সম্পাদকীয়

পুঁজিবাজার চাঙা করতে বাইব্যাক পদ্ধতি চালু করুন

মাথাপিছু আয়, জিডিপির প্রবৃদ্ধি, রফতানি আয়সহ অর্থনীতির প্রায় সব সূচকই যখন ইতিবাচক, তখন পুঁজিবাজারের বিপরীত অবস্থায় সচেতন নাগরিক মাত্রই উদ্বিগ্ন হবে। এটি সরকারের জন্যও অস্বস্তিকর। বাজার চাঙা রাখতে সময়-ব্যবস্থা নেওয়া হলেও দীর্ঘ মেয়াদে সুফল মেলেনি। পুঁজিবাজারের প্রাণ বিনিয়োগকারীদের সুরক্ষা ও তাদের বাজারে ধরে রাখতে নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলোর কার্যক্রমে সীমাবদ্ধতা রয়েছে বলে শোনা যায়। প্রায়ই ‘জেড’ ক্যাটেগরির কোম্পানির দৌরাত্ম্য ও দুর্বল কোম্পানি বাজার থেকে অর্থ তুলে নিয়ে পুঁজিবাজার অস্থিতিশীল করছে। এ অবস্থা নিরসনে দুর্বল কোম্পানির তালিকাভুক্তি রোধ এবং লাভজনক দেশি ও বহুজাতিক করপোরেট প্রতিষ্ঠানকে বাজারে তালিকাভুক্ত হতে আগ্রহী করতে কৌশল প্রণয়নের দাবি জানিয়ে আসছেন বিনিয়োগকারীরা। গতকাল শেয়ার বিজের প্রতিবেদন ‘দুর্বল কোম্পানির তালিকাভুক্তি রোধ: বাইব্যাক আইন চান বিনিয়োগকারীরা’ পাঠকের মনোযোগ কাড়বে বলেই ধারণা।
খবরে জানা যায়, বিশ্বের অনেক দেশের পুঁজিবাজারে বাইব্যাক পদ্ধতির প্রচলন থাকলেও আমাদের দেশের কোম্পানি আইনে তা নেই। এ সুযোগে পুঁজিবাজারে দুর্বল কোম্পানি তালিকাভুক্ত হচ্ছে। আর ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে সাধারণ বিনিয়োগকারীকে।
বাইব্যাক পদ্ধতি অনুযায়ী, পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত কোনো কোম্পানির শেয়ারদর অভিহিত দর বা ইস্যু দরের নিচে নেমে গেলে সংশ্লিষ্ট কোম্পানি কিংবা ইস্যু ম্যানেজারকে এ শেয়ার কিনে নিতে হয়। পুঁজিবাজার থেকে অংশীজনদের সুফল পাওয়া নিশ্চিতের জন্য বাইব্যাক পদ্ধতির প্রয়োগ অপরিহার্য বলে আমরা মনে করি। এতে ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীরাই লাভবান হবেন তা নয়, মূলধারার কোম্পানিগুলোও উপকৃত হবে।
কোম্পানি নিবন্ধন আইন সংশোধনের মাধ্যমে শেয়ারবাজারে বাইব্যাক অন্তর্ভুক্ত করার কথা জানিয়েছিলেন সাবেক অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত। তার এ ঘোষণার পর সে সময় বাইব্যাক আইনের খসড়াও তৈরি হয়। তবে পরবর্তী সময়ে তা আর এগোয়নি। আমরা মনে করি, বাইব্যাক পদ্ধতি চালু করতে গেলে এখনও বাধা আসবে। পুঁজিবাজার রক্ষায় সেসব বাধা উপেক্ষা করতে হবে। অংশীজনদের কাছে পদ্ধতির সুবিধাগুলো তুলে ধরতে হবে। বোঝাতে হবে, প্রয়োজনের তুলনায় মূলধন বেশি হয়ে গেলে শেয়ারহোল্ডারদের কাছ থেকে শেয়ার কিনে নিয়ে কোম্পানির অতিরিক্ত মূলধন বিনিয়োগকারীদের ফেরত দেওয়া হলে সম্পদের সর্বোচ্চ ব্যবহার হবে। এতে কোম্পানির শেয়ারপ্রতি আয় বাড়ে এবং বিনিয়োগকারীরা বেশি মুনাফা পান। একই সঙ্গে শেয়ারসংখ্যা কমে যাওয়ায় সেকেন্ডারি বাজারে শেয়ারের দরও বাড়ে। বিশ্বের যেখানেই বাইব্যাক পদ্ধতির প্রয়োগ হয়েছে, সেখানেই সংশ্লিষ্ট কোম্পানির শেয়ারে এ ধরনের ইতিবাচক পরিবর্তন দেখা গেছে। আমরা আশা করি, দেশ ও দশের স্বার্থে বাইব্যাক পদ্ধতি চালুর উদ্যোগ নেবে নিয়ন্ত্রক সংস্থা।

 

সর্বশেষ..