প্রচ্ছদ প্রথম পাতা

পোশাক খাতে আরও প্রণোদনা চায় বিজিএমইএ

নিজস্ব প্রতিবেদক: দেশের তৈরি পোশাক খাতকে ‘দুর্বল শিশু’ আখ্যা দিয়ে পোশাক রফতানির সব ক্ষেত্রে অন্তত তিন শতাংশ প্রণোদনা দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন বিজিএমইএ সভাপতি রুবানা হক। তবে সব দাবি পূরণ না হলেও বাজেটকে ব্যবসাবান্ধব ও জনকল্যাণমূলক বলেও মন্তব্য করেছেন তিনি।
গতকাল রাজধানীর একটি হোটেলে প্রস্তাবিত ২০১৯-২০ অর্থবছরের বাজেট-পরবর্তী প্রতিক্রিয়া জানাতে বিজিএমইএ আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন। পোশাক রফতানিতে এক শতাংশ বাড়তি প্রণোদনা দেওয়ায় নতুন প্রস্তাবিত বাজেটে বিজিএমইএ ৭০ শতাংশ খুশি বলেও জানিয়েছেন।
রুবানা হক বলেন, ‘প্রতিনিয়ত যদি আমাদের শুনতে হয়, আমরা ম্যাচিউরড, এস্টাবলিশড, আমাদের আর সাহায্য দরকার নেই, তা ঠিক নয়। পোশাক খাতে প্রতিনিয়ত চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হচ্ছে। আমাদের প্রডাক্ট ডাইভেস্টিগেশন হচ্ছে না। টেকনোলজিক্যাল আপডেট দরকার, টেকনোলজিতে আমরা ওভাবে আগাতে পাচ্ছি না।’
রুবানা হক আরও বলেন, ‘আমরা অনেক ইনোভেটিভ চ্যালেঞ্জ ছুড়তে চাই। কিন্তু আমাদের এই সেক্টরে এখনও পর্যন্ত একটি পিআরপি নেই। সব বাইরে থেকে কিনতে হয়। ওয়াশিং মেশিন থেকে শুরু করে অনেক সেবিক জিনিসও বেশি দাম দিয়ে দেশের বাইরে থেকে আমদানি করতে হয়। আমাদের ভ্যালু অ্যাডিশন ও ছোট ছোট কারখানাগুলো টিকে রাখা এক বড় চ্যালেঞ্জ। পোশাকে কিন্তু ডাবল ডিজিট প্রবৃদ্ধি নেই। গড়ে পাঁচ শতাংশের মতো প্রবৃদ্ধি রয়েছে। গত এক মাসে আমরা ৩০টি ফ্যাক্টরি বন্ধ করতে বাধ্য হয়েছি। ঈদের আগে অনেকে মেশিন বিক্রি করেও বেতন দিয়েছে।’
পোশাক খাতকে বাঁচিয়ে রাখতে প্রণোদনা বাড়ানো দরকার উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘গত কয়েক বছরে আমরা সর্বোচ্চ ৮০০ কোটি টাকার প্রণোদনা উঠিয়েছি। নানা রকম আমলাতান্ত্রিক ঝামেলার কারণে অনেকেই ইনসেন্টিভ পান না, নেনও না। নতুন বাজারের ক্ষেত্রে প্রণোদনা বাড়ানো উচিত। পোশাক খাতকে পরাজিত বনের বিড়াল বানাবেন না।’
তিনি আরও বলেন, ‘কৃষকের সঙ্গে মালিকের তুলনা করা চলে না। আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে গেলে আমাদের মনে হয় শিশু। দুর্বল শিশুর অবস্থানে চলে এসেছি। সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় প্রণোদনা অন্তত তিন শতাংশে উন্নীত করার দাবি করছি।’ এ সময় পোশাক কারখানায় গ্যাস-বিদ্যুতে ভ্যাট অব্যাহতির বিষয়টিকেও স্বাগত জানান রুবানা।
সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের উত্তরে বিজিএমইএ সভাপতি রুবানা বলেন, ‘এবারের বাজেটে আমরা ৭০ ভাগ খুশি। কিন্তু আমরা অন্তত তিন শতাংশ প্রণোদনা পেতে চাই। বাজেটের প্রাথমিক প্রতিক্রিয়ায় এটি জনকল্যাণমুখী বাজেট বলেছিলাম। আমি এখনও আগের অবস্থানেই আছি। এটি ব্যবসাবান্ধব ও জনকল্যাণমূলক বাজেট।’
সংবাদ সম্মেলনে বিজিএমইএর সিনিয়র সহ-সভাপতি ফয়সাল সামাদ, সহসভাপতি এমএম মান্নান কচিসহ সংগঠনের ঊর্ধ্বতন নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

ট্যাগ »

সর্বশেষ..