পুঁজিবাজারে নেতৃত্বে ফিরেছে মৌলভিত্তির কোম্পানি 

কোণঠাসা কারসাজিচক্র

নিজস্ব প্রতিবেদক: একটানা তিন সপ্তাহ ধরে পুঁজিবাজারের নেতৃত্ব দিচ্ছে প্রধান খাতগুলোর অন্যতম ব্যাংক, টেলিকম, বস্ত্র ও প্রকৌশল খাতের কোম্পানিগুলো। একসময় অস্বাভাবিক শেয়ারদর বৃদ্ধি পাওয়া বিতর্কিত কোম্পানির দরপতনের পাশাপাশি লেনদেন কমেছে গত সপ্তাহে। এর প্রভাবে সপ্তাহ লেনদেনে অংশ নেওয়া ৩৪৫টি কোম্পানি ও মিউচুয়াল ফান্ডের ৬০ শতাংশরই দরপতন হয়েছে। কিন্তু মৌলভিত্তি খাতের মধ্যে ব্যাংক, আর্থিক প্রতিষ্ঠান, জ্বালানি ও বিদ্যুৎ, খাদ্য ও আনুষঙ্গিক খাতের নেতৃত্বে ডিএসইর সূচক ও লেনদেন ঘুরে দাঁড়ায়। কোণঠাসা হয়ে পড়ে কারসাজি চক্র।
দেশের প্রধান পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) গত ৯ আগস্ট শেষ হওয়া সপ্তাহের লেনদেন বিশ্লেষণে এমন তথ্য পাওয়া গেছে। সপ্তাহের প্রথম দুই কার্যদিবসেই নেতিবাচক ধারায় লেনদেন শেষ হয়। প্রধান প্রধান খাতের কোম্পানির কারণে পাঁচ কার্যদিবসের তিন কার্যদিবসেই সূচক ইতিবাচক ধারায় লেনদেন শেষ করে। এর প্রভাবে ডিএসইর প্রধান সূচক ডিএসইএক্স সাত দশমিক ২১ পয়েন্ট বা শূন্য দশমিক এক শতাংশ বৃদ্ধি পায় আগের সপ্তাহের চেয়ে। একসময় অস্বাভাবিক শেয়ারদর বৃদ্ধিতে থাকা দুর্বল কোম্পানি থেকে সরে যেতে শুরু করেন বিনিয়োগকারীরা। এর ফলে পুরো বাজারে প্রভাব পড়ে, কমে যায় অধিকাংশ খাতের শেয়ারদর।
এসবের মাঝে মৌলভিত্তি কোম্পানি বলে বিবেচিত ব্যাংক, আর্থিক প্রতিষ্ঠান, জ্বালানি ও বিদ্যুৎ, খাদ্য ও আনুষঙ্গিক খাতের শেয়ারে সক্রিয় হন সাধারণ ও প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারী। এ চার খাতের হাত ধরেই এগিয়ে যায় ডিএসইর লেনদেন। অবশ্য এ চার খাতের নেতৃত্ব দেয় ব্যাংক খাত। এ কারণেই গত সপ্তাহে বিনিয়োগকারীদের অংশগ্রহণ বেড়েছে শূন্য দশমিক শূন্য দুই শতাংশ।
সপ্তাহ শেষে ডিএসইতে আগের সপ্তাহের চেয়ে লেনদেনের আকার ৯ দশমিক ছয় শতাংশ ও সংখ্যা তিন দশমিক ৯ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। আগের সপ্তাহেও ব্যাংক ও টেলিকম খাতের কোম্পানির হাত ধরে এগিয়েছিল ডিএসইর সূচক ও লেনদেন।
