পুঞ্জীভূত লোকসানেও এক মাসে দর বেড়েছে ২২ শতাংশ

আজিজ পাইপ

নিজস্ব প্রতিবেদক: পুঞ্জীভূত লোকসানে রয়েছে আজিজ পাইপ। তবুও কোম্পানির শেয়ারদর লাফিয়ে বাড়ছে। গত এক মাসের ব্যবধানে কোম্পানির শেয়ারদর বেড়েছে প্রায় ২২ শতাংশ। তবে দর বাড়ার কোনো ধরনের মূল্য সংবেদনশীল তথ্য নেই বলে জানিয়েছেন কোম্পানির কর্মকর্তারা। এরপরও দর বাড়ায় বিনিয়োগকারীদের মধ্যে এক ধরনের সংশয় দেখা দিয়েছে।
তথ্যমতে, আজিজ পাইপের শেয়ার গতকাল ১৪৭ টাকা ৯০ পয়সায় লেনদেন হয়েছে, যা আগের দিনের চেয়ে ৯ দশমিক ৯৬ শতাংশ বা ১৩ টাকা ৪০ পয়সায় বেড়েছে। এদিন কোম্পানির শেয়ারদর বেড়ে সার্কিট ব্রেকার স্পর্শ করেছে। গতকাল কোম্পানির শেয়ারের সার্কিট ব্রেকারের সর্বোচ্চ সীমা ছিল ১৪৭ টাকা ৯০ পয়সা এবং সর্বনি¤œ সীমা ছিল ১২১ টাকা ১০ পয়সা। গত এক মাস আগে কোম্পানিটি শেয়ার ১২১ টাকায় লেনদেন হয়েছে। গত এক বছরে কোম্পানির শেয়ার সর্বনি¤œ ৬১ টাকা এবং সর্বোচ্চ ১৮১ টাকায় লেনদেন হয়েছে।
দর বাড়ার কারণ সম্পর্কে জানতে চাইলে কোম্পানির ব্যবস্থাপনা পরিচালক (চলতি দায়িত্বে) নূরুল আবসার শেয়ার বিজকে বলেন, কোম্পানিটির দর বাড়ার কারণ জানা নেই। তবে তৃতীয় প্রান্তিকের প্রতিবেদন সম্পর্কিত পর্ষদ সভার তারিখ ঘোষণা করা হয়েছে।
জানা গেছে, দীর্ঘদিন লোকসানে ছিল আজিজ পাইপ। এতে বিনিয়োগকারীদের লভ্যাংশ দিতে ব্যর্থ হয় প্রতিষ্ঠানটি। তবে কোম্পানির পর্ষদ শেয়ার হোল্ডারদের জন্য গত সমাপ্ত হিসাববছরে মাত্র পাঁচ শতাংশ বোনাস লভ্যাংশ দিয়েছে। চলতি হিসাববছরের প্রথম প্রান্তিকে কোম্পানির শেয়ারপ্রতি আয় আগের বছরের চেয়ে সামান্য কমলেও দ্বিতীয় প্রান্তিকে তা বেড়েছে। তবে পুঞ্জীভূত লোকসান রয়েই গেছে। ডিএসইতে দেওয়া তথ্য অনুযায়ী কোম্পানিটির পুঞ্জীভূত লোকসানের পরিমাণ ৪১ কোটি ৮১ লাখ টাকা।
এদিকে, পুঁঞ্জিভূত লোকসানে থাকার পরও কোম্পানির শেয়ারদর লাফিয়ে বাড়ায় বিনিয়োগকারীদের মধ্যে এক ধরনের সংশয় দেখা দিয়েছে। তারা বলছেন, একটি স্বল্পমূলধনী কোম্পানির শেয়ারদর লাফিয়ে বাড়ায় উদ্বিগ্ন তারা। লংকাবাংলায় ট্রেড করেন বিপ্লব (ছদ্মনাম), তিনি বলেন, বাজারে কিছু কোম্পানির সমাপ্ত হিসাববছরের এবং প্রান্তিকের পর্ষদ সভার তারিখ ঘোষণা হয়েছে। এ সুযোগে স্বল্পমূলধনী, লোকসানি কোম্পানির দর বাড়ছে। কোনো চক্র এসব কোম্পানির দর বাড়িয়ে মুনাফা নিয়ে কেটে পড়ার চেষ্টা করছে কিনাÑতা খতিয়ে দেখতে নিয়ন্ত্রক সংস্থার প্রতি দাবি জানাই। এতে বিনিয়োগকারীরা ক্ষতির হাত থেকে রক্ষা পাবে।
