সারা বাংলা

পীরগঞ্জে মজুর সংকটে বোরো কাটা নিয়ে বিপাকে কৃষক

আকতারুজ্জামান রানা, পীরগঞ্জ: চলতি বোরো মওসুমে কর্মসৃজন কর্মসূচি চলমান থাকায় রংপুরের পীরগঞ্জে তীব্র মজুর সংকট দেখা দিয়েছে। ফলে ক্ষেতে বোরো ধান পেকে ঝরে পড়লেও কাটতে পারছেন না কৃষক। তাই তারা চরম উদ্বিগ্ন ও দুশ্চিন্তায় পড়েছেন।
উপজেলা কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, চলতি বোরো মওসুমে পীরগঞ্জে প্রায় ২৩ হাজার হেক্টর জমিতে বোরো ধান উৎপাদিত হয়েছে। এখন ধান কেটে ঘরে তোলার সময়। কিন্তু মজুর সংকটের কারণে সময়মতো ধান কাটতে পারছেন না কৃষক। ফলে শীষ থেকে পাকা ধান ঝরে পরছে। কৃষকরা জানান, এমনিতে দেশে এ সময় ঝড় ও শিলা বৃষ্টিসহ প্রতিকূল আবহাওয়া বিরাজ করে। তারপরও তারা যদি সময়মতো ধান ঘরে উঠাতে না পারেন তবে তারা অনেক ক্ষতিগ্রস্ত হবেন। এছাড়া চলতি এ মওসুমে পীরগঞ্জে কর্মসৃজন কর্মসূচি চলমান থাকায় চার হাজার ৭৯৭ জন মজুর সেই কর্মসূচিতে সম্পৃক্ত রয়েছেন। পীরগঞ্জে গত ২৯ এপ্রিল এ কর্মসূচি শুরু হয় এবং তা আগামী ৪০ কর্ম দিবস চালু থাকবে।
উপজেলার রসুলপুর, মরারপাড়া, চাপাবাড়ী গ্রাম ঘুরে দেখা গেছে, পুরো ফসলের মাঠ ভরে আছে পাকা সোনালি বোরো ধানে। তার পরেও কৃষক ফসল ঘরে তুলতে পারছেন না মজুরের অভাবে। মির্জাপুর গ্রামের কৃষক জুয়েল মিয়া, আকমল, ভীমশহরের গফুর আলী, জোনাব আলী, ভুজুবাড়ীর স্বাধীন, রইচ উদ্দিনসহ অনেকে জানান, ধান পাকলেও মজুর সংকটের কারণে তারা ধান কাটতে পারছেন না। অনেকে এ কাজে অভ্যস্থ না থাকলেও বাধ্য হচ্ছেন নিজেরাই ধান কেটে ঘরে তুলতে। যে সীমিত সংখ্যক মজুর কাজ করছেন তারা মজুরি বাড়িয়ে দিয়েছেন। তাদের প্রতি ৫০ শতাংশ জমির ধান কাটার জন্য সাড়ে তিন থেকে চার হাজার টাকা দিতে হচ্ছে। যা গত বছরের তুলনায় প্রায় এক হাজার ২০০ টাকা বেশি।
কালবৈশাখীর এ মওসুমের প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে কৃষকদের অনেকেই চড়া মূল্যে ধান কেটে ঘরে তুলতে বাধ্য হচ্ছেন। এ পরিস্থিতিতেও ফসল ঘরে তুলতে কৃষকদের কতদিন সময় লাগবে তা নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না। তাই কৃষকেরা মনে করছেন, এ সময় কর্মসৃজন কর্মসূচি স্থগিত থাকলে মজুর সংকট কিছুটা হলেও হ্রাস পাবে এবং কৃষকদের ধান কাটতে সহায়ক হবে।

সর্বশেষ..