পাখির গানে মুখর করাতিপাড়া

‘ও পাখি তোর যন্ত্রণা, আর তো প্রাণে সয় না, যখন তখন তোর জ্বালাতন আর ভালো লাগে না…’! বাংলা চলচ্চিত্রের এই মিষ্টি রোমান্টিক গানে যন্ত্রণা ছিল মধুর এক ভালো লাগার। মধুর এমন যন্ত্রণা হয়তো সবারই কাম্য। গাছে পাখি বাসা বাঁধবেÑএটা প্রকৃতির নিয়ম; কিন্তু কোনো এক নির্দিষ্ট জায়গায় কিছু নির্দিষ্ট গাছে শত শত পাখির আবাস দেখতে পাওয়াটা একটু বিরলই বটে। এমন দৃশ্য চোখে পড়ে টাঙ্গাইলের বাসাইল উপজেলার করাতিপাড়া বাইপাস এলাকার বেশ কয়েকটি গাছে।

কাঁঠাল, আম, হরহরি ও পাকুর গাছগুলোয় সন্ধ্যা নামলেই কয়েক হাজার চড়–ই পাখির দেখা মেলে। এদের গানে মুখর হয়ে ওঠে এলাকা। প্রতিদিন স্থানীয়রা পাখিগুলো দেখতে ভিড় জমান। জানা যায়, এখানে প্রায় চার বছর ধরে পাখিগুলো আছে। দিন দিন পাখির সংখ্যা বাড়ছে। সারা দিন এদের দেখা মিলবে না। তবে সন্ধ্যা নামলেই চলে আসে। স্থানীয়রা ছাড়াও দূরদূরান্ত থেকে আসেন পাখিপ্রেমীরা।

স্থানীয়দের অভিযোগ, আগে কিছু লোক রাতের আঁধারে পাখিগুলো ধরে নিয়ে যেত। এ কারণে পাখিগুলো প্রায় এক বছর এখানে ছিল না। দু’মাস আগে আবার এসেছে। এখন পাখির জন্য নিরাপদ আবাসস্থল গড়ে তোলার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

স্থানীয় ডা. গোলাম রাব্বানী রাসেল বলেন, এটা আসলেই চমকপ্রদ ঘটনা। পাখির কিচিরমিচির শব্দে এখানকার মানুষের সন্ধ্যাটা ভালোই কাটে। এলাকার খন্দকার মাসুদ বলেন, এসব গাছের নিচে মানুষের চলাচলের রাস্তা রয়েছে, অনেক সময় মানুষের জামাকাপড় পাখির বিষ্ঠায় নষ্ট হচ্ছে। তবে কেউ এতে তেমন অসন্তুষ্ট নন।

ঝড়-বৃষ্টিসহ বিভিন্ন প্রাকৃতিক দুর্যোগে পাখির বাসা ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এ কারণে পাখির ডিম নষ্ট হয়ে যায়। ফলে বংশবিস্তার কমে যায়। তাই সরকারিভাবে ব্যবস্থা নেওয়া উচিত বলে মনে করে সচেতন মহল। এ ব্যাপারে বাসাইল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শামছুন নাহার স্বপ্না বলেন, করাতিপাড়া বাইপাস এলাকার বেশ কয়েকটি গাছের ডালে নিরাপদ আবাসস্থল হিসেবে পাখির বাসোপযোগী মাটির হাঁড়ি ঝুলিয়ে দেওয়া হবে। এর ফলে এখানে বিভিন্ন জাতের পাখি নিশ্চিন্তে আবাস গড়ে তুলতে পারবে।

আব্দুল্লাহ আল নোমান, টাঙ্গাইল