দ্বিতীয় প্রান্তিকের প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০১৭ সালের অক্টোবর থেকে ডিসেম্বর তিন মাসে কোম্পানির শেয়ারপ্রতি আয় (ইপিএস) হয়েছে ২৬ পয়সা, আগের বছর একই সময়ে কোম্পানির শেয়ারপ্রতি আয় হয়েছিল ১৭ পয়সা। গত জুলাই থেকে ডিসেম্বর ছয় মাসে কোম্পানির ইপিএস হয়েছে ৩৭ পয়সা, আগের বছর একই সময়ে ইপিএস হয়েছিল ৩১ পয়সা। অপরদিকে, প্রথম প্রান্তিকে গত জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত তিন মাসে কোম্পানির ইপিএস হয়েছিল ১১ পয়সা, আগের বছর একই সময়ে ইপিএস হয়েছিল ১৪ পয়সা।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বাজারে আজিজ পাইপের ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। কিন্তু গ্রাহকদের চাহিদা অনুযায়ী সরবরাহ দিতে পারছে না প্রতিষ্ঠানটি। আর তাই প্রতিযোগিতার বাজারে অনেকটা পিছিয়ে পড়েছে কোম্পানিটি।
কোম্পানির কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলাপকালে তারা জানান, দীর্ঘদিন লোকসানের পর কিছুটা আয়ের মুখ দেখার মাধ্যমে কোম্পানিটি ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করছে। এছাড়া ওয়ার্কিং ক্যাপিটালসহ নানা সমস্যা সমাধানের মাধ্যমে কোম্পানিটি গতিশীল করার পরিকল্পনা রয়েছে। আর এসব বিষয় খুবই দীর্ঘমেয়াদি প্রক্রিয়া।
তারা জানান, বাজারে আজিজ পাইপের পণ্যের চাহিদা রয়েছে বেশ। কিন্তু সে হিসেবে জোগান দিতে পারছে না কোম্পানিটি। তবে কোম্পানিটি ভবিষ্যতে বিভিন্ন পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে পারলে গ্রাহকদের চাহিদার জোগান দেওয়া সম্ভব হবে। এতে মুনাফা ধরে রাখতে পারবে প্রতিষ্ঠানটি।
এ সম্পর্কে কোম্পানির ব্যবস্থাপনা পরিচালক নূরুল আবসার জানান, ‘আমরা চেষ্টা করছি, আমাদের বিভিন্ন কার্যক্রমের মাধ্যমে কোম্পানিটির মুনাফা ধরে রাখতে। যার ভালো সুফল পেতে সময় লাগবে।’
উল্লেখ্য, পুঁজিবাজারে ১৯৮৬ সালে তালিকাভুক্ত কোম্পানিটির অনুমোদিত মূলধন ৫০ কোটি টাকা এবং পরিশোধিত মূলধন পাঁচ কোটি টাকা। কোম্পানির শেয়ার সংখ্যা ৫০ লাখ ৯২ হাজার ৫০০টি। এর মধ্যে উদ্যোক্তা পরিচালকদের কাছে ৩৩ দশমিক ৮৩ শতাংশ, প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের কাছে চার দশমিক ৫৪ শতাংশ এবং সাধারণ বিনিয়োগকারীদের কাছে ৬১ দশমিক ৬৩ শতাংশ শেয়ার আছে।