পুঁজিবাজারে ব্যাংকনির্ভরতা কমাতে হবে

প্রতি রবি থেকে বৃহস্পতিবার পুঁজিবাজারের বিভিন্ন ইস্যু নিয়ে এনটিভি ‘মার্কেট ওয়াচ’ অনুষ্ঠানটি সম্প্রচার করে। বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ বিবেচনায় তার গুরুত্বপূর্ণ অংশ নিয়ে শেয়ার বিজের নিয়মিত আয়োজন ‘এনটিভি মার্কেট ওয়াচ’ পাঠকের সামনে তুলে ধরা হলো:

পুঁজিবাজার পতনের জন্য মুদ্রানীতিতে এডি রেশিও কমানোকে যে দায়ী করা হচ্ছে, সেটি সঠিক নয়। কারণ বাংলাদেশ ব্যাংক তৎক্ষণাৎই সে সিদ্ধান্ত মুলতবি করে ডিসেম্বর পর্যন্ত। কাজেই বাজার পড়ার পেছনে এডি রেশিও দায়ী, এ যুক্তি ধোপে টেকে না। অন্যদিকে কৌশলগত অংশীদারের কারণে শেয়ারদর পড়ছে, এটিও যৌক্তিক বলে মনে হচ্ছে না। পুঁজিবাজারের ব্যাংকনির্ভরতা কমাতে হবে। পুঁজিবাজারে একটি গ্রুপ বা দল তৈরি হয়ে গেছে। সেই গ্রুপটি যখন খুশি তখন শেয়ারদর কমায় বা বাড়ায়। ওই গ্রুপের কিছু লোক সব সময় বাজার থেকে অর্থ হাতিয়ে নিয়ে যায়। গতকাল এনটিভির মার্কেট ওয়াচ অনুষ্ঠানে বিষয়টি আলোচিত হয়। অধ্যাপক ড. মিজানুর রহমানের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে আলোচক ছিলেন বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ খন্দকার ইব্রাহিম খালেদ এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. মো. হেলাল।

খন্দকার ইব্রাহিম খালেদ বলেন, পুঁজিবাজার পতনের জন্য মুদ্রানীতিতে এডি রেশিও কমানোকে যে দায়ী করা হচ্ছে, সেটি ঠিক নয়। কারণ বাংলাদেশ ব্যাংক তৎক্ষণাৎই সেটিকে মুলতবি করেছে ডিসেম্বর পর্যন্ত। মানে ডিসেম্বর পর্যন্ত এডি রেশিও কমাতে হবে না। কাজেই বাজার পড়ার পেছনে এডি রেশিও দায়ী, এই যুক্তি ধোপে টেকে না। অন্যদিকে কৌশলগত অংশীদারের কারণে শেয়ারদর পড়ছে এটিও যৌক্তিক বলে মনে হচ্ছে না। তাছাড়া পুঁজিবাজারে ব্যাংক খাতের ওপর নির্ভরশীলতা সব সময় ছিল। তবে ২০১০ সালেই আইএমএফের সুপারিশে কিছু নীতি পরিবর্তন করা হয়েছিল, কারণ পৃথিবীর কোনো দেশেই জনগণের ব্যাংকে রাখা টাকা পুঁজিবাজারে ব্যবহার করা হয় না। তবে ব্যাংকের পরিশোধিত মূলধনের কিছু অংশ করা যেতে পারে, কিন্তু গ্রাহকের একটি পয়সাও করা যাবে না। কিন্তু বাংলাদেশে কোনো কারণে এটা করা হতো। গ্রাহকদের ১০ ভাগ টাকা ব্যবহার করতে পারত। কিন্তু এটি নজরে আসামাত্রই আইএমএফের নির্দেশে সেটি পরিবর্তন করা হয়েছে। এখন পরিশোধিত মূলধনের ২৫ শতাংশ বিনিয়োগ করতে পারবে। পুঁজিবাজারে ব্যাংকনির্ভরতা কমাতে হবে। তিনি বলেন, বলা হয়ে থাকে একেক সময় একেকটি ইস্যুর কারণে বাজার পড়ে, কিন্তু আমার অনুসন্ধানে মূল কারণ ভিন্ন বলে মনে হয়। সেটি হচ্ছে, এখানে একটি গ্রুপ বা দল তৈরি হয়ে গেছে। সেই গ্রুপটি যখন খুশি তখন শেয়ারদর কমায় বা বাড়ায়। ওই গ্রুপের কিছু লোক সব সময় বাজার থেকে অর্থ হাতিয়ে নিয়ে যায়। লক্ষ করলে দেখবেন, ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের সদস্যসংখ্যা ২০০ জনের মতো। দেশের এত বড় একটি স্টক এক্সচেঞ্জে মাত্র ২০০ সদস্য কেন? এই সংখ্যাটি কেন বাড়ে না? ১০-১২ বছর আগে থেকেই শুনে আসছি এই সদস্যসংখ্যা। কথা হচ্ছে, ওই গ্রুপটি এটিকে বাড়তে দেয় না, যাতে করে ওই কোটারিটা বহাল রাখা যায়। এ ক্ষেত্রে সিকিউরিটিজ এক্সচেঞ্জ কমিশন কিছু শর্ত দিতে পারে। যারা এসব শর্ত পূরণ করবে তারা সদস্য হওয়ার যোগ্যতা লাভ করবে। সঙ্গে অবশ্যই একটি ফিও দিতে হবে। আর এভাবে যদি সদস্যসংখ্যা বাড়ানো যায় তাহলে এই গ্রুপের ক্ষমতা কিছুটা কমবে।

ড. মো. হেলাল বলেন, দেশের পুঁজিবাজারে অধিকাংশ সময়ই দেখা যায়, যখন বাজার পড়তে থাকে তখনই কোনো একটি ইস্যু এনে দাঁড় করানো হয়। তখন বাজার পড়ার যে মূল কারণ থাকে, সেটাই অনেক সময় আমরা বুঝে উঠতে পারি না। সম্প্রতি বাজার পড়ার কারণ হিসেবে স্ট্র্যাটেজিক পার্টনারকে দায়ী করা হচ্ছে। কিন্তু আমার মনে হয়, স্ট্র্যাটেজিক পার্টনারের ইস্যুটি যদি না থাকত তাহলেও হয়তো বাজারের এই সমস্যা দেখা যেত। বাজার পতনের আরও কারণ হিসেবে খালেদা জিয়ার মামলার রায় ও মুদ্রানীতিকে দায়ী করা হয়েছিল। কিন্তু এবারের মুদ্রানীতি ঘোষণায় এমন কিছু ছিল না যার কারণে বাজার এভাবে পড়তে পারে।

 

শ্রুতিলিখন: রাহাতুল ইসলাম