পুঁজিবাজারে অতিরিক্ত বিনিয়োগ সাত ব্যাংককে জরিমানা

নিজস্ব  প্রতিবেদক: পুঁজিবাজারে সীমার অতিরিক্ত বিনিয়োগ করায় সাত ব্যাংককে বড় অঙ্কের জরিমানা করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। গত বৃহস্পতিবার এ বিষয়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংক সিদ্ধান্ত নেয়। সংশ্লিষ্ট ব্যাংকগুলোকে জরিমানার চিঠি গতকাল পৌঁছে দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।

বাংলাদেশ ব্যাংক সূত্রে জানা গেছে, এর আগে ২০১০ সালে ব্যাংকগুলোর আগ্রাসী বিনিয়োগের কারণে পুঁজিবাজার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল। ওই ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি যাতে না ঘটে, সেজন্যই অতিরিক্ত বিনিয়োগকারী ব্যাংকগুলোর বিরুদ্ধে এ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংক চায়, ব্যাংকগুলো সীমার মধ্যে থেকে বিনিয়োগ করুক। বর্তমানে ব্যাংকগুলো সংশোধিত ব্যাংক কোম্পানি আইন (২০১৩) অনুযায়ী তাদের মূলধনের ২৫ শতাংশ পুঁজিবাজারে বিনিয়োগ করতে পারে।

জানা গেছে, গত কয়েক মাস ধরে পুঁজিবাজারে সার্বিক মূল্যসূচক বাড়ছে। এক্ষেত্রে ভূমিকা রেখেছে ব্যাংকের সীমার অতিরিক্ত বিনিয়োগ। ফলে ওই ব্যাংকগুলোকে সতর্ক করেছিল কেন্দ্রীয় ব্যাংক। তারপরও অতিরিক্ত বিনিয়োগ করেছে তারা। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত বৃহস্পতিবার ব্যাংকগুলোকে জরিমানার সিদ্ধান্ত নেয় কেন্দ্রীয় ব্যাংক। বেশিরভাগ ব্যাংককেই ১৭ লাখ টাকা করে জরিমানা করা হয়েছে। চিঠি পাওয়ার ১৪ কার্যদিবসের মধ্যে বাংলাদেশ ব্যাংকের মতিঝিল অফিসের ‘সাধারণ হিসাব-প্রধান কার্যালয়’ খাতে জরিমানার অর্থ জমা দিতে বলা হয়েছে। তবে যে সাতটি ব্যাংককে জরিমানা করা হয়েছে, সেগুলোর নাম জানা যায়নি।

এ প্রসঙ্গে বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র শুভঙ্কর সাহা শেয়ার বিজকে বলেন, ‘কোনো ব্যাংক যদি পুঁজিবাজারে বিনিয়োগসীমা অতিক্রম করে, তাহলে সে ব্যাংকের বিরুদ্ধে ব্যাংক কোম্পানি আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হয়।’ এ বিষয়ে তিনি এর চেয়ে বেশি কিছু বলতে রাজি হননি।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তদন্তে আরও বেরিয়ে এসেছে, অতিরিক্ত বিনিয়োগের কারণে সাত ব্যাংককে জরিমানার পাশাপাশি আরও আট ব্যাংককে শিগগির জরিমানা করা হবে। এ ছাড়া আরও ছয় ব্যাংকের অতিরিক্ত বিনিয়োগ নিয়ে তদন্ত চলছে বলে জানা গেছে। সম্প্রতি অনেক ব্যাংকের শেয়ারের দাম বেড়ে দ্বিগুণ হয়েছে। এতে ব্যাংকগুলোর সীমা অতিরিক্ত বিনিয়োগ বড় ভ‚মিকা রেখেছে বলে মনে করছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

জানা গেছে, ১৩ ব্যাংকের বিনিয়োগ আইনি সীমার ওপরে থাকায় তাদের সহযোগী প্রতিষ্ঠানের ঋণ ও ব্যাংকের শেয়ার সহযোগী প্রতিষ্ঠানের মূলধনে রূপান্তর করে বিনিয়োগ সমন্বয়ের সুযোগ দেয় বাংলাদেশ ব্যাংক। ওই সময়ে সুযোগ পাওয়া ব্যাংকগুলো হলো এবি, আইএফআইসি, জনতা, মিউচুয়াল ট্রাস্ট, ন্যাশনাল, ওয়ান, পূবালী, সাউথইস্ট, শাহ্জালাল ইসলামী, দ্য সিটি, বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক, মার্কেন্টাইল ও প্রিমিয়ার।

বাংলাদেশ ব্যাংকের অফ সাইট সুপারভিশন বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, গত মাসে ব্যাংকগুলোকে তাদের পুঁজিবাজারে বিনিয়োগের স্থিতি (এক্সপোজার প্রতিবেদন) প্রতি সপ্তাহে বাংলাদেশ ব্যাংকে জমা দিতে হবে। যেখানে ব্যাংকগুলোর দৈনিক শেয়ার কেনার তথ্য প্রদান করতে হবে। বর্তমানে ব্যাংকগুলো প্রতি সপ্তাহে শেয়ারে বিনিয়োগের যে প্রতিবেদন বাংলাদেশ ব্যাংকে জমা দেয়, সেখানে দৈনিক শেয়ার কেনার তথ্য থাকে না। কেবল শুধু গ্রস বিনিয়োগের তথ্য থাকে। তবে এখন থেকে প্রতি বৃহস্পতিবার বিকাল ৫টার মধ্যে বাংলাদেশ ব্যাংকের অফ সাইট সুপারভিশন বিভাগে (ডিওএস) দৈনিক শেয়ার কেনার তথ্যও জমা দিতে হবে। পাশাপাশি  এখন থেকে ব্যাংকগুলো প্রতিদিন তাদের সাবসিডিয়ারি কোম্পানির মাধ্যমে শেয়ার বিনিয়োগকারীদের কত টাকা মার্জিন লোন দিচ্ছে, তা-ও জানাতে হবে বলে নির্দেশনা দেয় বাংলাদেশ ব্যাংক।