পুঁজিবাজার কখনোই অর্থনীতির সমান্তরালে চলেনি

প্রতি রবি থেকে বৃহস্পতিবার পুঁজিবাজারের বিভিন্ন ইস্যু নিয়ে এনটিভি ‘মার্কেট ওয়াচ’ অনুষ্ঠানটি সম্প্রচার করে। বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ বিবেচনায় তার গুরুত্বপূর্ণ অংশ নিয়ে শেয়ার বিজের নিয়মিত আয়োজন ‘এনটিভি মার্কেট ওয়াচ’ পাঠকের সামনে তুলে ধরা হলো:

আমাদের দেশের পুঁজিবাজার কখনোই অর্থনীতির সমান্তরালে চলেনি। যখন অর্থনীতি ভালো হয় তখন পুঁজিবাজার খারাপ থাকে, আবার পুঁজিবাজার ভালো তো অর্থনীতি খারাপ। আর এই অমিল অর্থনীতির জন্য খুবই ক্ষতিকর। এছাড়া পুঁজিবাজারে ব্র্যান্ড হিসেবে পরিচিত কোম্পানিগুলো তালিকাভুক্ত হচ্ছে না। যাদের পণ্য প্রতিনিয়ত মানুষ কেনাবেচা করছে, সেসব কোম্পানি আসছে না। আবার অনেক কোম্পানির কার্যক্রম নেই, কিন্তু তার দর সমানে বাড়ছে। এটিও বাজারের জন্য ভালো নয়। গতকাল এনটিভির মার্কেট ওয়াচ অনুষ্ঠানে বিষয়টি আলোচিত হয়। হাসিব হাসানের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে আলোচক ছিলেন স্টারলিংক স্টক অ্যান্ড সিকিউরিটিজ লিমিটেডের সিইও এসএম নাসিরউদ্দিন এবং একাত্তর টেলিভিশনের বিজনেস এডিটর কাজী আজিজুর ইসলাম।

এসএম নাসিরউদ্দিন বলেন, অর্থনীতি এবং পুঁজিবাজার একে অন্যের পরিপূরক। যে দেশের পুঁজিবাজার যত শক্তিশালী সে দেশের অর্থনীতিও ততটাই শক্তিশালী। পুঁজিবাজার যদি শক্ত ভিত্তির ওপর না দাঁড়ায় তাহলে অর্থনীতি কখনও গতিশীল হতে পারে না। যদি হয়ও তাহলে তা দীর্ঘদিন টেকসই থাকে না। তাই পুঁজিবাজারকে অর্থনীতির প্রধান ভিত্তি হিসেবে দাঁড় করাতে হবে। ব্যাংকগুলো মূলত একটি কোম্পানির সাময়িক পুঁজির সরবরাহ দিয়ে থাকে, বিশেষ করে ওয়ার্কিং ক্যাপিটাল। আর দীর্ঘমেয়াদি পুঁজির সংস্থান করে পুঁজিবাজার, কিন্তু আমাদের দেশে ঘটছে উল্টোটি। তাছাড়া যে দেশের বাজেটের আকার চার লাখ কোটি টাকার ওপরে সে দেশের পুঁজিবাজারে দৈনন্দিন লেনদেন ৬০০-৭০০ কোটি টাকা থাকা উচিত নয়, ১০ থেকে ১২ হাজার কোটি টাকা হওয়া উচিত। পুঁজিবাজারে বিনিয়োগকারীর সংখ্যা অবশ্যই বাড়াতে হবে।

কাজি আজিজুর ইসলাম বলেন, গত মাসে পরিকল্পনামন্ত্রী বাংলাদেশে জিডিপির (মোট দেশজ উৎপাদন) চূড়ান্ত আকার ২০ লাখ কোটি টাকা ওপরে ঘোষণা করেছেন। আর এটি প্রাথমিক গণনা। সব মিলিয়ে ২৫ লাখ কোটি টাকার মতো হবে। দেশের অর্থনীতির আকার এখন ফিনল্যান্ডের থেকেও বড়, কিন্তু ফিনল্যান্ডের পুঁজিবাজার আমাদের দেশের থেকে অনেক ভালো। ২০১০ সালে দেশের অর্থনীতি হয়তো ১২-১৪ লাখ কোটি টাকার মতো ছিল। তখন তিন হাজার কোটি টাকার লেনদেন হয়েছে পুঁজিবাজারে। এখন লেনদেন হচ্ছে ৭০০ কোটি টাকা। আর এই ব্যবধানটি স্বাভাবিক নয়। দেশের পুঁজিবাজার কখনোই অর্থনীতির সমান্তরালে চলেনি। দেখা যায় অর্থনীতি ভালো হলে পুঁজিবাজার খারাপ থাকে, আবার পুঁজিবাজার ভালো তো অর্থনীতি খারাপ। আর এই অমিল অর্থনীতির জন্য খুবই ক্ষতিকর। মানুষ গুজব ও হুজুগে পুঁজিবাজারে বিনিয়োগ করে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। পুঁজিবাজারে ব্র্যান্ড হিসেবে পরিচিত কোম্পানিগুলো বলতে গেলে নেই। যাদের পণ্য প্রতিনিয়ত মানুষ কেনাবেচা করছে সেসব কোম্পানি তালিকাভুক্ত নয়। এটিও পুঁজিবাজার ও অর্থনীতির জন্য ক্ষতিকর। আবার অনেক কোম্পানির কার্যক্রম নেই, কিন্তু তার দর সমানে বাড়ছে, এটিও বাজারের জন্য ভালো নয়।

 

শ্রুতি লিখন: রাহাতুল ইসলাম