আনকাক) আয়োজিত এ সেশনে তিন সদস্যের একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদল অংশ নেয়।
বাংলাদেশের ডেলিগেশন টিমের প্রধান দুদক চেয়ারম্যান ইকবাল মাহমুদ বলেন, রিভিউর (পুনর্নিরীক্ষণ) প্রথম সাইকেলে বাংলাদেশ, ইরান ও প্যারাগুয়ের মাধ্যমে রিভিউড (পুনর্নিরীক্ষিত) হয়েছে। পাশাপাশি বাংলাদেশ, ফিজি ও ফিলিপাইনসকে রিভিউ (পুনর্নিরীক্ষণ) করেছে। তিনি বলেন, বাংলাদেশ এ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে দুর্নীতি দমন ও প্রতিরোধে নতুন নতুন শিক্ষা গ্রহণের পাশাপাশি নানাবিধ উত্তম চর্চার সঙ্গে পরিচিত হয়েছে। ফলে আনকাকের বিভিন্ন প্রভিশন কার্যকরভাবে বাস্তবায়নের মাধ্যমে দুর্নীতি দমন ও প্রতিরোধে কাজ করছে।
বিভিন্ন পরিসংখ্যান উল্লেখ করে ইকবাল মাহমুদ বলেন, ২০১৮ সালের জানুয়ারি থেকে অক্টোবর পর্যন্ত বাংলাদেশের দুর্নীতি দমন কমিশন দুর্নীতির সুনির্দিষ্ট অভিযোগে ১৮৯ মামলা এবং ২২৩টি অভিযোগপত্র আদালতে দাখিল করেছে। দুদকের পারফরমেনস মূল্যায়ন করে তিনি বলেন, ২০১১ সালে যেখানে দুদকের মামলায় বিচারিক আদালতে সাজার হার ছিল ২০ শতাংশ; ২০১৭ সালে তা ৬৮ শতাংশে উন্নীত হয়েছে। তিনি বলেন, মানি লন্ডারিং মামলার ক্ষেত্রে এ সাজার হার ১০০ শতাংশ। ২০১৫ সাল থেকে এ পর্যন্ত মানি লন্ডারিং-সংক্রান্ত ২৩ মামলার রায় হয়েছে, প্রতিটি মামলায় আসামির সাজা হয়েছে।
তিনি বলেন, ২০১৩ থেকে ২০১৭ সাল পর্যন্ত আদালতের নির্দেশে কমিশনের বিভিন্ন মামলায় অভিযুক্তদের ৭১৫ দশমিক দুই মিলিয়ন টাকা (আট দশমিক ৮৭ মিলিয়ন ডলার) বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। একইভাবে ২০২৭.৪৬ মিলিয়ন টাকা (২৫.৯৪ মিলিয়ন ডলার) জরিমানা করা হয়েছে। তিনি বলেন, ২০১৩ থেকে ২০১৭ সাল পর্যন্ত ৫৫০টি দুর্নীতি ও মানি লন্ডারিং মামলায় আসামিদের বিচারিক আদালতে সাজা হয়েছে।
দুর্নীতির বিরুদ্ধে বাংলাদেশের শূন্য সহিষ্ণুতার নীতির কথা উল্লেখ করে দুদক চেয়ারম্যান বলেন, দুদকের আইনি ম্যান্ডেট অনুসারে স্বাভাবিক অনুসন্ধান ও তদন্তের পাশাপাশি দুর্নীতি দমন ও প্রতিরোধে বহুমুখী উদ্ভাবনী পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। এ বছর ১৫টি ফাঁদ মামলা পরিচালনা করে ঘুষ গ্রহণের সময় ১৮ সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীকে হাতেনাতে ঘুষের টাকাসহ গ্রেফতার করেছে দুদক।
দুদক কর্তৃক ২৫টি প্রাতিষ্ঠানিক টিমের কার্যক্রম ব্যাখ্যা করে দুদক চেয়ারম্যান বলেন, দুদক সরকারি প্রতিষ্ঠানের দুর্নীতির উৎস চিহ্নিত করে তা প্রতিরোধে পদ্ধতিগত সংস্কারের মাধ্যমে হয়রানি ও দুর্নীতিমুক্ত পরিবেশে সরকারি পরিষেবা নিশ্চিতে আইনানুগ প্রক্রিয়ায় পরামর্শ প্রদান করছে। ইতোমধ্যেই কমিশন ভূমি মন্ত্রণালয়, শিক্ষা মন্ত্রণালয়, সড়ক ও জনপথ মন্ত্রণালয়, রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক), জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষ, আয়কর বিভাগ ও কাস্টমস বিভাগে তাদের বিজনেস প্রসেস রি-ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের অংশ হিসেবে দুর্নীতির সম্ভাব্য উৎস চিহ্নিত করে তা বন্ধে সুনির্দিষ্ট সুপারিশমালা প্রেরণ করেছে।

 

সর্বশেষ..