পোশাক শ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি আট হাজার টাকা

নিজস্ব প্রতিবেদক : বর্তমান বেতন থেকে ৫১ শতাংশ বাড়িয়ে পোশাক শ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি আট হাজার টাকা নির্ধারণ করেছে সরকার। আগামী ডিসেম্বর থেকেই তা কার্যকর হবে বলে জানিয়েছেন বিজিএমইএ সভাপতি সিদ্দিকুর রহমান। অন্যদিকে শ্রম প্রতিমন্ত্রী মুজিবুল হক চুন্নু জানিয়েছেন, গেজেট প্রকাশের পরই নতুন বেতন কার্যকর হবে।
গতকাল শ্রম মন্ত্রণালয়ে মজুুরি বোর্ডের সঙ্গে বৈঠক শেষে তারা এসব কথা জানান। মজুরি বোর্ডের বৈঠকে চার সদস্যবিশিষ্ট স্থায়ী নি¤œতম মজুরি বোর্ডের চেয়ারম্যান সিনিয়র জেলা জজ সৈয়দ আমিনুল ইসলাম, মালিকপক্ষের প্রতিনিধি কাজী সাইফুদ্দীন আহমদ, শ্রমিকপক্ষের প্রতিনিধি ফজলুল হক মন্টু ও নিরপেক্ষ প্রতিনিধি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. কামাল উদ্দিন উপস্থিত ছিলেন। অন্যদের মধ্যে মালিকপক্ষের অস্থায়ী প্রতিনিধি বিজিএমইএ সভাপতি মো. সিদ্দিকুর রহমান ও শ্রমিকপক্ষের প্রতিনিধি জাতীয় শ্রমিক লীগের নারীবিষয়ক সম্পাদিকা বেগম শামসুন্নাহার ভূঁইয়া উপস্থিত ছিলেন।
শ্রম আইন অনুযায়ী, প্রতি পাঁচ বছর পরপর মজুরি কাঠামো পর্যালোচনা করতে হয়। সর্বশেষ ২০১৩ সালের ডিসেম্বরে মজুরি কাঠামো পুনর্মূল্যায়ন করে নতুন মজুরি কাঠামো ঘোষণা দেওয়া হয়েছিল। সে হিসেবে আগামী ডিসেম্বরে নতুন করে পুনর্মূল্যায়ন করা মজুরি কাঠামো বাস্তবায়ন করার আইনি বাধ্যবাধকতা রয়েছে। এ বিষয়ে মজুরি বোর্ডের চেয়ারম্যান আমিনুল ইসলাম বলেন, এর আগে চারটি বৈঠকে একমত হতে না পারায় উভয়পক্ষ প্রধানমন্ত্রীর কাছে যান। প্রধানমন্ত্রী উভয়পক্ষের কথা শুনে পোশাক শ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি আট হাজার টাকা নির্ধারণ করে দেন। এর আগের বৈঠকে মালিকপক্ষ ন্যূনতম মজুরি পাঁচ হাজার ৪০০ টাকা, আর শ্রমিকপক্ষ ১২ হাজার টাকা করার দাবি করে। তবে শ্রমিকদের আরেক অংশ ন্যূনতম মজুরি ১৬ হাজার টাকা করার দাবি করে।
বৈঠকে শ্রম প্রতিমন্ত্রী বলেন, বৈদেশিক মুদ্রার ৮৪ শতাংশ অর্থ আয় করে তৈরি পোশাক খাত। মালিক ও শ্রমিকপক্ষের কথা শুনে প্রধানমন্ত্রী সুষ্ঠু সমাধান দিয়েছেন। প্রতিমন্ত্রী বলেন, শ্রমিকবান্ধব প্রধানমন্ত্রী সবদিক বিবেচনা করেই এই সিদ্ধান্ত দিয়েছেন।
এর আগে, রাজধানীর তোপখানা রোডে নি¤œতম মজুরি বোর্ডের চেয়ারম্যানের কার্যালয়ে সরকার গঠিত মজুরি বোর্ডের পঞ্চম সভা অনুষ্ঠিত হয়। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে সেখানে দুই পক্ষই সর্বনি¤œ মজুরি আট হাজার টাকা করার পক্ষে সম্মত হয়। বৈঠক শেষে মজুরি বোর্ডের চেয়ারম্যান সৈয়দ আমিনুল ইসলাম সচিবালয়ে গিয়ে বোর্ডের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জমা দেন। পরে শ্রম প্রতিমন্ত্রী সরকারের নতুন সিদ্ধান্তের ঘোষণা দেন। এর আগে গত ১৬ জুলাই তৃতীয় বৈঠকে মালিক ও শ্রমিকপক্ষ তাদের প্রস্তাবনা জমা দেয়। ওই বৈঠকে শ্রমিকপক্ষ সর্বনি¤œ মজুরি ১২ হাজার ২০ টাকা করার দাবি জানায়। বিদ্যমান মজুরি ১২৬ দশমিক ৭৯ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানোর প্রস্তাব দেয় তারা। বিপরীতে মালিকপক্ষ ছয় হাজার ৩৬০ টাকা ন্যূনতম মজুরি করার প্রস্তাব দেয়। পরে বোর্ডের চতুর্থ বৈঠকে বোর্ড চেয়ারম্যান দুই পক্ষকেই কিছুটা ছাড় দিয়ে ভারসাম্যে আসার আহ্বান জানান।
সর্বশেষ ২০১৩ সালে দেশে পোশাকশিল্পের মজুরি কাঠামো পর্যালোচনা করা হয়। সে বছর ন্যূনতম মজুরি হার পাঁচ হাজার ৩০০ টাকা নির্ধারণ করে ওই বছরের ডিসেম্বর থেকে তা কার্যকর করা হয়। শ্রম আইন অনুযায়ী, পাঁচ বছর পরপর মজুরি কাঠামো পর্যালোচনা করতে হবে। তবে কয়েক বছর ধরেই শ্রমিক সংগঠনগুলো ১৬ হাজার টাকা বেতনের দাবি জানিয়ে আসছিল। আর নতুন মজুরি কাঠামো কার্যকর করতে এ বছরের ১৪ জানুয়ারি নতুন মজুরি নির্ধারণে বোর্ড গঠন করে সরকার।