পেট্রোচায়না

২০০৯ সাল থেকে পেশাভিত্তিক সেবায় বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম প্রতিষ্ঠান প্রাইস ওয়াটারহাউজকুপারস (পিডব্লিউসি) বিশ্বের প্রতিযোগিতাপূর্ণ কোম্পানিগুলোর মধ্যে বাজার মূলধন হিসেবে সেরা ১০০টির তালিকা তৈরি করে আসছে। জরিপে স্পষ্টভাবে কিছু নির্দিষ্ট কোম্পানি, রাষ্ট্র ও বিভিন্ন খাতের প্রবণতা এবং উন্নয়ন চিহ্নিত করেছে লন্ডনভিত্তিক প্রতিষ্ঠানটি। তার ভিত্তিতে শেয়ার বিজ পাঠকদের জন্য তুলে ধরা হলো ধারাবাহিক আয়োজন। আজ ২০তম পর্বে থাকছে চীনভিত্তিক বহুজাতিক তেল-গ্যাস ব্যবস্থাপনা ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান চায়না ন্যাশনাল পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (সিএনপিসি)

মিজানুর রহমান শেলী: চীনের রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন তেল-গ্যাস ব্যবস্থাপনা ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান চায়না ন্যাশনাল পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (সিএনপিসি)। এ প্রতিষ্ঠানের তালিকাভুক্ত অন্যতম শাখা প্রতিষ্ঠান হলো পেট্রোচায়না কোম্পানি লিমিটেড। কোম্পানিটির হেডকোয়ার্টার বেইজিং’র ডংচেং এলাকায়। এটাই চীনের সবচেয়ে বড় তেল উৎপাদনকারী কোম্পানি। কোম্পানিটির প্রধান ব্যবসায় কাঠামো হংকং ও নিউইয়র্কে বিস্তৃত।

জয়েন্ট স্টক কোম্পানি হিসেবে চীনের কোম্পানি আইনে সীমিত দায়ে কোম্পানিটি প্রতিষ্ঠিত হয় ১৯৯৯ সালের ৫ নভেম্বর। সিএনপিসির কার্যক্রমকে ঢেলে সাজানোর জন্য তারা এ প্রতিষ্ঠানে সিএনপিসির সিংহভাগ অনুসন্ধান, পরিশোধন, বাজারজাত, প্রাকৃতিক ও রাসায়নিক গ্যাস ব্যবসা সংক্রান্ত সম্পদ ও দায় অর্পণ করে। এরপর এ কোম্পানিটি বৃহৎ উন্নয়নের দিকে ধাবিত হয়।

সম্প্রতি প্রকাশিত মার্কিন প্রতিষ্ঠান ফোর্বস ম্যাগাজিনের গবেষণা প্রতিবেদনে বিশ্বব্যাপী পাবলিক কোম্পানির মধ্যে পেট্রোচায়নাকে অষ্টম স্থানে রেখেছে ।

২০০৮ সালের ২৪ অক্টোবরে কোম্পানিটি মাঝারি মেয়াদে করপোরেট বন্ড ছাড়ে ১১.৭ বিলিয়ন ডলার। যা ছিল চীনের ইতিহাসে তালিকাভুক্ত কোম্পানির মধ্যে সবচেয়ে বড় কোনো অভ্যন্তরীণ বন্ড। ২০১৬ সালে চীন নেপাল অয়েল করপোরেশনের সঙ্গে একটি চুক্তি করে। চুক্তি মোতাবেক তারা নেপালে প্রয়োজনের ৩০ শতাংশ তেল বিক্রি করতে পারবে। এজন্য অচিরেই চীন নেপালের পঞ্চখাল পর্যন্ত একটি পাইপলাইন তৈরি করবে এবং সেখানে তেলের মজুদ করার ব্যবস্থা থাকবে।

২০০৭ সালের ৭ নভেম্বর হ্যাংসেং ইনডেক্স সার্ভিসেস কোম্পানির ঘোষণানুসারে পেট্রোচায়না হ্যাংসেং ইনডেক্স কনস্টিটিউয়েন্ট স্টকে পরিণত হয়। তাছাড়া এই কোম্পানিটি আফ্রিকার দক্ষিণ সুদানের দারফুরে যুদ্ধকালীন সময়ে সুদানিজ সরকারের সঙ্গে ব্যবসায়ে নিযুক্ত থাকায় আন্তর্জাতিক গোষ্ঠীর নজরদারিতে পড়ে।

২০০৯ সালের ১৯ আগস্ট অস্ট্রেলিয়ান মোবাইল কোম্পানি এক্সন মোবাইলের সঙ্গে পাঁচশ মিলিয়ন অস্ট্রেলিয়ান ডলারের একটি চুক্তি করে পেট্রোচায়না। চুক্তি অনুযায়ী তারা অস্ট্রেলিয়ার ‘গর্গন ক্ষেত্র’ থেকে তরলায়িত প্রাকৃতিক গ্যাস ক্রয় করে। এটাই এখন পর্যন্ত  চীন-অস্ট্রেলিয়ার মধ্যকার সবচেয়ে বড় অংকের চুক্তি। ২০০৯ সালে পেট্রোচায়নার পরিশোধন খাত পুরোপুরো প্রায়োগিক ক্ষমতা অর্জন করে। এমনকি চীনের পরিশোধন খাতে এটাই ছিল সর্বোচ্চ সক্ষমতা। তারা ১০ মিলিয়ন টন তেল ও এক মিলিয়ন টন ইথাইল পরিশোধন করে। ফলে কাজাখস্তানে চীনের তেল রফতানির লক্ষ্যমাত্রা অর্জন সহজ হয়ে যায়।

পিডব্লিউসি মার্কেট ক্যাপিটাইলাজেশনের হিসাবে বিশ্বের ১০০ কোম্পানির একটি তালিকা তৈরি করে। এ তালিকায় ২০০৯ সালে তাদের অবস্থান ছিল দ্বিতীয়। তখন তাদের মার্কেট ক্যাপের পরিমাণ ছিল ২৮৭ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। ২০১৬ সালে তাদের মার্কেট ক্যাপ ২০৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে নেমে আসায় র‌্যাংকিং এ ২০তম স্থানে ঠাঁই হয়। অর্থাৎ তারা ১৮ ধাপ নিচে নেমে আসে প্রতিষ্ঠানটি। এই তালিকায় অবশ্য কেবলমাত্র তেল ও গ্যাস খাতে পেট্রোচায়না এখন দ্বিতীয় অবস্থানে ঠাঁই পেয়েছ।

বর্তমানে এ চীনের এ কোম্পানিটিতে ৫ লাখ ৩৪ হাজার ৬৫২ জন কর্মী কাজ করছেন।