পুঁজিবাজার রক্ষায় দরকার দ্রুত সমন্বিত পদক্ষেপ

রুবাইয়াত রিক্তা: কিছুতেই থামানো যাচ্ছে না পুঁজিবাজারের পতন। গত তিন দিনে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের প্রধান সূচকের ২০৪ পয়েন্ট পতন হয়েছে। বিক্রির চাপ অব্যাহত রয়েছে। বাজারের ভারসাম্য রক্ষায় প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের কোনো ভূমিকাই লক্ষ করা যাচ্ছে না। বাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলোর পক্ষ থেকে কোনো আশ্বাস না পেয়ে বিনিয়োগকারীরা আতঙ্কে শেয়ার বিক্রি করে দিচ্ছেন, যার ফলে বাজার দ্রুত গতিতে নিচে নেমে যাচ্ছে। বিনিয়োগকারীরা আস্থা হারিয়ে ফেলছেন বাজারের প্রতি। এদিকে গতকাল বাজার পতনের জন্য কেন্দ্রীয় ব্যাংককে দায়ী করেছেন বাজারসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সংগঠনের নেতারা। অতীতের অভিজ্ঞতা থেকে দেখা গেছে, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের বিভিন্ন সিদ্ধান্ত অধিকাংশ সময়েই পুঁজিবাজারে পতন ডেকে এনেছে। দেশের অর্থনীতির একটি বড় খাত পুঁজিবাজারকে ধ্বংসের হাত থেকে রক্ষা করতে হলে নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলোকে ভেবেচিন্তে দ্রুত এবং সমন্বিতভাবে সিদ্ধান্ত নিতে হবে। না হলে ২০১০ সালের মতো আবারও দীর্ঘমেয়াদি আস্থাহীনতা তৈরি হবে বাজারে।
গতকাল প্রায় ৮২ পয়েন্ট সূচক পতনের পাশাপাশি লেনদেন হয় ২৮২ কোটি টাকা। মাত্র পাঁচ শতাংশ বা ১৮টি কোম্পানির দর বেড়েছে। কমেছে ৮৬ শতাংশ শেয়ারদর। গতকাল সবচেয়ে বেশি লেনদেন হয় বস্ত্র খাতে। এ খাতে লেনদেন হয়েছে ১৮ শতাংশ বা প্রায় ৪৮ কোটি টাকা। এ খাতের নতুন আসা কোম্পানি কুইন সাউথ ও শাশা ডেনিম ছাড়া বাকি সব কোম্পানি পতনে ছিল। মন্দাবাজারে খুব বেশি সুবিধা করতে পারেনি কুইন সাউথ। এর ওপেনিং প্রাইজ ৩৭ টাকা হলেও দিনশেষে দর দাঁড়ায় ৩২ টাকা ৫০ পয়সায়। ব্যাংক খাতে ১৬ শতাংশ লেনদেন হলেও এ খাতের শতভাগ কোম্পানি দরপতনে ছিল। প্রকৌশল খাতে লেনদেন হয় ১৩ শতাংশ। এ খাতের পাঁচ কোম্পানি বা ১৩ শতাংশ শেয়ারের দর বেড়েছে। ওষুধ ও রসায়ন খাতে ১১ শতাংশ লেনদেন হলেও মাত্র চারটি কোম্পানি বা ১৪ শতাংশ শেয়ারের দর বেড়েছে। ব্যাংক ছাড়াও সিরামিক, টেলিযোগাযোগ, সেবা ও আবাসন, পাট, কাগজ ও প্রকাশনা খাত শতভাগ নেতিবাচক ছিল। গতকাল লেনদেনের শীর্ষে উঠে আসা কুইন সাউথ কোম্পানির সাড়ে ১৮ কোটি টাকার শেয়ার লেনদেন হয়। এছাড়া মুন্নু সিরামিকের প্রায় ১২ কোটি, গ্রামীণফোনের সাড়ে সাত কোটি, স্কয়ার ফার্মার ছয় কোটি এবং ইফাদ অটোসের পাঁচ কোটি টাকার শেয়ার লেনদেন হয়। এর মধ্যে কুইন সাউথ ছাড়া একমাত্র ইফাদ অটোস কোম্পানির শেয়ারদর বেড়েছে এক টাকা।