হোম প্রচ্ছদ পাইওনিয়ার ইন্স্যুরেন্স : ৬৮ কোটি টাকার ভ্যাট ফাঁকির অভিযোগ

পাইওনিয়ার ইন্স্যুরেন্স : ৬৮ কোটি টাকার ভ্যাট ফাঁকির অভিযোগ


Warning: date() expects parameter 2 to be long, string given in /home/sharebiz/public_html/wp-content/themes/Newsmag/includes/wp_booster/td_module_single_base.php on line 290

মাসুম বিল্লাহ: মূল্য সংযোজন কর (মূসক) বা ভ্যাট ফাঁকির অভিযোগ উঠেছে বিমা খাতের কোম্পানি পাইওনিয়ার ইন্স্যুরেন্সের বিরুদ্ধে। ২০১০ সালের জানুয়ারি থেকে ২০১৫ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত চারটি উপায়ে কোম্পানিটি ৬৭ কোটি ৮২ লাখ টাকার ভ্যাট ফাঁকি দিয়েছে বলে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) সূত্রে জানা গেছে।

এনবিআর সূত্রে জানা যায়, কোম্পানিটির পরিহার করা ভ্যাটের মধ্যে বাতিল করা এমআরের বিপরীতে পাওনা চার লাখ ২০ হাজার টাকা। আর এর বিপরীতে সুদ দাঁড়িয়েছে দুই লাখ ৬৩ হাজার টাকা। সব মিলে এ খাতে দায় ছয় লাখ ৮৪ হাজার টাকা। এছাড়া সিএ ফার্মের অডিট প্রতিবেদন মোতাবেক বিভিন্ন খাতে উৎসে কর্তনযোগ্য ভ্যাটের পরিমাণ ৯ লাখ ৯৮ হাজার টাকা। আর সুদ পাঁচ লাখ ৭১ হাজার টাকা। সব মিলে এ খাতে পাওনা দাঁড়িয়েছে ১৫ লাখ ৬৯ হাজার টাকা। অফিস ও স্থাপনা ভাড়ার বিপরীতে প্রতিষ্ঠানটির পরিহার করা ভ্যাটের পরিমাণ এক লাখ ৬০ হাজার টাকা। এর বিপরীতে সুদ এক লাখ ৪৬ হাজার টাকা। সব মিলে তিন লাখ ছয় হাজার টাকা। আর সবচেয়ে বেশি ভ্যাট ফাঁকি দিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি এজেন্সি কমিশন ও কমিশন অন রি-ইন্স্যুরেন্স সিডেডের ওপর। এ খাতে ফাঁকি দেওয়া ভ্যাটের পরিমাণ ৩৭ কোটি ৬৪ লাখ ৯২ হাজার টাকা। এর বিপরীতে সুদ দাঁড়িয়েছে ২৯ কোটি ৯২ লাখ ২৬ হাজার টাকা। মোট ৬৭ কোটি ৫৭ লাখ ১৯ হাজার টাকা। সব খাত মিলে পাইওনিয়ার ইন্স্যুরেন্সের মোট ভ্যাট ফাঁকির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৬৭ কোটি ৮২ লাখ ৭৯ হাজার টাকা।

এ বিষয়ে প্রতিষ্ঠানটির বক্তব্য জানতে গত ৮ ফেব্রুয়ারি প্রতিষ্ঠানটির প্রতিনিধিদের তলব করে এনবিআর। কোম্পানিটির পক্ষে ওইদিন উপস্থিত হয়ে বক্তব্য দেন জেনারেল ম্যানেজার ধ্রুব কুমার গুহ ও সহকারী জেনারেল ম্যানেজার রেজোওয়ানুল করিম। কিন্তু তারা সন্তোষজনক জবাব দিতে পারেননি বলে এনবিআর জানিয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে প্রতিষ্ঠানটির কাছ থেকে ৬৭ কোটি ৮২ লাখ ৭৯ হাজার টাকার ভ্যাট আদায়যোগ্য বিবেচনা করে তা আদায় করতে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের সুপারিশ করা হয়েছে।

এ বিষয়ে পাইওনিয়ার ইন্স্যুরেন্স কোম্পানির মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা মনিরুল ইসলাম শেয়ার বিজকে বলেন, ‘আমি এখানে অল্পদিন আগে যোগ দিয়েছি। আর ভ্যাটের বিষয়টি কয়েক বছর আগের। এ বিষয়ে সাবেক এমডির সঙ্গে কথা বলুন। তিনি ভালো বলতে পারবেন।’

তবে কোম্পানিটির সাবেক মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা এসএম মিজানুর রহমান দেশের বাইরে থাকায় তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে এনবিআরের দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা জানান, যে চারটি খাতে পাইওনিয়ার ইন্স্যুরেন্সের কাছে পাওনা দাবি করা হয়েছে, সে বিষয়ে প্রতিষ্ঠানটির প্রতিনিধিরা আইনানুগ সন্তোষজনক জবাব দিতে পারেননি। ফলে নিরীক্ষা দলের উত্থাপিত আপত্তি আইনানুগভাবে সঠিক হওয়ায় নিরীক্ষায় উদঘাটিত ৩৭ কোটি ৮০ লাখ ৭০ হাজার টাকার মূসক এবং এর পর প্রযোজ্য ৩০ কোটি দুই লাখ আট হাজার টাকাসহ মোট ৬৭ কোটি ৮২ লাখ ৭৯ হাজার টাকা আদায়যোগ্য। এ অর্থ প্রতিষ্ঠানটিকে পরিশোধ করতে হবে। পাইওনিয়ার ইন্স্যুরেন্স এ অর্থ পরিশোধ না করলে তাদের বিরুদ্ধে মামলা করা হতে পারে বলে জানা গেছে।