পুঁজিবাজার অগ্রসর  হোক সুস্থিরভাবে

গতকাল রোববার শেয়ার বিজের অনলাইন সংস্করণে প্রকাশিত একটি খবরের শিরোনাম ছিল ‘ডিএসই: প্রধান সূচক বেড়েছে ৭৯ দশমিক ৯১ পয়েন্ট’। বিস্তারিত খবরে আমাদের প্রতিনিধি জানিয়েছেন, গতকাল লেনদেন বৃদ্ধির মধ্য দিয়ে শেষ হয় দেশের প্রধান পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) প্রথম সাপ্তাহিক কার্যদিবস। আরও জানা যায়, ডিএসইর প্রধান মূল্যসূচক ডিএসইএক্স আগের দিনের তুলনায় ৭৯ দশমিক ৯১ পয়েন্ট বেড়ে ৫ হাজার ৪২২ দশমিক ৭৯ পয়েন্টে অবস্থান করছিল দিনশেষে। সারা দিনে সেখানে নাকি লেনদেন হয়েছে ৩২৮টি কোম্পানি ও মিউচুয়াল ফান্ডের শেয়ার ও ইউনিট। তার মধ্যে ২১৩টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিটের দর বেড়েছে। কমেছে ৯৯টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিট দর এবং অপরিবর্তিত ছিল ১৬টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিটের দাম। আপাতদৃষ্টিতে ২১৩টি প্রতিষ্ঠানের দর বৃদ্ধির বিপরীতে ৯৯টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ারদর হ্রাসের খবরে বিচলিত হওয়ার কিছু নেই। বরং সাম্প্র্রতিক সময়ে স্থিতিশীল পুঁজিবাজারে একে উন্নতির লক্ষণ হিসেবে ধরে নেওয়া যায়। তবে খতিয়ে দেখলে বিষয়টি বেশ জটিল এবং একে হালকাভাবে নেওয়ার সুযোগ নেই।

গত কয়েক দিনের শেয়ার বিজে প্রকাশিত নানা প্রতিবেদন অনুযায়ী, কয়েকটি কোম্পানির শেয়ারদরে অস্বাভাবিক বৃদ্ধি পরিলক্ষিত হয়েছে। কোম্পানির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, এর পেছনে মূল্য সংবেদনশীল কোনো তথ্য নেই। অথচ যেভাবে একশ্রেণির শেয়ারের দাম বেড়েছে, তাতে করে বৃদ্ধিটিকে ‘স্বাভাবিক’ বলতে চান না সচেতন বিনিয়োগকারীরা। কথা হলো, বাজারের কোন পর্যায়কে স্বাভাবিক ও কোনটিকে অস্বাভাবিক ধরা যায়, তার সুনির্দিষ্ট সংজ্ঞা নেই। আবার মন্দা বাজার চাঙা হওয়া শুরু করলে প্রথম প্রথম সাময়িকভাবে ‘অস্বাভাবিক’ দর বৃদ্ধিও ঘটতে পারে। আমরা মনে করি, বিদ্যমান পরিস্থিতিতেও বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) উচিত হবে দুটি মৌলিক বাজার উপাদানের ওপর নজরদারি বাড়ানো এক, উদ্ভূত পরিস্থিতি সৃষ্টির পেছনে কোনো ফাটকা উপাদানের ভূমিকা রয়েছে কি না এবং দুই, ইনসাইডার ট্রেডিং হচ্ছে কি না। এক্ষেত্রে উল্লেখ্য, ফাটকা উপাদানের উদ্ভব প্রধানত চাঙা বাজারের বৈশিষ্ট্য। এখন আমাদের মতো একটি উন্নয়নশীল দেশের পুঁজিবাজারে মূল্য স্তর উত্থানকালে সেই উপাদান সক্রিয় হতে পারবে না, এমনটি কোথাও লেখা নেই। এদিকে ফাটকাবাজি থেকে বিনিয়োগকারীদের বিরত রাখার মোক্ষম উপায়, বিনিয়োগ বিষয়ে তাদের সচেতনতা বৃদ্ধি করা। ২০১০-১১ সালে বাজার বিপর্যয়ের পর তারা নিজে থেকে যতটুকু শিখেছেন, তার বাইরে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের সচেতনতা বাড়াতে উপযুক্ত সংখ্যক কার্যক্রম গৃহীত হয়নি বলে অনেকের অভিযোগ। পাশাপাশি যত কার্যক্রম গৃহীত হয়েছে, সেগুলোর ফলও যথেষ্ট স্পষ্ট নয়। এক্ষেত্রে বিএসইসির উচিত আরও জোরদার কর্মসূচি গ্রহণ করা। হঠাৎ করে একশ্রেণির কোম্পানির শেয়ারদরে বৃদ্ধির আরেকটি কারণ হতে পারে, ইনসাইডার ট্রেডিং। খেয়াল করার মতো বিষয়, বাজারে দর বৃদ্ধি হবে, আবার বাজার কর্তৃক তা সংশোধনের মাধ্যমে সুস্থিরভাবে এগোবে পুঁজিবাজার, এটাই প্রত্যাশিত। তবে একশ্রেণির সুযোগসন্ধানী প্রতিষ্ঠান বা তাদের কিছু কর্মী যদি উন্নয়নশীল বাজারের সাধারণ বিনিয়োগকারীদের নিজ স্বার্থ উদ্ধারে অন্যায়ভাবে ব্যবহার করতে চায়, তাদের বিরুদ্ধে শক্ত ব্যবস্থা নিতে হবে। আর সেক্ষেত্রে নিয়ন্ত্রণ সংস্থার শক্তিশালী ভূমিকাই প্রত্যাশা করেন সবাই। চলমান পরিস্থিতিতে খতিয়ে দেখা দরকার, তেমন সন্দেহজনক কিছু ঘটছে কি না। ঘটলে জড়িতদের বিরুদ্ধে দ্রুততার সঙ্গে দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হোক এটাই কাম্য।