প্রসঙ্গত, এক বছর ধরেই নতুন বিনিয়োগ ছাড়া অস্বাভাবিক গতিতে শেয়ারদর বাড়ছে বিতর্কিত কিছু কোম্পানির। কয়েক দফা কারণ দর্শানোর চিঠি দিলেও কোম্পানিগুলোর পক্ষ থেকে মূল্য বৃদ্ধিসংক্রান্ত কোনো কারণ নেই বলে জানানো হয়। এরই পরিপ্রেক্ষিতে প্রকৃত ঘটনা জানতে গত ৮ আগস্ট ১৩টি কোম্পানিকে চিঠি দিয়েছে ডিএসই। সেই চিঠিতে বলা হয়, কোম্পানির সার্বিক সর্বশেষ অবস্থান জানাতে হবে। সূত্রমতে, আরও ১৭টি কোম্পানিকে পর্যায়ক্রমে এমন চিঠি দিতে যাচ্ছে ডিএসই। কোম্পানিগুলো এর পরও সাবধান না হলে তাদের তালিকাচ্যুত করার মতো সিদ্ধান্তও নিতে পারে ডিএসই।
এমন খবরে ওই দিনই একাধিক বিতর্কিত কোম্পানির শেয়ারদরে পতন ঘটে। এ সময় মৌলভিত্তি ছাড়া অধিকাংশ খাতের শেয়ারদরে পতন হওয়ার প্রভাব পড়ে ডিএসইর বাজার মূলধনে। সপ্তাহ শেষে ডিএসই বাজার মূলধন হারিয়েছে দুই হাজার ২৬৬ কোটি ৪৭ লাখ টাকার।
আগের সপ্তাহে ডিএসইতে মোট লেনদেনে ব্যাংক খাতের অবদান যেখানে ছিল ছয় শতাংশ, এর আগের সপ্তাহে ছিল চার শতাংশ, সেখানে গত সপ্তাহে তা বৃদ্ধি পেয়ে আট শতাংশে উন্নীত হয়েছে। অন্যান্য খাতে দরপতন হলেও লেনদেনে এগিয়েছে প্রকৌশল ও বস্ত্র খাতের কোম্পানিগুলো।
লেনদেনের খাতভিত্তিক তথ্যে দেখা যায়, সপ্তাহ শেষে ডিএসইর মোট লেনদেনে ১৮ শতাংশ অবদান রেখেছে প্রকৌশল খাত ও ২৮ শতাংশ বস্ত্র খাত। খাদ্য ও আনুষঙ্গিক খাত চার শতাংশ এবং বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাত ছয় শতাংশ অবদান রেখেছে।
দুই সপ্তাহ ধরে ডিএসইতে দরহারানো শীর্ষ দশ কোম্পানির মধ্যে প্রথম অবস্থানে রয়েছে সাভার রিফ্যাক্টরিজ। কোনো কারণ ছাড়াই সাম্প্রতিক সময়ে স্বল্পমূলধনি এ কোম্পানিটির শেয়ারদর বৃদ্ধি পেয়েছে, অথচ কোম্পানিটি নতুন কোনো বিনিয়োগ পরিকল্পনায় যায়নি। গত সপ্তাহের পুরোটা সময়েই দর হারিয়েছে কোম্পানিটি। সপ্তাহ শেষে বিতর্কিত কোম্পানিটি দর হারিয়েছে ৩০ দশমিক ৬০ শতাংশ। এর পরই রয়েছে পদ্মা লাইফ (২০ দশমিক ১৫ শতাংশ) ও ফাইন ফুডস (১৬ দশমিক ৫৭ শতাংশ)।
অপরদিকে গত সপ্তাহ শেষে গেইনারের শীর্ষে রয়েছে মেঘনা পেট (৩২ দশমিক শূন্য তিন শতাংশ)। এর পরই রয়েছে প্রগ্রেসিভ লাইফ ইন্স্যুরেন্স (২৬ দশমিক ৪৬ শতাংশ) ও মেঘনা কনডেন্সড মিল্ক (২১ দশমিক ৪৮ শতাংশ)।