পুঞ্জীভূত লোকসান ভারী হচ্ছে দুলামিয়া কটনের

মুস্তাফিজুর রহমান নাহিদ: পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত কোম্পানি দুলামিয়া কটনের পুঞ্জীভূত লোকসান বাড়ছে। কয়েক বছর থেকে ধারাবাহিকভাবে বাড়ছে এই প্রতিষ্ঠানের লোকসান। গতকাল প্রতিষ্ঠানটির চলতি আর্থিক বছরের প্রথম প্রান্তিকের (জুলাই-সেপ্টেম্বর) হিসাব প্রকাশ করা হয়েছে। সেখানেও আগের চেয়ে লোকসান বেড়েছে দুলামিয়া কটনের। এদিকে বস্ত্র খাতের এই প্রতিষ্ঠানটি লোকসানে থাকলেও লাগামহীনভাবে বাড়ছে এর দর, যার কারণ বলতে পারছে না প্রতিষ্ঠান কর্তৃপক্ষও।
নিয়ম অনুযায়ী, কোনো প্রতিষ্ঠানের লোকসান বাড়লে বাজারে ওই শেয়ারের দর কমার প্রবণতা দেখা যায়। কিন্তু এই প্রতিষ্ঠানের বেলায় তার উল্টোচিত্র পরিলক্ষিত হচ্ছে। গত ১৩ কার্যদিবসে এই প্রতিষ্ঠানের প্রতিটি শেয়ারদর বেড়েছে প্রায় ২০ শতাংশ। দৈনিক দর বৃদ্ধির গড় হার দুই শতাংশের বেশি। ১৩ কার্যদিবস আগে এই প্রতিষ্ঠানের প্রতিটি শেয়ারের দর ছিল ২৬ টাকা ৭০ পয়সা, গতকাল যার লেনদেন হয়েছে ৩৪ টাকা ১০ পয়সায়।
এর আগে অস্বাভাবিক দর বৃদ্ধির কারণে প্রতিষ্ঠানটিকে নোটিস প্রদান করে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই)। তবে জবাবে প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, তাদের কাছে কোনো সংবেদনশীল তথ্য নেই।
প্রাপ্ত তথ্যমতে, চলতি আর্থিক বছরের প্রথম প্রান্তিকে দুলামিয়া কটনের শেয়ারপ্রতি লোকসান বেড়েছে চার শতাংশ। প্রথম প্রান্তিকে কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি লোকসান হয়েছে এক টাকা ১৭ পয়সা, যার পরিমাণ আগের অর্থবছরের একই সময়ে হয়েছিল এক টাকা ১২ পয়সা। এ হিসেবে লোকসান বেড়েছে পাঁচ পয়সা। এই সময়ে প্রতিষ্ঠানটির শেয়ারপ্রতি সম্পদ (লোকসান) দাঁড়িয়েছে ৩৩ টাকা ৮৫ পয়সা।
এদিকে বিগত বছরগুলোর আর্থিক প্রতিবেদনে দেখা যায়, এই প্রতিষ্ঠানের লোকসান ধারাবাহিকভাবে বাড়ছে। ২০১৪-১৫ আর্থিক বছরে প্রতিষ্ঠানটির লোকসানের পরিমাণ ছিল এক কোটি ৮৮ লাখ টাকা। পরের আর্থিক বছরে যা বেড়ে হয় দুই কোটি ২১ লাখ টাকা। সর্বশেষ আর্থিক বছরে (২০১৬-১৭) এটা বেড়ে হয় দুই কোটি ৮৩ লাখ টাকা।
১৯৮৯ সালে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত কোম্পানিটি বর্তমানে ‘জেড’ ক্যাটেগরিতে অবস্থান করছে, কারণ কয়েক বছর ধরে প্রতিষ্ঠানটি শেয়ারহোল্ডারদের কোনো লভ্যাংশ দিতে পারছে না।
এদিকে বাজারে গুজব রয়েছে প্রতিষ্ঠানটির শেয়ার নিয়ে কারসাজি হচ্ছে। একটি চক্র ইচ্ছা করে কৃত্রিমভাবে শেয়ারদর বাড়াচ্ছে। তারা এটা করছে নিজেদের ফায়দা হাসিলের জন্য। তাই এ ধরনের শেয়ার থেকে দূরে থাকার পরমর্শ দেন বাজারসংশ্লিষ্টরা। তারা বলেন, দ্রুত লাভ করার জন্য যারা এসব কোম্পানিতে বিনিয়োগ করেন, তারা লাভের বদলে বেশিরভাগ সময় লোকসানি হয়ে ফিরে যান।
এ প্রসঙ্গে ডিএসইর সাবেক প্রেসিডেন্ট শাকিল রিজভী বলেন, বিনিয়োগ করার আগে কোম্পানির আর্থিক অবস্থা দেখে নেওয়া উচিত। পৃথিবীর অন্যান্য দেশে এই কালচার থাকলেও আমাদের দেশে এর ব্যতিক্রম দেখা যায়। এখানকার বেশিরভাগ বিনিয়োগকারীই প্রতিষ্ঠানের আর্থিক অবস্থা বিবেচনা না করে অন্যের কথা শুনে বিনিয়োগ করতে ভালোবাসেন। আর এখান থেকে যখন লোকসানি হয়ে ফেরেন তখন তারা অন্যের ওপর দোষ চাপাতে চান। তাদের এই মনোভাব ত্যাগ করতে হবে। মনে রাখতে হবে পুঁজি নিজের, তাই সবার আগে নিজের পুঁজির নিরাপত্তার কথা ভাবতে হবে।