সম্পাদকীয়

পুঁজিবাজারে দুর্বল কোম্পানির দৌরাত্ম্য বন্ধ করুন

প্রায় এক দশক ধরে কঠিন পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যাচ্ছে দেশের পুঁজিবাজার। ২০১০ সালের বিপর্যয়ের পর থেকে এ অবস্থা চলছে। ওই ঘটনায় সর্বস্বান্ত হয়েছেন হাজারো বিনিয়োগকারী। তখন থেকে পুঁজিবাজারে যে অনিশ্চয়তা ও আস্থাহীনতা তৈরি হয়েছে, তা থেকে মুক্তি মেলেনি এখনও। অবশ্য পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে নানা উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, তবে আশানুরূপ ফল মেলেনি। এমনকি চীনা কনসোর্টিয়াম এ দেশের পুঁজিবাজারের সঙ্গে যুক্ত হলেও এর তেমন সুফল পাওয়া যায়নি। সর্বশেষ ২০১৯-২০ অর্থবছরের বাজেটে প্রণোদনা দেওয়ায় পরিস্থিতি ভালো হবে বলে প্রত্যাশা ছিল। কিন্তু হতাশাজনকভাবে দুর্বল ও জেড ক্যাটেগরির কোম্পানি দৌরাত্ম্য দেখাচ্ছে। ব্যাপারটি খতিয়ে দেখে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।
গতকালের দৈনিক শেয়ার বিজে ‘বাজেটের পর চলছে দুর্বল কোম্পানির খেলা’ শিরোনামে একটি প্রতিবেদন ছাপা হয়েছে। এতে বলা হয়, প্রস্তাবিত বাজেটে পুঁজিবাজারের জন্য নানা প্রণোদনা দেওয়া হলেও সার্বিক বাজারচিত্রে এর প্রভাব দেখা যাচ্ছে না। একযোগে কমছে অধিকাংশ মৌলভিত্তিসম্পন্ন কোম্পানির শেয়ারদর। বাজেটের আগে ‘জেড’ ও দুর্বল কোম্পানির আধিপত্য কিছুটা কমলেও এখন আবার দাপট দেখাচ্ছে। পুঁজিবাজারের দৃষ্টিকোণ থেকে এটি উদ্বেগজনকই বটে। এভাবে ভালো কোম্পানিকে পেছনে ফেলে দুর্বল ও জেড কোম্পানির দৌরাত্ম্যে পুঁজিবাজার অস্থিতিশীল হওয়ার শঙ্কা উড়িয়ে দেওয়া যায় না।
প্রস্তাবিত বাজেটে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত কোম্পানি হতে প্রাপ্ত লভ্যাংশ আয়ে করমুক্ত সীমা বাড়ানো হয়েছে। বোনাস লভ্যাংশ পাওয়ার মধ্য দিয়ে যাতে বিনিয়োগকারীরা ক্ষতিগ্রস্ত না হয় সে জন্য এর ওপর ১৫ শতাংশ কর ধার্য করা হয়েছে। পাশাপাশি দ্বৈতকর, দুর্বল কোম্পানির মার্জার সুবিধাসহ কিছু প্রণোদনা রয়েছে বাজেটে। এসব সুবিধার কারণে পুঁজিবাজারের পরিস্থিতি ভালো হতে পারে বলে বিশ্লেষকরা জানিয়েছিলেন। কিন্তু প্রতিবেদন অনুযায়ী, কয়েকদিন ধরেই দুর্বল এবং ‘জেড’ ক্যাটেগরির কোম্পানি প্রভাব দেখাচ্ছে। এটি পুঁজিবাজার ও বিনিয়োগকারীদের জন্য নিঃসন্দেহে ভালো খবর নয়।
পুঁজিবাজার ঘিরে বিভিন্ন চক্র সক্রিয় দীর্ঘদিন, সুযোগ পেলেই বাজার থেকে ফায়দা লুটছে। এতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বিনিয়োগকারীরাই। বাজারসংশ্লিষ্ট এবং বিশ্লেষকরা এবারও সে সম্ভাবনা উড়িয়ে দিচ্ছেন না। এক্ষেত্রে বিনিয়োগকারীদের আরও সতর্ক থেকে জেনেবুঝে বিনিয়োগ করতে হবে। পাশাপাশি এ ধরনের পরিস্থিতিতে যে বা যারাই জড়িত থাকুন না কেন তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে। দায়িত্বটা নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনকেই (বিএসইসি) সবার আগে নিতে হবে। এছাড়া বাজেটে দেওয়া প্রণোদনায় যাতে সর্বোচ্চ ফল পাওয়া যায়, সেদিকে নজর দেওয়া প্রয়োজন বলে আমরা মনে করি।

 

 

সর্বশেষ..