প্রচারে সফল রহিম আফরোজ

বাণিজ্যমেলায় নানা ধরনের পণ্য ও সেবা নিয়ে প্রদর্শনী, বিক্রি ও প্রচারে ব্যস্ত কয়েকশ প্রতিষ্ঠান। ছোট-বড়, দেশি-বিদেশি প্রতিষ্ঠান তাদের পণ্যের পসরা সাজিয়েছে। এর মধ্যে বিশ্বমানের ব্যাটারি উৎপাদন ও সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান রহিম আফরোজের অবস্থান একটু ব্যতিক্রম। অনেক বৃহৎ প্রতিষ্ঠান মেলা প্রাঙ্গণে স্টল ও প্যাভিলিয়ন নিলেও রহিমআফরোজ বেছে নিয়েছে বাণিজ্যমেলার মূল ফটকের বাইরের প্রাঙ্গণকে। সেখানেই পণ্যের প্রচার করছে কোম্পানিটি।

এ বিষয়ে কথা হয় কোম্পানির বিপণন বিভাগের জ্যেষ্ঠ নির্বাহী মো. আবদুল-আল-মামুনের সঙ্গে। তিনি বলেন, রহিমআফরোজের মূল পণ্য ব্যাটারি। বাণিজ্যমেলায় যেসব ক্রেতা-দর্শনার্থী আসেন, তাদের গাড়ি পার্কিং হয় মূল ফটকের বাইরে। তাই পার্কিং এলাকাকে বেছে নিয়েছি। আমাদের প্রচারণার মূল লক্ষ্য হচ্ছেন মেলায় আসা গাড়ির চালকরা। প্রতি বছরই বাণিজ্যমেলায় এভাবে অংশ নিই। পুলিশ কর্তৃপক্ষের অনুমতি নিয়ে মেলার বাইরে গাড়ি পার্কিং এলাকায় আমরা কাজ করি।

সেখানে ঘুরে দেখা গেছে, মেলায় আগতদের গাড়ি পার্কিংয়ের জন্য বড় চত্বর রয়েছে। ওই চত্বরের এক পাশে নির্মাণ করা হয়েছে রহিমআফরোজের ক্ষুদ্র একটি স্টল। এখান থেকে পরিচালনা করা হচ্ছে ক্যাম্পেইন কার্যক্রম। এ স্টলে কর্মরত প্রায় ২০ কর্মী। এর মধ্যে কয়েকজন অস্থায়ী কর্মী রয়েছেন, যারা গ্রাহকের কাছে তুলে ধরছেন রহিমআফরোজের ব্যাটারির বিভিন্ন দিক। প্রায় ১৬ দক্ষ কর্মী রয়েছেন, যারা বিভিন্ন গাড়িতে গিয়ে ব্যাটারি পরীক্ষা করে ফ্রি সেবা দিচ্ছেন। প্রতিষ্ঠানটির কর্মীরা জানান, এখানে কোনো ব্যাটারি বিক্রি হচ্ছে না বা এ-সংক্রান্ত সেবা দেওয়া হচ্ছে না। শুধু প্রতিষ্ঠানের প্রচার ও ব্যাটারি ব্যবহারের ক্ষেত্রে গাড়িচালকদের সচেতন করার জন্য পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। সে সঙ্গে মেলায় আসা গাড়িগুলোর মধ্যে একটি জরিপও চালাচ্ছে রহিমআফরোজ। বাজারে বিদ্যমান গাড়িগুলোর মধ্যে কী পরিমাণ গাড়িতে রহিমআফরোজের ব্যাটারি ব্যবহার করছে, তা জানার চেষ্টা করছে তারা। এ প্রসঙ্গে এক কর্মী জানান, বাজারে রহিমআফরোজ এখন বলতে গেলে অপ্রতিদ্বন্দ্বী। আমরা দেখছি, প্রায় ৬০ শতাংশ গাড়িতে আমাদের কোম্পানির ব্যাটারি রয়েছে। আরও বিস্তারিত জানার চেষ্টা করছি।

সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, ৬৫ বছরের পুরোনো কোম্পানি রহিমআফরোজ। মূলত ব্যাটারি তৈরির জন্যই এর পরিচিতি। লেড এসিড ব্যাটারি, ড্রাইসেল থেকে শুরু করে নানা ধরনের ব্যাটারি উৎপাদন, সরবরাহ ও রফতানি করে কোম্পানিটি। রহিমআফরোজ ব্যাটারি লিমিটেডের (আরবিএল) পণ্য রিসাইকেলযোগ্য বিধায় এটি পরিবেশের জন্য কম ক্ষতিকর। তাছাড়া এর মাধ্যমে কার্বন নিঃসরণ কম হয় বলে কর্মীরা জানিয়েছেন।

রহিমআফরোজ গ্লোব্যাট লিমিটেড নামে এর আরেকটি সহযোগী প্রতিষ্ঠান রয়েছে, যারা ব্যাটারি রফতানি করছে। গ্লোব্যাট থেকে বছরে ২৫ লাখ ব্যাটারি উৎপাদন হয়, যা দক্ষিণ এশিয়ার বৃহত্তম ব্যাটারি রফতানিকারক প্লান্ট। টেকসই প্রযুক্তি ও পরিবেশবান্ধব বৈশিষ্ট্যের কারণে এটি বিশেষ জনপ্রিয়।

পাঁচ অ্যাম্পিয়ার থেকে ২২০ অ্যাম্পিয়ার পর্যন্ত বিদ্যুৎ সংরক্ষণ করতে পারে রহিমআফরোজের ব্যাটারি। শিল্প-কারখানা, সোলার সিস্টেমস, ইনভার্টার, টেলিকম, বৈদ্যুতিক যানবাহন সর্বত্রই ব্যবহƒত হয় তাদের পণ্য। বাংলাদেশি এ পণ্যটি এখন রফতানি হচ্ছে জাপান, সিঙ্গাপুর, অস্ট্রেলিয়া, চিলি, রাশিয়া, সৌদি আরব, ভারতসহ ৬৬টি দেশে। ৪০ ডিগ্রি ঋণাত্মক তাপমাত্রা থেকে শুরু করে ৫০ ডিগ্রি উত্তপ্ত আবহাওয়ায়ও সক্রিয় থাকে রহিমআফরোজের ব্যাটারি। জার্মান প্রযুক্তি ব্যবহার করে আরও আধুনিক প্রক্রিয়ায় ব্যাটারি উৎপাদনের জন্য সাভার ও ঈশ্বরদীতে নতুন কারখানা করতে যাচ্ছে কোম্পানিটি। আর এসব খবর জানাতেই বাণিজ্যমেলাকে বেছে নিয়েছেন সাড়া জাগানো এ দেশি ব্র্যান্ডের উদ্যোক্তারা।

 

জাকারিয়া পলাশ