সাক্ষাৎকার

পুঁজিবাজারের দুরবস্থা নিরসনে আশু পদক্ষেপ নিন

 

ব্যাংকে আমানতের সুদের হার কমে যাওয়া এবং বিনিয়োগ কম হওয়ায় শেয়ারবাজারে বিনিয়োগে আগ্রহী হয়ে উঠেছে সাধারণ মানুষ। কিন্তু প্রয়োজনীয় জ্ঞান ও বিচার-বিশ্লেষণ ক্ষমতা না থাকায় ক্ষতিগ্রস্ত হন তারা। কোনো প্রতিষ্ঠানের আর্থিক প্রতিবেদন, ইপিএস ও স্বত্বাধিকারী উদ্যোক্তাদের সুনাম এমনকি ব্যক্তিত্বসহ বিবিধ তথ্য বিবেচনা করে ভালো মৌলভিত্তির শেয়ারে বিনিয়োগ করলে পুঁজি হারানোর ঝুঁকি কম থাকে। কিন্তু আমাদের দেশের পুঁজিবাজারে এর ঠিক উল্টো চিত্র পরিলক্ষিত হয়। পুঁজিবাজারে কারসাজি এক্ষেত্রে প্রধানত দায়ী। এসব বিষয়ে ধারণা না থাকলে ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে বাজার ছেড়ে চলে যেতে বাধ্য হন অনেক বিনিয়োগকারী।
বর্তমানে পুঁজিবাজার পরিস্থিতি নাজুক। ক্রমেই পতনের আকার বড় হচ্ছে। গত এক মাসে লেনদেন হয়েছে ২১ কার্যদিবস। এর মধ্যে ১৪ কার্যদিবসই নি¤œমুখী ছিল ডিএসইর প্রধান সূচক। পতনের সময়ে বেশিরভাগ দিনই ২০ থেকে ৩০ পয়েন্ট করে সূচকের পতন হয়। সর্বশেষ গতকাল ডিএসইর সূচক ৪৯ পয়েন্ট কমে স্থির হয়েছে পাঁচ হাজার ২৩০-এ। এ নিয়ে গতকাল শেয়ার বিজের ‘বড় হচ্ছে পতন: পুঁজি হারিয়ে দিশেহারা বিনিয়োগকারীরা’ পাঠকের মনোযোগ কাড়বে বলেই ধারণা।
জ্ঞান ও সক্ষমতা ছাড়া পুঁজিবাজারে বিনিয়োগ করা বুদ্ধিমানের কাজ নয়। অবশ্য এটি সব ব্যবসার ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য। কারও দ্বারা প্রভাবিত-প্ররোচিত হয়ে নয়, ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীদের বুঝেশুনে বিনিয়োগ করতে হবে। স্বল্প মূলধনি কোম্পানিগুলোর শেয়ারে প্রায়ই কারসাজি হয়। এ কোম্পানিগুলো যেকোনো স্টক এক্সচেঞ্জ থেকে তালিকাচ্যুত হতে পারে। অতিমূল্যায়িত এসব শেয়ার থেকে নিরাপদ দূরত্বে থাকতে হবে। ভালো মৌলভিত্তির শেয়ারে তাৎক্ষণিকভাবে মুনাফা কম হলেও বছর শেষে ভালো লভ্যাংশ পাওয়ার সম্ভাবনা থাকে।
অনেক প্রতিষ্ঠান আর্থিক প্রতিবেদনে বিভিন্ন তথ্য ফুলিয়ে-ফাঁপিয়ে প্রকাশ করে। এ বিষয়ে বিনিয়োগকারীকে সতর্ক থাকতে হবে। এর আগে বিভিন্ন সময় শেয়ারবাজার ধস বা কেলেঙ্কারিতে যাদের নাম এসেছে, সতর্ক থাকতে হবে তাদের বিষয়েও।
নিয়ন্ত্রক সংস্থার নির্দেশনা মেনে চললে বাজারে টিকে থাকা কঠিন নয়। বিএসইসি ১১ ধরনের কারসাজি সম্পর্কে বিনিয়োগকারীদের সতর্ক করে। এসব বিষয়ে স্বচ্ছ ধারণা থাকতে হবে। এর মধ্যে রয়েছে চক্রাকার লেনদেন কারসাজির আওতায় দাম বাড়িয়ে পরিকল্পিতভাবে একাধিক ব্যক্তির মধ্যে কৃত্রিম লেনদেনের মাধ্যমে দাম প্রভাবিত করা, পরপর তিন কার্যদিবস নির্দিষ্ট শেয়ারের উল্লেখযোগ্য পরিমাণ শেয়ার কেনাবেচা করা প্রভৃতি।
বিনিয়োগকারীদের সচেতন করতে বিনিয়োগ শিক্ষা কার্যক্রমসহ বিভিন্ন ধরনের প্রশিক্ষণের আয়োজন করে বিএসইসি। ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীরা সেগুলোয় অংশ নিয়ে উপকৃত হতে পারেন।

সর্বশেষ..