সম্পাদকীয়

পাট শ্রমিকদের বেতন-ভাতা বিতরণে স্বচ্ছতা আনুন

অবশেষে পাটকল শ্রমিকদের বকেয়া বেতন-ভাতা মজুরি পরিশোধে সরকার ১৬৯ কোটি ১৪ লাখ টাকা থোক বরাদ্দ প্রদান করেছে। এ অর্থ দিয়ে শ্রমিকদের বকেয়া বেতন ও ঈদ বোনাস দেওয়া হবে। তবে অর্থ বরাদ্দ দিয়ে অর্থ মন্ত্রণালয়ের চিঠিতে বলা হয়েছে, আগামী ২০ বছরে পাঁচ শতাংশ সুদে প্রতি ছয় মাসের কিস্তিতে বিজেএমসিকে এই অর্থ শোধ করতে হবে। সরকারের বরাদ্দ দেওয়া এ অর্থ যাতে স্বচ্ছতার সঙ্গে প্রকৃত শ্রমিকদের মাঝে বিতরণ করা হয়, সে বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া উচিত।
সরকার অর্থ বরাদ্দ করলেও তা দিয়ে ঈদের আগে বেতন-ভাতা পরিশোধ করা যাবে কি নাÑ তা নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। ঈদের আগে সরকারি অফিস খোলা আছে আর মাত্র দুদিন।
পাটকল শ্রমিকরা তাদের বেতন-ভাতার দাবিতে দীর্ঘদিন ধরে আন্দোলন করে আসছে। কয়েকদিন পরেই ঈদুল ফিতর। শ্রমিকরা তাদের পরিবার নিয়ে ঈদের আনন্দ করবেন, এমনটাই প্রত্যাশিত। কিন্তু সরকারের ছাড় করা অর্থ ঠিকমতো বিতরণ না হলে শ্রমিকদের সে আনন্দ হয়তো বাস্তবে রূপ পাবে না।
পাটের জিনতত্ত্ব আবিষ্কারের ফলে যখন পাটের বহুমুখী ব্যবহার বৃদ্ধি ও পাট শিল্প বিকশিত হওয়ার কথা। কিন্তু এমন পরিস্থিতিতে পাটকল শ্রমিকদের বেতন-ভাতা নিয়ে এমন ঘটনা দুঃখজনক। আমরা মনে করি, দেশের অধিকাংশ পাটকল সরকার বেসরকারি খাতে ছেড়ে দিয়ে যে গুটিকয়েক পাটকল নিজেরা পরিচালনা করছে, সেখানে প্রসাশনিক ব্যর্থতা রয়েছে। ফলে হাজার হাজার শ্রমিকের নিরন্ন দিনাতিপাত ঘটছে। তাই পাটশিল্প বিকাশের জন্য কারখানা ব্যবস্থাপনার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করার প্রয়োজন।
বড় ঋণখেলাপিদের সুবিধা দেওয়ার সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে খুব তড়িৎ পদক্ষেপ নিতে দেখেছি আমরা। অন্যদিকে পাটশিল্পের শ্রমিকদের বেতন-ভাতা পরিশোধে সীমাহীন বিলম্বে সরকারের সদিচ্ছা নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিতে পারে। তবুও বিলম্বে সরকার পাটকল শ্রমিকদের বেতন-ভাতা পরিশোধে যে অর্থ বরাদ্দ করেছে সে জন্য সাধুবাদ জানাই। ঈদের আগে এ অর্থ কীভাবে শ্রমিকদের হাতে পৌঁছবে সে বিষয়টি সরকারকে নিশ্চিত করতে হবে। প্রয়োজনে বিশেষ নির্দেশ দিয়ে এ অর্থ ঈদের আগেই শ্রমিকের হাতে পৌঁছানোর ব্যবস্থা করতে হবে। কাল বিলম্ব না করে বিষয়টি সরকার গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করবে বলেই আমাদের প্রত্যাশা।

সর্বশেষ..