পাঠকের চিঠি

পুনঃতফসিল সুবিধা দিয়ে কৃষকের পাশে দাঁড়ান

আমাদের ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান খাতে অস্থিরতা চলছে দীর্ঘদিন। হাজার হাজার কোটি টাকা লোপাট হওয়ার পাশাপাশি অনিয়ম, দুর্নীতি, মুদ্রা পাচারসহ নানা অভিযোগ রয়েছে। এছাড়া ঋণখেলাপির পরিমাণ বৃদ্ধিও ক্রমেই উদ্বেগ বাড়াচ্ছে অর্থনীতিতে। তবে এ খেলাপির তালিকায় বড় বড় শিল্পপতি ও প্রতিষ্ঠান থেকে শুরু করে সাধারণ কৃষকও রয়েছেন। এক্ষেত্রে বড় খেলাপি ঋণের ক্ষেত্রে ছাড় দেওয়া সমীচীন নয়। তবে প্রকৃত কৃষকদের ক্ষেত্রে খেলাপি ঋণে ছাড় দেওয়া গুরুত্বপূর্ণ বলেই আমরা মনে করি। আশার কথা হলো, কোনো কারণে কৃষিঋণ খেলাপি হলে তা পুনঃতফসিলের সুযোগ করে দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এতে কৃষকরা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া থেকে রক্ষা পাবেন বলেই প্রত্যাশা। তবে ব্যাংকগুলো যাতে প্রকৃত দরিদ্র কৃষকদের যথাযথভাবে এ সুযোগটি দেয়, সে বিষয়ে নজর রাখা উচিত।
কোনো ডাউনপেমেন্ট ছাড়াই খেলাপি হওয়া কৃষিঋণ নিয়মিত করার বিশেষ সুবিধা দিয়ে নির্দেশনা দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এর আওতায় খেলাপি হওয়া কৃষিঋণ পুনঃতফসিলের পাশাপাশি নতুন ঋণও নিতে পারবেন কৃষকরা। এ নির্দেশনা যথাযথ পরিপালিত হলে সাধারণ কৃষকরা চাপমুক্ত হয়ে কৃষিকাজ করতে পারবেন। ফলে কৃষি ক্ষেত্রে ইতিবাচক অগ্রগতি হবে বলে আমরা মনে করি।
প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে আমাদের কৃষক ফসল উৎপাদন ও সংগ্রহে দুর্ভোগের শিকার হয়ে আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হন। এ জন্য অনেকে ঋণ নিয়ে তা যথাসময়ে ফেরত দিতে পারছেন না। ফলে তাদের ঋণখেলাপিতে পরিণত হচ্ছে। এতে সার্বিকভাবে অর্থনীতিতে বিরূপ প্রভাব পড়ার শঙ্কা রয়েছে। দরিদ্র কৃষকদের বিষয়টি সহানুভূতির সঙ্গে বিবেচনা করা উচিত। ঋণখেলাপি হওয়ায় দায়ের হওয়া সার্টিফিকেট মামলা তুলে নিলে কৃষকদের ভোগান্তি আরও কমবে।
আমাদের দেশে প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়নে নানা ধরনের উদ্যোগ নেওয়া হলেও তারা এর প্রকৃত সুফল পান না। এর কারণ মধ্যস্বত্বভোগীদের দুর্নীতি, অনিয়ম। তাই কৃষিঋণ পুনঃতফসিলে বাংলাদেশ ব্যাংক, ঋণ প্রদানকারী ব্যাংকসহ সংশ্লিষ্ট সবাইকে আরও দায়িত্বশীল ও সতর্ক হওয়া জরুরি।

সিরাজ উদ্দিন, মানিকগঞ্জ

সর্বশেষ..