‘পাটশালা’র পাটপণ্য ও হস্তশিল্প মেলা

 আহমেদ সাঈফ মুনতাসীর: প্লাস্টিক ও সিনথেটিক পণ্যের প্রভাবে পরিবেশের যথেষ্ট ক্ষতি হয়। এর বিধ্বংসী আগ্রাসন থেকে রক্ষা পাওয়া ও দেশি পাটপণ্যর প্রতি মানুষকে আরও আগ্রহী করতে রাজধানীর শাহবাগে অবস্থিত জাতীয় জাদুঘরে চলছে ‘পাটপণ্য মেলা’। ঘর সাজানোর নানা অনুষঙ্গের পাশাপাশি নিত্যপ্রয়োজনীয় বিভিন্ন পণ্যও স্থান পেয়েছে মেলায়। পাটপণ্যের এসব বাহারি ডিজাইন নজর কেড়েছে ক্রেতাদের।

চার দিনব্যাপী আয়োজনটি গত শনিবার শুরু হয়েছে। শেষ হবে আজ সন্ধ্যায়। পাটপণ্য উৎপাদন ও বাজারজাতকারী সংগঠন ‘পাটশালা’ এর তত্ত্বাবধান করছে। দর্শনার্থীদের জন্য সকাল ১০টা থেকে বিকাল সাড়ে ৫টা পর্যন্ত মেলা উš§ুক্ত।

মেলায় দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের ৩০টি ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদিত পণ্য নিয়ে এসেছে। পাটের বহুবিধ ব্যবহারে ক্রেতাদের আকৃষ্ট করতে বাহারি ব্যাগ, ওয়ালম্যাট, সিকা, হেমক, মড়া, টিস্যু বক্স, অফিস ফোল্ডার, পর্দা, পাটখার, রজত, শতরঞ্চি, রঙবেরঙের শোপিসসহ প্রায় ১৫০ প্রকারের পাটপণ্য স্থান পেয়েছে স্টলগুলোয়। পাটের তৈরি পণ্যের বাইরেও শাঁখা, ঝিনুক, নকশিকাঁথাসহ বিভিন্ন হস্তশিল্পের প্রায় ৫০টি পণ্য রয়েছে।

অনেকেই পরিবার নিয়ে মেলায় আসছেন। যাচাই-বাছাই করে কিনছেন পছন্দের পণ্য। কেউ একা; আবার কেউ প্রিয়জনকে সঙ্গে নিয়ে। মেলায় দর্শনার্থীর মধ্যে কথা হলো মুহাম্মদ মহিউদ্দিন নামে একজনের সঙ্গেÑযিনি পেশায় ব্যবসায়ী। তিনি বলেন, পরিবেশবান্ধব পণ্য কিনতে আমরা বিদেশি ব্র্যান্ড খুঁজি; কিন্তু এটা ঠিক নয়। এর আগে আমার একটি পাটপণ্য মেলা দেখার সুযোগ হয়েছিল। সে মেলায় বাহারি সব পণ্য দেখে আমি অভিভূত হয়ে গিয়েছিলাম। পাটপণ্যের মেলা হচ্ছে শুনে তাই আবার চলে এলাম। মেলা থেকে মেয়ে আর স্ত্রীর জন্য বেশ কিছু পণ্য কিনেছি।

সায়মা চৌধুরী মায়া। উচ্চমাধ্যমিকে পড়াশোনা করছেন রাজধানীর একটি বেসরকারি কলেজে। তিনি বলেন, এ ধরনের মেলা আমাকে সব সময় টানে। মেলায় পাট-মাটি আর ঝিনুকের তৈরি বিভিন্ন রকমের চুড়ি, ঝুমকা, পুঁতির মালাসহ বিভিন্ন গহনা পাওয়া যায়। দামও কম এগুলোর। তাই মেলা থেকে গহনা কিনতে এসেছি।

উদ্যোক্তারা জানান, বাংলাদেশের পাট বিশ্বজুড়ে সমাদৃত। বর্তমানে থাইল্যান্ড, সুদান, সিরিয়া, ভিয়েতনাম, ইরাক, ইরান, তুরস্ক, নিউজিল্যান্ডসহ বিশ্বের অন্তত ২৫টি দেশে বাংলাদেশের পাটের বাজার বিস্তৃত। দেশে পাটশিল্পের সঙ্গে প্রায় সাড়ে তিন কোটি মানুষ যুক্ত। দেশে থাকা ২৭টি পাটকলে প্রায় ৯০ হাজার মানুষ কাজ করে।

মেলায় অংশ নেওয়া প্রতিষ্ঠান ইলেভেন এক্সিমের ব্যবস্থাপনা পরিচালক কামরুল হাছান শিমুল জানান, পাটের তৈরি বিভিন্ন ধরনের গয়না, আসবাব, গিফট আইটেমের প্রতি মানুষের ব্যাপক আগ্রহ আছে। গ্রাম থেকে শহরে আসা পাট প্রক্রিয়াজাত করে তৈরি করা বাহারি পণ্য পুরো দেশে ছড়িয়ে দেওয়ার চ্যালেঞ্জ রয়েছে আমাদের। তাছাড়া দেশ ছাড়িয়ে চীন, বেলজিয়াম ও কুয়েতে পাটপণ্য রফতানির বিষয়ে আলোচনা চলছে।

মেলার অন্যতম বৈশিষ্ট্য হচ্ছে শুধু দেশে উৎপাদিত পণ্যই প্রদর্শনীতে স্থান পেয়েছে।

মেলার আয়োজন সফল উল্লেখ করে পাটশালার প্রধান নির্বাহী চাষি মামুন জানান, পাটের সোনালি যুগ ফিরিয়ে আনতে কাজ করে যাচ্ছে পাটশালা। ঢাকা ও গাজীপুরে পাটশালা’র আয়োজনে পাট শিক্ষা, পাট আড্ডা, পাট পরিচিতি, ‘পাটের বাংলাদেশ’ নামে ক্যাম্পেইন করেছি। প্রান্তিক চাষিদের সঙ্গে মতবিনিময়, উদ্যোক্তাদের জন্য সেমিনার আয়োজন করেছি আমরা। এগুলোর পর এ মেলায় দর্শনার্থী ও ক্রেতাদের উপচেপড়া ভিড় আমাদের আয়োজনকে সফল করে তুলেছে।