পিছিয়ে নেই বেসরকারি উদ্যোগও

বেসরকারি উদ্যোগের জন্য অর্থনৈতিক অঞ্চল উন্নয়নের সুযোগ উন্মুক্ত করা হয়েছে। বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষের (বেজা) নির্বাহী চেয়ারম্যান বলেন, আমরা জমি ও অন্য নীতিগত সহায়তা দেব। ব্যক্তি মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠানগুলো যেন বিনিয়োগ করে সেখানে শিল্প স্থাপনের উপযোগী অর্থনৈতিক অঞ্চল গড়ে তুলতে পারে, সেই ব্যবস্থাও নিয়েছি। এরই মধ্যে চারটি বেসরকারি অর্থনৈতিক অঞ্চল চূড়ান্ত সনদপত্র পেয়েছে। তারা উন্নয়নকাজ শুরু করেছে। এ ছাড়া অর্থনৈতিক অঞ্চল স্থাপনের জন্য প্রাক-যোগ্যতা সনদ পেয়েছে আরও ১২ প্রতিষ্ঠান। চূড়ান্ত সনদপ্রাপ্ত অঞ্চলগুলো হলো আবদুল মোনেম অর্থনৈতিক অঞ্চল, মেঘনা অর্থনৈতিক অঞ্চল, আমান অর্থনৈতিক অঞ্চল ও বে ইকোনমিক জোন।

আবদুল মোনেম অর্থনৈতিক অঞ্চল

ব্যবসার সমন্বিত সুবিধা নিশ্চিত করে বেসরকারিভাবে গড়ে তোলা হচ্ছে আবদুল মোনেম অর্থনৈতিক অঞ্চল। মুন্সীগঞ্জের গজারিয়ায় ২১৬ একর জমিতে এ অঞ্চলটি স্থাপন ও উন্নয়নের জন্য অনুমোদন পেয়েছে আবদুল মোনেম গ্রুপ। টেক্সটাইল ও গার্মেন্ট, চামড়া পণ্য, জুতা কারখানা, ওষুধ, খাদ্য প্রক্রিয়াকরণ, প্লাস্টিক ও অন্য ব্যবহার্য পণ্য, মেশিনারি যন্ত্রাংশ, হাল্কা প্রকৌশল, অটোমোবাইল শিল্প সংশ্লিষ্ট বিনিয়োগের পরিবেশ সৃষ্টি করা হচ্ছে এখানে।

আমান অর্থনৈতিক অঞ্চল

দেশের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় শিল্প গ্রুপ আমান গ্রুপের সিমেন্ট কারখানা, প্যাকেজিং মিল, খাদ্য ও পানীয়, পশু-পাখির খাদ্য প্রক্রিয়াকরণ ইউনিট, গ্রিন এনার্জি, স্টিল মিল ও জাহাজ নির্মাণে বিনিয়োগ রয়েছে। এসব শিল্প কারখানার ইউনিটগুলোকে সমন্বিত করে নির্মাণ করা হবে আমান অর্থনৈতিক অঞ্চল। এজন্য ৯০ একর জমিতে নির্মাণকাজ শুরু করা হয়েছে। আরও ৬০ একর জমি সংযুক্ত করে অঞ্চলটির আয়তন দেড়শ একরে উন্নীত করার চেষ্টা চলছে। পুঁজিবাজারের তালিকাভুক্ত কোম্পানি আমান ফিডও এখানে একটি কারখানা স্থাপন করবে।

বে ইকোনোমিক জোন

চামড়া খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান বে গ্রুপের মালিকানাধীন জমিতে এ অঞ্চলটি নির্মাণের জন্য অনুমোদন   দেওয়া হয়েছে। গাজীপুরের কোনাবাড়ি উপজেলায় নির্মাণ করা হবে এটি। চামড়া সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন ব্যাকওয়ার্ড ও ফরওয়ার্ড লিংকেজের শিল্প বিকাশের জন্য এ অঞ্চলে বিনিয়োগের সুযোগ থাকবে। চামড়া পণ্য, জুতা-স্যান্ডেল ও সংশ্লিষ্ট সামগ্রী, কৃষিভিত্তিক শিল্প, খাদ্য প্রক্রিয়াকরণ, তথ্য-প্রযুক্তি, রাসায়নিক দ্রব্য, ইলেক্ট্রনিকস, হাল্কা মেডিক্যাল সরঞ্জামাদি সংক্রান্ত শিল্প এ অঞ্চলে বিনিয়োগ করবে।

মেঘনা অর্থনৈতিক অঞ্চল

নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ উপজেলার মেঘনাঘাটে ২৪৫ একর জমিতে এ অঞ্চলটি নির্মাণের অনুমোদন পেয়েছে মেঘনা গ্রুপ। এখানে শিল্পগ্রুপটি তাদের বিভিন্ন শিল্প কারখানা নির্মাণ করবে। গ্রুপটি তাদের ঐতিহ্যবাহী পাল্প ও পেপার, পিভিসি প্ল্যান্ট, অয়েল রিফাইনারি, পেট্রোকেমিক্যালস, সিরামিকস ও এলপিজি শিল্প ছাড়াও টিস্যু পেপার, সেনিটারি ন্যাপকিন, বেবি ডায়াপারসহ নানা সেনিটারি পণ্যের কারখানা স্থাপন করবে ওই অর্থনৈতিক অঞ্চলে।