পূরণ হোক নাগরিক প্রত্যাশা

ব্যতিক্রমী মেয়র আনিসুল হকের মৃত্যুর পর সে পদে নতুন একজনকে বেছে নিতে নির্বাচন অনুষ্ঠানে উদ্যোগী হয়েছে নির্বাচন কমিশন। একই সঙ্গে ঢাকার উভয় সিটি করপোরেশনে যুক্ত হওয়া ৩৬টি সাধারণ ও ১২টি সংরক্ষিত ওয়ার্ডে নির্বাচনের তফসিলও ঘোষণা করা হয়েছে। নতুন ওয়ার্ডগুলোর মেয়াদ নিয়ে অবশ্য প্রশ্ন রয়েছে। তবে এগুলোয় নির্বাচন অনুষ্ঠানের কোনো বাধা নেই। ভোট হবে আগামী ২৬ ফেব্রুয়ারি। ততদিনে শীত বিদায় নেবে। বৃষ্টিবাদলও শুরু হয়ে যাবে বলে মনে হয় না। নির্বাচন অনুষ্ঠানের জন্য এটা অনুকূল সময় বলেই মনে হচ্ছে। স্থানীয় সরকারের এ নির্বাচনটির তাৎপর্য এখানেই যে, এর মধ্য দিয়ে রাজধানীর একাংশের মানুষ পাবে একজন নতুন মেয়র, যাকে অবধারিতভাবেই আনিসুল হকের অসমাপ্ত কাজ শেষ করার ব্রত নিতে হবে। বর্ণাঢ্য জীবনের অধিকারী ওই মেয়র প্রথাগত কাজের পাশাপাশি কিছু ব্যতিক্রমী কিন্তু প্রত্যাশিত কাজে হাত দিয়েছিলেন। বেঁচে থাকলে এগুলো হয়তো ইতোমধ্যে আরও এগিয়ে নিতে পারতেন। দুর্ভাগ্যবশত সে সুযোগ তিনি পাননি। এ অবস্থায় যিনিই ঢাকা উত্তরের মেয়র পদে নির্বাচিত হন না কেন, তাকে আনিসুল হকের তৈরি করে যাওয়া প্রত্যাশার অন্তত কাছাকাছি ভূমিকায় অবতীর্ণ হতে হবে। নতুন যুক্ত হওয়া দুই সিটি করপোরেশনের ওয়ার্ডে যারা জনপ্রতিনিধি হিসেবে উঠে আসবেন, তাদের কাছেও মানুষের দাবি কম নয়। প্রথাগত দায়িত্বগুলো অন্তত তাদের যথাযথভাবে পালন করতে হবে; আর কাজগুলো হতে হবে দৃশ্যমান।

সবার আগে আমরা আশা করব, নির্বাচন কমিশন একটি মানসম্পন্ন নির্বাচন অনুষ্ঠানে এগিয়ে আসবে এবং সফল হবে এতে। সরকারও এ কাজে তাকে প্রয়োজনীয় সহায়তা জোগাবে বলে আশা। সম্প্রতি রংপুর সিটি করপোরেশনের যে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে, তাতে গুরুতর কোনো অভিযোগ তোলেননি কেউ। ওই অভিজ্ঞতার পর ঢাকা সিটিতে যে নির্বাচন হতে যাচ্ছে, গ্রহণযোগ্যতার দিক দিয়ে সেটি আরেক ধাপ এগিয়ে গেলে সবাই খুশি হবে। ঢাকা উত্তরের মেয়র বেছে নিতে ৫৪টি ওয়ার্ডের ভোটার ভোট দেবেন। মোট ভোটার প্রায় ৩০ লাখ। এ নির্বাচনে যত ভোটই পড়–ক না কেন, ঢাকা উত্তরের নতুন মেয়র হবেন ওই বিপুলসংখ্যক মানুষের প্রতিনিধি। সংশ্লিষ্ট এলাকায় যারা ভোটার হননি এখনও, বলা বাহুল্য, তাদেরও প্রয়োজনীয় সেবা জোগানোর কাজে নেতৃত্ব দিতে হবে তাকে। এটি সহজ নয়। তাছাড়া প্রয়াত আনিসুল হক তার কাজের মধ্য দিয়ে নাগরিক প্রত্যাশা বাড়িয়ে দিয়ে গেছেন। এদিকে লক্ষ রেখেই রাজনৈতিক দল ও পক্ষগুলো মনোনয়ন দেবে বলে আমরা আশা করব। এ উপলক্ষে আমরা চাইব, ঢাকাসহ দেশের বিপুলসংখ্যক নগরবাসীর চাহিদার দিকগুলো নতুন করে আলোচিত হবে। চাহিদা পূরণ হচ্ছে না বলে নিত্যনতুন চাহিদা নিয়ে আলোচনাও হচ্ছে কম। দেশে নগরায়ণ বাড়ছে শুধু নয়, বাড়ছে এর গতিবেগও। রাজধানীসহ মহানগরীগুলো অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে আরও বেশি অবদান রাখতে শুরু করেছে। এ অবস্থায় স্থানীয় সরকারের অংশ হিসেবে সিটি করপোরেশনে জনপ্রতিনিধিদের ভূমিকা সাধারণভাবেও আলোচিত হওয়া দরকার। এক্ষেত্রে তাদের আইনি কর্তৃত্ব থাকা-না থাকার বিষয়েও যেন দ্বিধাদ্বন্দ্বের অবসান ঘটার পথ তৈরি হয়।