প্রচ্ছদ প্রথম পাতা বাজার বিশ্লেষণ

পাট ও ব্যাংক ছাড়া সব খাতেই বড় পতন

রুবাইয়াত রিক্তা: সপ্তাহের প্রথমদিনে নেতিবাচক গতিতে লেনদেন হয়েছে পুঁজিবাজারে। সূচক পতনের হার কম হলেও লেনদেন নেমে এসেছে ৩০০ কোটির ঘরে। কমেছে ৬৩ শতাংশ কোম্পানির দর। বেড়েছে মাত্র ২৫ শতাংশ কোম্পানির দর। ব্যাংক খাতে পতনের হার কিছুটা কম থাকায় সূচকের পতনও তুলনামূলক কম ছিল। অন্যদিকে ডিএস-৩০ সূচক ইতিবাচক ছিল। গতকাল লেনদেন কমেছে ১০৭ কোটি টাকা। গত শনিবার অর্থমন্ত্রী দেশের শীর্ষ ৩০০ ঋণখেলাপির তালিকা জাতীয় সংসদে উপস্থাপন করেন। এর মধ্যে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত ১১টি কোম্পানি ঋণখেলাপির তালিকায় রয়েছে। এর মধ্যে সাতটি কোম্পানি মূলবাজারে এবং তিনটি কোম্পানি ওটিসি মার্কেটে তালিকাভুক্ত। এ খবরে পুঁজিবাজারে গতকাল নেতিবাচক প্রভাব পড়ে। অন্যদিকে আগামী অর্থবছরের জন্য ঘোষিত বাজেটে পুঁজিবাজারে কিছু নতুন করারোপের প্রস্তাব করা হয়। বিশেষ করে স্টক ডিভিডেন্ড ও রিটার্ন আর্নিংসের ওপর ১৫ শতাংশ করারোপ করা হয়। এ কর প্রত্যাহারের জন্য পুঁজিবাজারসংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলো দাবি জানিয়ে আসছে। সরকারও সেগুলো পুনর্বিবেচনার আশ্বাস দিয়েছেন। তাই বিনিয়োগকারীদের অনেকে জাতীয় সংসদে চূড়ান্ত বাজেট পাসের আগে সাইট লাইনে অপেক্ষা করছেন শেষ পর্যন্ত বাজেটে কী থাকছে তা দেখার জন্য। যে কারণে গতকাল লেনদেনে বড় পতন হয়।
গতকাল পাট ছাড়া সব খাতেই অধিকাংশ কোম্পানি দরপতনে ছিল। বৃহৎ খাতগুলোর মধ্যে পতনের হার সবচেয়ে বেশি ছিল প্রকৌশল ও বস্ত্র খাতে। তুলনামূলক কম পতন হয়েছে ব্যাংক ও বিমা খাতে। গতকাল মোট লেনদেনের ২৫ শতাংশ বা এক চতুর্থাংশ লেনদেন হয় বিমা খাতে। এ খাতে ৬৮ শতাংশ কোম্পানির দরপতন হয়। ১০ শতাংশ বেড়ে দরবৃদ্ধির শীর্ষে উঠে আসে সেন্ট্রাল ইন্স্যুরেন্স। এছাড়া গ্লোবাল ইন্স্যুরেন্স, ফেডারেল ইন্স্যুরেন্স, ইস্টার্ন ইন্স্যুরেন্স, ফিনিক্স ইন্স্যুরেন্স এ তালিকায় অবস্থান করে। এর মধ্যে ইস্টার্ন ইন্স্যুরেন্সের সাড়ে ১৩ কোটি টাকার, গ্লোবাল ইন্স্যুরেন্সের ১০ কোটি, ন্যাশনাল লাইফ ইন্স্যুরেন্সের প্রায় সাত কোটি, সেন্ট্রাল ইন্স্যুরেন্সের সাড়ে পাঁচ কোটি টাকার শেয়ার লেনদেন হয়। বস্ত্র খাতে ১২ শতাংশ লেনদেন হলেও ৭৮ শতাংশ কোম্পানি দরপতনে ছিল। সাড়ে চার শতাংশ বেড়ে আরএন স্পিনিং দরবৃদ্ধির শীর্ষ দশের মধ্যে অবস্থান করে। প্রকৌশল খাতে ৭৬ শতাংশ এবং জ্বালানি খাতে ৫৭ শতাংশ কোম্পানির দরপতন হয়। গত শনিবার ইউনাইটেড পাওয়ারের পরিচালনা পর্ষদের সভায় অপর একটি কোম্পানির ৭৫ শতাংশ শেয়ার অধিগ্রহণ করার সিদ্ধান্ত হয়। এ খবর প্রকাশের পর গতকাল ইউনাইটেড পাওয়ারের সাড়ে ১৬ কোটি টাকা লেনদেন হয় এবং দরপতন হয় পাঁচ টাকা ২০ পয়সা। অথচ গত এক মাসে শেয়ারটির দর ৩২২ টাকা থেকে সর্বোচ্চ ৩৭৩ টাকায় উঠে আসে। ব্যাংক খাতে ৪৬ শতাংশ কোম্পানির দর ইতিবাচক ছিল। পাট খাত শতভাগ ইতিবাচক ছিল। সোনালী আঁশ দরবৃদ্ধিতে পঞ্চম অবস্থানে ছিল।

 

ট্যাগ »

সর্বশেষ..