সম্পাদকীয়

পাসের হারের পাশাপাশি মানেরও উন্নয়ন হোক

এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় আটটি সাধারণ, মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষা বোর্ড থেকে পাস করল ৮২ দশমিক ২০ শতাংশ শিক্ষার্থী। আগের বছরের চেয়ে এবার চার দশমিক ৪৩ শতাংশ বেশি পাস করলেও জিপিএ-৫-এর সংখ্যা কমেছে। প্রধানমন্ত্রী শিক্ষার্থীদের ফল প্রকাশের পর নিজের অনুভূতি জানাতে গিয়ে শিক্ষার্থীদের আগামী দিনের দেশ গড়নের কর্ণধার বলে যে মন্তব্য করেন। বিষয়টি আশাপ্রদ এবং এবারের পরীক্ষার ফলাফল মূল্যায়নের মানদণ্ড হতে পারে। পরীক্ষার ফলাফলে সংখ্যাগত সাফল্যকে ছোট করে দেখার উপায় নেই। তবে সংখ্যার চেয়ে মানের গুরুত্ব অবশ্যই বেশি।
উল্লেখ্য, বিশ্বব্যাংকের প্রতিবেদনে ২০০০ থেকে ২০১৬ সালে দেশের মাঝারি মানের দক্ষতাসম্পন্ন শ্রমিকের হার এক দশমিক তিন শতাংশ কমার তথ্য ওঠে এসেছে। এমনকি দেশে বিষয়ভিত্তিক পেশাদার, কারিগরি দক্ষতাসম্পন্ন ব্যক্তিদের মতো উচ্চ দক্ষতাসম্পন্ন জনবলের চাহিদা বাড়লেও বাংলাদেশে তাদের প্রবৃদ্ধির হার আগের চেয়ে ২০ শতাংশ কমে গেছে, যা শ্রমবাজারে উচ্চদক্ষতাসম্পন্ন কর্মীর চাহিদা ও জোগানের ভারসাম্য বিনষ্ট করে। এ মন্দা কাটাতে বিদেশ থেকে কর্মী নিয়ে আসতে হচ্ছে। ফলে বিদেশি দক্ষ জনবল প্রতি বছর চার থেকে পাঁচ বিলিয়ন ডলার দেশ থেকে নিয়ে যাচ্ছে। এই তথ্য নিঃসন্দেহে দেশের শিক্ষাব্যবস্থার ভিত্তি ও মানকে প্রশ্নবিদ্ধ করে। এই প্রতিবেদন প্রকাশের পরিপ্রেক্ষিতে বিশেষজ্ঞ মহল কারিগরি ও ভোকেশনাল শিক্ষাব্যবস্থার পুনর্বিন্যাসসহ সংশ্লিষ্ট বিষয়, ভাষা ও প্রযুক্তিতে সরকারি প্রণোদনা ও প্রশিক্ষিত শিক্ষক সন্নিবেশনের পরামর্শ দেন।
একইভাবে প্রধানমন্ত্রীর জ্ঞান-বিজ্ঞান, প্রযুক্তি আয়ত্তের পাশাপাশি দেশপ্রেমিক ও মানবিকতায় পরিপূর্ণ মানুষ হয়ে ওঠার পরামর্শ গুরুত্ব পায়। নতুন প্রজন্মকে কেবল দেশের নয়, বরং বিশ্বের বুকে কল্যাণ বয়ে আনার স্বপ্ন দেখতে হবে। সেক্ষেত্রে সক্ষমতা বাড়াতে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকের দায়ের পাশাপাশি দেশের শিক্ষা কাঠামো ও কর্তাজনদের দায়-কর্তব্য বড় ও গুরুত্বাবহ। উল্লেখ্য, নতুন প্রজন্মের দক্ষতা বাড়াতে ন্যাশনাল স্কিল ডেভেলপমেন্ট অথরিটি গড়ে তোলা হয়েছে প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে। প্রতিষ্ঠানটি তাদের পরিকল্পনায় কার্যকর ফলাফল আনতে দেশের শিক্ষাকাঠামো ও তার কর্তাজনদের সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে সংকট নিরসনের চেষ্টা করবে বলে আমাদের বিশ্বাস।
এবারের এসএসসি’র ফলাফলে ছেলেদের চেয়ে মেয়েদের মেধা ও সাধারণ পাস উভয় দিকেই এগিয়ে থাকতে দেখা যায়। চিত্রটি নতুন না হলেও দেশের অর্ধেক জনগোষ্ঠী ও জনশক্তি নারীর ক্ষমতায়নের জন্য ইতিবাচক। শিক্ষায় নারীদের এই ইতিবাচক অগ্রযাত্রা বজায় থাকবে বলে আমাদের প্রত্যাশা। তবে সার্বিকভাবে বৈশ্বায়নের যুগে দেশের নতুন প্রজন্মকে দেশ ও বিশ্বের জন্য যথাযথ যোগ্যতায় সক্ষম করে তুলতে পাঠ্যক্রম ও শিক্ষা অবকাঠামো ঢেলে সাজানোর বিকল্প নেই বলে আমরা মনে করছি।

সর্বশেষ..