পাঠকের চিঠি: নোয়াখালীতে ডাক বিভাগের কার্যক্রম স্তিমিত

নোয়াখালী জেলার বেশিরভাগ ডাকঘরের নিজস্ব অফিস নেই। সদর উপজেলার ধর্মপুরে ডাকঘরের কাজ চলে একটি ক্লাব ঘরে। কালাদরাপের জামালনগরের ডাক চলে একটি হোমিও চিকিৎসকের চেম্বারে।
সরেজমিন দেখা গেছে, এ জেলার বেশিরভাগ পোস্টমাস্টার কেউ বাড়িতে, কেউ বা কোনো বাড়ির কাচারি ঘরে, আবার কেউ বা কোনো এলাকার দোকান পাটে কিংবা কোনো ক্লাব ঘরকেই অফিস হিসেবে ব্যবহার করছেন।
মোবাইল ও ইন্টারনেট প্রযুক্তির দাপটে চিঠি লেখার সংস্কৃতি বিলুপ্ত হয়েছে অনেক আগেই। ই-মেইল মোবাইল ফোনের কারণে কমে গেছে ডাকযোগে চিঠি পাঠানোর প্রয়োজনীয়তা। দেশের ডাকঘরগুলোয় ব্যস্ততার দিন এখন অতীত। পার্সেল সার্ভিস ও মানি অর্ডার সার্ভিসসহ ডাক বিভাগের আরও কিছু সেবা থাকলেও সেগুলোর অবস্থাও চিঠির মতোই। সেবা থাকলেও নেই সেবাগ্রহীতা।
দেশের এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে চিঠি পাঠানোর একমাত্র মাধ্যম এখন ম্রিয়মাণ। চিঠির গুরুত্ব কমে যাওয়ার পাশাপাশি কমেছে ডাক হরকরা ও ডাক অফিসের গুরুত্ব। সরকারিভাবেই বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে অনেক অফিস।
পার্সেল, মানি অর্ডারসহ অন্যান্য সেবা দিয়ে টিকে থাকবে বাংলাদেশ ডাক বিভাগÑএমনটা প্রত্যাশা ছিল। কিন্তু বারবারই প্রশ্ন উঠছে সেবার মান ও খরচ নিয়ে। ফলে বিকল্প পথ খুঁজছেন সাধারণ মানুষ। নি¤œমানের সেবা ও বাড়তি খরচের কারণে ডাক বিভাগের চেয়ে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর সেবাগ্রহীতাদের ভরসা বেশি।
পার্সেল সেবার ক্ষেত্রে ডাক বিভাগের তুলনায় বেশ জনপ্রিয় কুরিয়ার সার্ভিস। ডাক বিভাগের তুলনায় কম খরচে এবং দ্রুত সময়ে পার্সেল পৌঁছে দেওয়ার নিশ্চয়তা প্রদানকারী কুরিয়ারের বিপরীতে ডাক বিভাগের অবস্থান অনেকটা অসহায়ের মতো।
এমন অবস্থায় সম্প্রতি কোনো রকম ঘোষণা ছাড়াই বাংলাদেশ ডাক বিভাগ বিভিন্ন সেবার মাশুল বাড়িয়েছে। স্বল্প সময়ে বিদেশে পণ্য পাঠানোর এক্সপ্রেস মেইল সার্ভিসের (ইএমএস) মাশুল বাড়ানো হয়েছে ৮০ শতাংশ। নামমাত্র আদান-প্রদান হয় চিঠি। এখানেও বাড়ানো হয়েছে চিঠিপত্রের ডাকটিকিটের দাম।
চলতি বছর জুন মাসের পর বাড়ানো হয় ডাক মাশুল। এক্ষেত্রে ডাক বিভাগের মাধ্যমে দেশের বাইরে পার্সেল পাঠানো অসম্ভব হয়ে পড়েছে অনেকের জন্য। মাশুল বৃদ্ধির আগে যুক্তরাষ্ট্রে ২০ গ্রাম পণ্য পাঠাতে খরচ হতো ৬০০ টাকা। বর্তমানে সে খরচ দাঁড়িয়েছে দুই হাজার ৫০০ টাকা। নিউজিল্যান্ডে ২০ গ্রাম পণ্য পাঠাতে খরচ ছিল ৮০০ টাকা। সে খরচ বেড়েছে চারগুণ। পরিমাণটা দাঁড়িয়েছে তিন হাজার ২০০ টাকায়। সৌদি আরবে এক কেজি ওজনের একটি পার্সেল পাঠাতে খরচ ছিল হাজার টাকা। এখন তা আড়াই হাজার টাকা। আন্তর্জাতিক কুরিয়ারগুলোর ঢঙে মূল্য নির্ধারণ করা হলেও বাংলাদেশ ডাক বিভাগের সেবা তার কাছাকাছিও না, এমনকি সঠিক সময়ে পার্সেল পৌঁছে দিতেও ব্যর্থ বাংলাদেশ ডাক বিভাগ। সেবা গ্রহীতাদের এমন অভিযোগ নিয়মিত।
দেশের মধ্যে পার্সেল পাঠাতে নানা রকম হেনস্তার স্বীকার হতে হয় সেবাপ্রত্যাশীদের। পার্সেল পাঠানোর ক্ষেত্রে ডাক বিভাগ মোড়কীকরণ করবে। এক্ষেত্রে খরচ ১০০ টাকা। পার্সেল প্রেরক মোড়কীকরণ করে নিয়ে গেলে তা গ্রহণযোগ্য হয় না ডাক বিভাগের কাছে। এমন নিয়ম নেই কোনো কুরিয়ার সেবার ক্ষেত্রে।
এসব কারণে সাধারণ মানুষ কিছুটা হলেও ডাকঘর বিমুখ হয়ে পড়ছে, যা ডাকঘরের সেবার মান নি¤œমুখী হওয়ার কারণে হচ্ছে বলে মনে করছেন সেবা গ্রহীতারদের একটি বড় অংশ। আর এসব বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে নোয়াখালী ডাক বিভাগের প্রধান কর্মকর্তা হারুন-অর-রশিদ এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেননি।
ডাক বিভাগের পরে এসেও বিভিন্ন বেসরকারি প্রতিষ্ঠান লাভজনক হয়ে উঠেছে, অথচ দিন দিন মুখ থুবড়ে পড়ছে ডাক বিভাগ। পরিকল্পনা, দক্ষ ও প্রয়োজনীয় জনবল এবং ডাকঘরগুলোকে আধুনিকায়নের অভাবসহ নানা প্রতিবন্ধকতার মুখে বারবার হোঁচট খাচ্ছে নোয়াখালীর ডাক বিভাগ।

আকাশ মো. জসিম
মাইজদী কোর্ট
নোয়াখালী