হোম আন্তর্জাতিক পেট্রল ও ডিজেলচালিত গাড়ি নিষিদ্ধ করবে চীন

পেট্রল ও ডিজেলচালিত গাড়ি নিষিদ্ধ করবে চীন


Warning: date() expects parameter 2 to be long, string given in /home/sharebiz/public_html/wp-content/themes/Newsmag/includes/wp_booster/td_module_single_base.php on line 290

শেয়ার বিজ ডেস্ক: বিশ্বের সর্ববৃহৎ গাড়ির বাজার চীন পেট্রল ও ডিজেলচালিত গাড়ি এবং ভ্যান তৈরি ও বিক্রি নিষিদ্ধ করার পরিকল্পনা করছে। গতকাল সোমবার এ খবর প্রকাশের পর বৈদ্যুতিক গাড়ি ও লিথিয়াম ব্যাটারি নির্মাতা প্রতিষ্ঠানগুলোর শেয়ারদর বেড়ে যায়। খবর বিবিসি।

সংশ্লিষ্ট এক কর্মকর্তার বরাত দিয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কখন থেকে জ্বালানিচালিত এ প্রচলিত গাড়ি নিষিদ্ধ করা হবেÑতা ভেবে দেখছে চীনের শিল্প মন্ত্রণালয়। পেট্রল ও ডিজেলচালিত গাড়ির জায়গায় বিদ্যুৎচালিত গাড়ি উন্নয়ন করা হবে।

চীনের উপ-শিল্পমন্ত্রী বলেছেন, তারা বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করছেন এবং শিগগিরই গাড়ি নিষিদ্ধের একটি সময়সূচিও ঠিক করবেন। গাড়ি নিষিদ্ধের পদক্ষেপ চীনের গাড়িশিল্পে নিশ্চিতভাবেই বড় ধরনের পরিবর্তন ঘটাবে।

এ খবরে গতকালের পর চীনের ইলেকট্রিক গাড়ি নির্মাতা প্রতিষ্ঠান ও লিথিয়াম ব্যাটারি প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর শেয়ারের দাম বেড়ে যায়। চীনে নতুন জ্বালানি গাড়ির (এনইভি) পথিকৃৎ বিওয়াইডির শেয়ারদর বেড়েছে চার দশমিক শূন্য সাত শতাংশ। এছাড়া আনহুই জিয়ানগুয়াই অটোমোবাইল গ্রুপের (যেটি জেএসি মোটরস নামে পরিচিত) শেয়ারদর বেড়েছে তিন দশমিক ৪০ শতাংশ। এছাড়া জাপানে নিশান, হোন্ডা ও টয়োটার শেয়ারদরও বেড়েছে যথাক্রমে দশমিক ৯১ শতাংশ, এক দশমিক ৫৯ শতাংশ ও এক দশমিক ২২ শতাংশ।

এদিকে লিথিয়াম ব্যাটারি নির্মাতা প্রতিষ্ঠান দিসে ব্যাটারি টেকনোলজির শেয়ারদর বেড়েছে তিন দশমিক ৫৭ শতাংশ এবং সানওডা ইলেকট্রনিকের শেয়ারদর বেড়েছে পাঁচ দশমিক ৪৪ শতাংশ।

বায়ুদূষণ ও কার্বন নির্গমন কমাতে ব্রিটেন ও ফ্রান্স এরই মধ্যে ২০৪০ সাল থেকে ডিজেল ও পেট্রলচালিত গাড়ি নিষিদ্ধের ঘোষণা দিয়েছে। চীনও খুব শিগগিরই এ কাতারে শামিল হওয়ার আভাস দিয়েছে।

চীনে গত বছর দুই কোটি ৮০ লাখ গাড়ি তৈরি করেছে, যা বিশ্বের মোট গাড়ির প্রায় এক-তৃতীয়াংশ। চীনে গাড়ি তৈরির সুইডিস কোম্পানি ভলভো জুলাইয়ে বলেছে, তাদের সব নতুন মডেলের গাড়িতেই ২০১৯ সাল থেকে বৈদ্যুতিক মোটর থাকবে। ২০২৫ সালের মধ্যে ভলভো ১০ লাখ বৈদ্যুতিক গাড়ি বিক্রির পরিকল্পনা করেছে।

এছাড়া রেনাল্ট, নিশান, ফোর্ড ও জেনারেল মোটরসসহ বিশ্বের অন্যান্য গাড়ি কোম্পানিগুলোও চীনে বৈদ্যুতিক গাড়ি তৈরির কাজ করছে।

জেএসি মোটরস জানিয়েছে, এক লাখ ইলেকট্রিক গাড়ি তৈরি করতে ভক্সওয়াগনের সঙ্গে ৭৩৪ মিলিয়ন ডলারের যৌথ বিনিয়োগে যেতে সরকারি অনুমোদন পেয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।

স্ট্যানফোর্ড ইউনিভার্সিটির অর্থনীতিবিদ টনি সেবা সম্প্রতি এক গবেষণায় জানিয়েছেন, ২০৩০ সালের মধ্যে পেট্রল ও ডিজেলচালিত গাড়ি বিলুপ্ত হয়ে যাবে। এর পরিবর্তে চালু করা হবে বিদ্যুৎচালিত গাড়ি।

স্ট্যানফোর্ড ইউনিভার্সিটির অধীনে ‘২০২০-৩০ সালের মধ্যে পরিবহন নিয়ে পুনর্ভাবনা’ শীর্ষক এক গবেষণা করেন তিনি। ওই গবেষণার ফলে উঠে এসেছে, ২০৩০ সালের মধ্যে আন্তর্জাতিকভাবে জ্বালানি তেলের ব্যবসা বন্ধ হয়ে যাবে। আট বছরের মধ্যে বিলুপ্ত হয়ে যাবে ডিজেলচালিত ইঞ্জিন। এতে করে নতুন পরিবহন ব্যবস্থা কেমন হতে পারে, সে বিষয়ে দিকনির্দেশনা দিয়েছেন টনি।

ওই গবেষণায় তিনি দেখিয়েছেন, তেলের ব্যবসা শেষ হয়ে  গেলেও বিদ্যুৎচালিত গাড়িতে অনেক সুবিধা থাকবে। প্রাইভেট কার, বাস, ট্রাক, ভ্যান, ট্রাক্টরসহ অন্যান্য বিদ্যুৎচালিত গাড়ি চালু হবে। বিদ্যুৎচালিত গাড়িতে ভোগান্তিও অনেক কমে যাবে। এখনকার মতো ডিজেল নেওয়ার জন্য পাম্পে লাইন দিতে হবে না।

বিদ্যুৎচালিত গাড়ি ১৬ লাখ ৯ হাজার ৩৪৪ কিলোমিটার চলতে সক্ষম হবে, যেখানে বর্তমানের পেট্রলচালিত গাড়িগুলো চলে মাত্র তিন লাখ ২১ হাজার কিলোমিটার।

তাছাড়া এখন আমাদের বাতাসের গুণগত মানের কথাও ভাবতে হয়। ডিজেলচালিত ইঞ্জিনে বায়ুদূষণ হলেও বিদ্যুৎচালিত গাড়ির কারণে পরিবেশের কোনো ক্ষতি হবে না। সে কারণে আজকের দিনে ডিজেলচালিত যন্ত্রের পরিবর্তে পরিবেশের সঙ্গে খাপ খাওয়ার মতো ইঞ্জিনের কথা ভাবতে হবে।